নির্বাচন এক ঘণ্টার জন্যও পেছাবে না : এইচটি ইমাম

আজ আওয়ামী লীগের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচটি ইমাম বলেছেন, এ পর্যন্ত তিনবার নির্বাচনের তারিখ পিছিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আমাদের পরিষ্কার দাবি হচ্ছে, নির্বাচন আর পেছানো যাবে না। একঘণ্টার জন্যও নয়, একদিনের জন্যও নয়।

নির্বাচন তিন সপ্তাহ পেছানোর জন্য নির্বাচন কমিশনে এসে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট দাবি জানিয়ে যাওয়ার পরপরই আজ বুধবার (১৪ নভেম্বর) রাতে এসে আওয়ামী লীগ এমন দাবি জানিয়েছে।

এইচটি ইমাম বলেন, ‘যারা নির্বাচন পেছানোর দাবি করছেন, তাদের এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি-না? কেননা, তাদের আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, নির্বাচন বানচাল করার অপচেষ্টা করছেন কি-না।’

নির্বাচন না পেছানোর যুক্তি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর এ রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, আমরা এখানে সরকারের পক্ষ থেকে আসিনি। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এসেছি। জানুয়ারিতে নতুন করে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হবে। তখন কয়েক লাখ নতুন ভোটার হবে। কিন্তু সর্বশেষ ভোটার তালিকা অনুযায়ী তারা ভোট দিতে পারবেন না। আর নতুন ভোটাররা মামলা করে দিলে নির্বাচন ভণ্ডুল হতে পারে। এই দায়িত্ব কে নেবে? এরপর নতুন বছরে ছাত্রদের নতুন বই দেওয়ার দায়িত্ব রয়েছে। সেটিও বিলম্বিত হতে পারে। এছাড়া জানুয়ারিতে বিশ্ব ইজতেমা রয়েছে। একটি বিশাল আয়োজন। এখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা, থাকার ব্যবস্থা করার বিষয় আছে। এ সময় নির্বাচন করা সম্ভব নয়।

স্বল্প সময়ে নির্বাচনে তফসিল ঘোষণায় বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আসতে অসুবিধা হবে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্য তুলে ধরে এইচটি ইমাম বলেন, আমার হাসি পাচ্ছে-কোনো দেশ কি বিদেশিদের জন্য নির্বাচন পেছায়? আমরা একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। নির্বাচনের সিদ্ধান্ত আমাদের নিজেদের। সেখানে কে পর্যবেক্ষণ করতে আসলো আর কে আসলো না তা বিষয় নয়।

তিনি বলেন, বিদেশিরা নিশ্চই পর্যবেক্ষণে আসবেন। তারা ২০০৮ সালে ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তখন প্রচুর সংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষক এসেছিলেন। তখন কোনো কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গণভবনে প্রার্থীরা দলীয় প্রধানের দোয়া নিতে গিয়েছিলেন। সেখানে কোনো নির্বাচনী প্রচারণা হয়নি।

এইচ টি ইমামের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পূর্ববর্তি সংবাদখাবারের বিষক্রিয়ায় বালিয়া মাদরাসায় একজনের মৃত্যু, অসুস্থ শতাধিক
পরবর্তি সংবাদআসন বণ্টন চূড়ান্ত হয়নি, আটকে আছে জোটের ইসলামি দলগুলোর নির্বাচনী প্রস্তুতি