স্বপ্নের বেফাকভবন যেভাবে বাস্তব হচ্ছে

আবরার আবদুল্লাহ ।।

১৯৭৮ সালের এক উলামা সম্মেলনে গঠিত হয় বাংলাদেশ কওমি শিক্ষা বোর্ড বেফাক। যাত্রা শুরুর প্রায় ২৬ বছর পর ২০০৬ সালে নিজস্ব ভবন নির্মাণের জন্য ভূমি ক্রয় করে বোর্ডটি। এরপর পার হয়েছে আরও একযুগ। কিন্তু এখনও পরিকল্পিত নিজস্ব কোনো ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। দেশের অন্যতম বৃহৎ দ্বীনি শিক্ষাবোর্ডের কার্যক্রম চলছে জীর্ণ আধাপাকা ভবনে, কোনো রকমে।

প্রতিষ্ঠার পর ঢাকার এমদাদুল উলুম ফরিদাবাদ মাদরাসায় স্থাপন করা হয় বেফাকের অস্থায়ী কার্যালয়। এরপর তা স্থানান্তরিত হয় ঢাকার নয়া পল্টনে একটি ভাড়া বাড়িতে। এ দুই জায়গায় আড়াই দশক পার করে যাত্রাবাড়ীর কাজলায় নিজস্ব ভূমিতে পা রাখে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ।

বহু সাধ ও চেষ্টার পরেই বেফাকের নিজের হয় মূল্যবান ২৭ শতাংশ জমি। উলামায়ে কেরামের চোখের পানি, চেষ্টা ও ভালোবাসার নজরানার ফসল আজকের এই এক টুকরো জমি। দেশবরেণ্য আলেম ও বেফাকের তৎকালীন সভাপতি আল্লামা নূরুদ্দীন গহরপুরী রহ. নিজে এ জমি বায়না করেন এবং কওমি মাদরাসার লাখো ছাত্র-শিক্ষকের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে পরিশোধ করা হয় তার মূল্য।

এখানেই হবে স্বপ্নের বেফাকভবন

ভূমির পর শুরু হয় ভবনের জন্য অপেক্ষা। অস্থায়ী টিনশেড নয়, স্থায়ী ও পরিকল্পিত বহুতল ভবনের অপেক্ষা। সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় না হওয়ায় অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন বেফাকের নির্বাহী কমিটি। দীর্ঘ নয় বছর অপেক্ষা করার পর তারা সাহস করেন ভবন করার। সিদ্ধান্ত নেন স্বপ্নের বেফাক ভবনের কাজ শুরু করবেন তারা। কিন্তু ইচ্ছে করলেই তো ভবন করা যায় না ঢাকার বুকে। লাগে রাজউকের অনুমোদন। আর তার জন্য দরকার হয় একটি নকশার।

নকশা তৈরি করলেন তারা এবং ২০১৬ সালের শেষভাগে। আবেদন করলেন রাজউক অফিসে। পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণে কেটে গেলো আড়াই বছর। অবশেষে ২০১৮ সালের শেষভাগে হাতে আসলো কাঙ্ক্ষিত অনুমোদন। তাহলে কবে শুরু হচ্ছে বেফাক ভবনের কাজ? এ প্রশ্নটিই করেছিলাম বেফাকের মহাপরিচালক মাওলানা যোবায়ের আহমদ চৌধুরীকে। তিনি জানালেন, এই হেমন্তেই শুরুতেই কাজ শুরু করার ইচ্ছে আমাদের। বাকি আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহের মোহতাজ আমরা।

স্বপ্নের বেফাক ভবন নিয়ে মহাপরিকল্পনার কথা জানান বেফাক মহাপরিচালক। তিনি বলেন, বেফাকের মোট ২৭ শতাংশের উপর দুইবারে দুটি বহুতল ভবন করার পরিকল্পনা আমাদের। একটি ভবনের অনুমোদন আমরা পেয়েছি এবং দ্বিতীয় ভবনের অনুমোদনের জন্য আমরা আবেদন জানিয়েছি। দুটি ভবনই হবে ১০তলা বিশিষ্ট।

বেফাকের ঠিক যে জায়গায় একতলা টিনশেড ভবন রয়েছে সেখানেই নতুন ভবনের কাজ শুরু হবে এই হেমন্তে। আর স্টিলের দ্বিতল ভবনটির যখন মেয়াদ ফুরিয়ে যাবে তখন শুরু হবে দ্বিতীয় বহুতল ভবন।

বহুতল ভবনে কী কী থাকবে তারও লম্বা ফিরিস্তি দিলেন মাওলানা যোবায়ের আহমদ চৌধুরী। বললেন, বেফাক ভবনে থাকবে মসজিদ, টিচার্স ট্রেনিং সেন্টার, পাঠাগার, গবেষণাগার, অডিটরিয়াম, বিশ্রামাগার এবং প্রত্যেক বিভাগের ভিন্ন ভিন্ন অফিস।

পরিকল্পনার বৃহৎ অংশজুড়ে আছে টিচার্স ট্রেনিং সেন্টার। মক্তব, হিফজ, কিতাব ও ইফতা প্রত্যেক বিভাগের শিক্ষকদের ভিন্ন ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে সেখানে।

আপাতত বেফাক ভবনের বাণিজ্যিক ব্যবহারের চিন্তা করছেন না বোর্ড পরিচালকগণ। শুধু সুযোগ বুঝে ভবনের নিচতলায় প্রতিষ্ঠা করা হবে বেফাকের স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রকশনা প্রতিষ্ঠান এবং তার বিক্রয় কেন্দ্র।

এতো বিশাল ভবন নির্মাণের অর্থ আসবে কোথা থেকে? উত্তর, খুব সহজ। যেভাবে দ্বীনপ্রাণ মানুষের ভালোবাসায় জমি হয়েছে সেভাবেই হবে বেফাক ভবন। সরকারি কোনো অনুদান নয়, কওমি মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসার দানেই তিলে তিলে মাথা উঁচু করবে বেফাক ভবন। এমনই প্রত্যাশা বেফাক মহাপরিচালকের।

পূর্ববর্তি সংবাদওবামা ও হিলারির বাড়িতে পাঠানো হলো বোমা!
পরবর্তি সংবাদপ্রতিদিন মোবাইলে লেনদেন হয় ১ হাজার ১১০ কোটি টাকা : অর্থমন্ত্রী