ইসলাম টাইমস ডেস্ক : বেসরকারি উদ্যোগে আশ্রয় পাওয়া ৩৬০ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী অবশেষে পালিয়ে গেল পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা জেলা থেকে। তারা কোথায় গেছে, কেউ বলতে পারেনি। তবে একরকম নিখোঁজই হয়ে গেছে আশ্রয় শিবিরের এই রোহিঙ্গারা।
রোহিঙ্গাদের যিনি আশ্রয় দিয়েছিলেন তার নাম হোসেন গাজী। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বারইপুর থানার হাড়দহ গ্রামের বাসিন্দা তিনি। গত বছর মিয়ানমারজুড়ে রোহিঙ্গাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন শুরু হলে ২৪ পরগনার এই দরিদ্র শ্রমিক নিজ উদ্যোগে গড়ে তোলেন একটি আশ্রয় শিবির। বেসরকারি উদ্যোগে গত ডিসেম্বরে গড়ে তোলা ওই শিবিরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য প্রথমে তৈরি করেন আটটি টিনের ঘর। পরে বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় বাড়ানো হয় এ সংখ্যা।
প্রথমে শিবিরে ঠাঁই দেওয়া হয় ২১ জন রোহিঙ্গাকে। তাঁদের মধ্যে ছিল ছয়জন পুরুষ, ছয়জন নারী ও নয়জন শিশু। পরে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬০ জনে।
শ্রমিক হোসেন গাজী তাঁর নিজের জমিতে গড়েন এ শিবির। পরে শিবিরে আশ্রয় পাওয়া রোহিঙ্গাদের সাহায্যে এগিয়ে আসে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও মুসলিম স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
প্রথম কয়েক মাস ভালোই চলছিল, শরণার্থী শিবিরে আরামেই ছিল রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। গত দু-তিন মাস আগে থেকে হঠাৎই কমতে শুরু করে শিবিরের রোহিঙ্গা পরিবারের সংখ্যা। কোথায় যাচ্ছে এই শরণার্থীরা?
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কিছুদিন আগে পশ্চিমবঙ্গের পার্শ্ববর্তী রাজ্য আসামে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) চালু হলে রাজ্যজুড়ে বিদেশি তাড়ানোর অভিযান শুরু হয়। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে হাড়দহ গ্রামের অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা। ফলে তারা রাতে রাতে শিবির ছাড়তে শুরু করে। গত দুই মাস ধরেই চলছিল এই পালানো। সর্বশেষ পরিবারটি গত বৃহস্পতিবার (২৫ অক্টোবর) শিবির থেকে পালিয়ে যায়।
বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত আশ্রয় শিবিরের প্রতিষ্ঠাতা হোসেন গাজী বলেন, শিবিরের রোহিঙ্গারা এনআরসি নিয়ে আতঙ্কিত ছিল। মাঝেমধ্যে পুলিশ এসে তাদের জেরা করায় তারা ভীত ছিল। এরপর তারা ধীরে ধীরে শিবির ছেড়ে পালাতে থাকে। শিবিরের শেষ পরিবারটি গতকাল পালিয়ে যায়।
তারা কোথায় গেছে, সে ব্যাপারে কিছু জানেন না বলে জানান হোসেন গাজী। তবে হোসেন গাজী মনে করছেন, জম্মু ও কাশ্মিরের জম্মুতে রোহিঙ্গাদের যে শিবির গড়ে উঠেছে, সেখানে হয়তো তারা পালিয়ে গেছে।
এভাবেই আশ্রয়ের আশায় দেশ থেকে দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা। পৃথিবীতে তাদের কোনো নিজস্ব ভূমি নেই। তাদের কোনো মাতৃভূমি নেই। যেখানেই যাবে সেখানেই তারা শরণার্থী, তাদের জন্য অপেক্ষা করছে নিপীড়নের মানবেতর জীবন।
















