ইসলাম টাইমস ডেস্ক : তিন দিনের শিশুকে ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে তার মা-ও লাফিয়ে পড়েন। এ ঘটনায় মা ও শিশু দুজনেরই মৃত্যু হয়েছে।
আজ শুক্রবার সকাল নয়টায় বি.বাড়িয়া জেলা শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভবনে এ ঘটনা ঘটে। ওই মা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভবনের পাশের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।
পরিবার ও পুলিশ বলছে, প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে কলহের জের ধরে নবজাতক ছেলেসন্তানকে পাঁচতলার ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেন মা।
আত্মঘাতী মায়ের নাম সীমা আখতার (২৫)। আখাউড়া উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামের বিল্লাল মিয়ার মেয়ে তিনি। স্বামী লেবাননপ্রবাসী মনির হোসেন। এক বছর আগে তাদের বিয়ে হয়।
পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত কাল রাতে প্রবাসী স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া হয় সীমার। তার পর আজ সকালে সবার অলক্ষে তিনি সন্তানকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে পাশের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভবনের ছাদে গিয়ে নিচে লাফিয়ে পড়েন।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা শহরের পুরনো জেল রোড এলাকায় লাইফ কেয়ার অ্যান্ড শিশু জেনারেল হাসপাতালে প্রসবজনিত ব্যথা নিয়ে ভর্তি হন সীমা। ওই দিন রাতেই সিজারের মাধ্যমে তার একটি ছেলেশিশুর জন্ম হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, সীমা শিশুটিকে পাঁচতলা থেকে ফেলে দেওয়ার পর নিচে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন হতবাক হয়ে পড়েন। সীমার লাফিয়ে পড়ার প্রস্তুতি দেখে তারা নিচ থেকে চিৎকার করে লাফ দিতে নিষেধ করেন। কিন্তু কয়েক মুহূর্ত পর লাফিয়ে পড়েন সীমা।
পুলিশ বলছে, পারিবারিক কলহের জের ধরে সীমা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
সন্তান জন্মের পর শ্বশুরবাড়ির কেউ দেখতে না আসার স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া হয়। তার স্বামীর বাড়ি সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের ঘাটিয়ারা এলাকায়। তিনি স্বামীর বাড়িতেই থাকতেন।
হাসপাতালে সীমার ৩০৩ নম্বর কক্ষে থাকা একজন বলেন, রাতে মোবাইলে স্বামীর সঙ্গে সীমাকে ঝগড়া করতে শুনেছেন তিনি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, আজ তাদের ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল। তাদের আর্থিক কোনো সমস্যা ছিল না। বর্তমানে তাদের লাশ মর্গে রাখা হয়েছে।
















