আসন্ন একাদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থী হচ্ছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তাঁর গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রাম-৪ আসন থেকে তিনি নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে। রৌমারী, রাজীবপুর ও চিলমারী—এই তিন উপজেলা মিলে কুড়িগ্রাম-৪ আসন।
নির্বাচন প্রসঙ্গে ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের পর আমার গ্রামের অনেকে চেয়েছেন আমি যেন জাতীয় নির্বাচনে এলাকার সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য নির্বাচন করি। এ বিষয়ে তরুণ থেকে বয়স্ক- সবাই উৎসাহ দিয়েছেন। মূলত তাঁদের আগ্রহের কারণে কুড়িগ্রাম-৪ আসন থেকে নির্বাচন করার কথা ভাবছি। আমি কাজ করলে তাঁদের জন্যই করব বলেই তাঁদের এত উৎসাহ।’
ইমরান বলেন, ‘আমি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা নির্বাচন করার বিষয়ে আমাকে সম্মতি দিয়েছেন। আমি যেহেতু কোনো দলের নই, তাই কোনো দল থেকে নির্বাচন করার প্রশ্নই আসে না। আমি নির্বাচন করলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করব। স্রোতের বিপরীতে হাঁটাই আমার কাজ। নির্বাচনেও সেভাবে আমাকে পাবে সাধারণ মানুষ। তাদের কল্যাণের জন্যই আমি নির্বাচন করব। আর এলাকায় আমার যে জনপ্রিয়তা আছে, তাতে আমি আমার বিষয়ে আশাবাদী।’
ইমরান আরও বলেন, দু–এক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে আমি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার রায়কে কেন্দ্র করে ব্লগারস অ্যান্ড অনলাইন অ্যাকটিভিস্ট নেটওয়ার্কের আহ্বানে আর সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে শাহবাগে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। এর মুখপাত্র হন ইমরান এইচ সরকার।
পরবর্তীতে গণজাগরণ মঞ্চ নাস্তিক ব্লগার ও অনলাইন অ্যাকটিভিস্টদের মদদ দেয়াসহ নানা অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়লে ইমরান সরকার অন্য আন্দোলনকারীরা দেশবাসীর তোপের মুখে পড়ে। ইসলাম ধর্মকে আঘাত করা, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল ও বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার হয়ে কাজ করার অভিযোগ তোলা হয় তার প্রতি। এই আন্দোলনের প্রতিবিপ্লব হিসেবে বাংলাদেশে নতুন করে উত্থান ঘটে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের। হেফাজতের বিপ্লবের পর স্তিমিত হয়ে পড়ে শাহবাগ আন্দোলন। ইমরান এইচ সরকারও প্রশ্নবিদ্ধ ব্যক্তিতে পরিণত হন।
















