আমরা বিচারকের বিরুদ্ধে মামলা করবো : কাদের সিদ্দিকী

ইসলাম টাইমস ডেস্ক :  কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশে এত বড় কারাগার নেই যেখানে খালেদা জিয়াকে আটকে রাখা যায়। যে টাকা তছরূপ হয়নি সেই ২ কোটি টাকার জন্য বিচারক খালেদা জিয়াকে শাস্তি দিয়েছেন। আমরা ওই বিচারকের বিরুদ্ধে মামলা করবো।

ভোট ডাকাতি দিবস পালন উপলক্ষে শনিবার বিকেলে টাঈাইলের সখীপুরে তার বাসভবনে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

কাদের সিদ্দিকী বলেন, জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকে মেনেই মুক্তিযুদ্ধ করেছে। তাহলে বঙ্গবন্ধু আর জিয়াউর রহমানের এত বেদাবেধ কেন? বঙ্গবন্ধু আর জিয়াউর রহমানের বেদাবেধ না থাকলে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না। প্রধানমন্ত্রী হতাম আমি। প্রধানমন্ত্রী হতেন ড. কামাল হোসেন, প্রধানমন্ত্রী হতেন তোফায়েল আহমেদ।

এ সময় তিনি আরও বলেন, শুধু হেফাজতের রক্তের জন্যে বাংলাদেশ থেকে নৌকা মুছে যাবে। আমি নির্বাচনই করতে চাই না, সারাদেশ ঘুরে শেখ হাসিনাকে দেখাতে চাই ওনি তলাফাটা নৌকা নিয়ে কতদূর যেতে পারেন। তিনি একাই বঙ্গবন্ধুর কন্যা নন আমিও বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক পুত্র। আমার গায়ে বঙ্গবন্ধুর রক্ত না থাকলেও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ রয়েছে।

বিএনপির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আজকের ‘ধানের শীষ’ প্রতীক আপনাদের না! ধানের শীষ এখন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের। আমরা যখন চলে যাবো সেদিন আপনাদের প্রতীক হবে। আগামী নির্বাচন অবরুদ্ধ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবার নির্বাচন।

তিনি আরও বলেন, অনেক কথা শুনেছি। শেষ পর্যন্ত রাজাকারের খেতাব পেয়েছি। তাই গত ছয় বছরে আমি শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ ও গণভবনে যাইনি। ৭৫-র প্রতিরোধ যোদ্ধাদের মিলনমেলার বিষয়ে কথা বলতে গণভবনে যাওয়ার জন্য ৯বার ফোন করে ব্যর্থ হয়েছি। পরে চিঠিও লিখেছি কিন্তু জবাব পাইনি। আগামী ৩০ ডিসেম্বরের পর ওনাকেই (শেখ হাসিনা) আমাকে চিঠি লিখতে হবে।

সভায় স্থানীয় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আতোয়ার রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মুহাম্মদ মনসুর, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবীবুর রহমান তালুকদার বীরপ্রতিক, জেলা সভাপতি এ্যাড. রফিকুল ইসলাম, সহসভাপতি আব্দুল হালিম সরকার, মীর জুলফিকার শামীম বক্তব্য দেন। সভায় স্থানীয় বিএনপি নেতা ও দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী শেখ মোহাম্মদ হাবীব, বাসাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম, শরীফ হোসেন পাপ্পুও বক্তব্য দেন।

প্রসঙ্গত ১৯৯৯ সালের ১৫ নভেম্বর টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের উপনির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে প্রতিবছর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ভোট ডাকাতি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

পূর্ববর্তি সংবাদসমান সুযোগ নিশ্চিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের : ওবায়দুল কাদের
পরবর্তি সংবাদওরা যতই দশনম্বরি করুক, আমরা সকলে ভোট দিতে যাবো : ড. কামাল