সমঝোতা নেই, কোন পথে হাঁটছে নির্বাচন?

ওয়ারিস রব্বানী ।।

দুই বড় শক্তি দুদিকে। সমঝোতার আলামত নেই। নির্বাচন সামনে নিয়ে চলছে পরিবেশগত অচলাবস্থার নানা রকম মহড়া। কোনো সুরাহা-সমাধানের চিহ্নই দেখা যাচ্ছে না। পর্যবেক্ষকদের অনেকেই বলছেন, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হলেও অবাধ হবে কি না বলা যাচ্ছে না।

প্রধান বিরোধী জোট-জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল সংসদ ভেঙ্গে দেওয়ার, নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের, ‘গায়েবি’ মামলা ও গ্রেফতার বন্ধের, নির্বাচনের জন্য সমতল মাঠের এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির। মনে হচ্ছে, কোনো দাবেই তাদের পূরণ হচ্ছে না। তারপরও তারা পুরো দস্তুর লেগে আছে। পেছনে তাকাতে চাচ্ছে না।

এরই মধ্যে নয়াপল্টনে বিএনপি অফিসের সামনে ঘটেছে অপ্রীতিকর ঘটনা। এর জের ধরে চলেছে মামলা ও গ্রেফতার। বিএনপির মনোনয়নপ্রার্থীদের সাক্ষাৎকারে লন্ডন থেকে ভিডিও সংযোগে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ। বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে ‘সরকারি দল সমর্থক’ প্রায় ৯০ জন সরকারি কর্মকর্তাকে বদলির আবেদন- আওয়ামী লীগের পাল্টা অভিযোগ। অভিযোগ ও পাল্টা আক্রমণ, আক্রমণ ও পাল্টা অভিযোগ থামছেই না। নির্বাচন কমিশন এসবের মধ্যে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে। তেমন কোনো নড়চড় নেই। যেন কোনো অভিযোগের দিকেই চোখ দেওয়ার তার সময় নেই।

সরকারি দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। প্রশাসনের লাগাম তাদের হাতেই। কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের কিছুই তারা ছাড়তে চাচ্ছেন না। পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ আছে নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচনের জন্য সমতল মাঠ তৈরিতে তাদের ভূমিকা রাখার কথা। কিন্তু সেই ক্ষমতা প্রয়োগের কোনো ইচ্ছা তাদের আছে বলেও মনে হচ্ছে না। এর মধ্যেই প্রায় প্রতিদিন চলছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ। প্রধান বিরোধী জোট ও রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের অনেকেই এসব কারণে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন। অনেকেই বলছেন, নির্বাচনের আগে আগেই হয়তো বিরোধীদের জন্য পরিবেশ আরও অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে। অনেকেই বলছেন, দুই বড় দলের দূরত্ব আরও বাড়তে থাকতে পারে। সমঝোতার সব আলামতই উধাও হয়ে যেতে পারে।

২৩ নভেম্বর বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ নির্বাচন থেকে পিছু হটতে পারে। ২৪ নভেম্বর আওয়ামী লীগ নেতা হাছান মাহমুদ বলেছেন, বিএনপি নির্বাচন থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন-সরে যাওয়ার অজুহাত খুঁজছে বিএনপি। বাস্তবে কে যে পিছু হটতে যাচ্ছে আর কে যে পালিয়ে যেতে চাচ্ছে-সেটা হয়তো পর্দার অন্তরালেই থেকে যাবে, কিন্তু এসব বক্তব্যের কারণে সাধারণ মানুষের মনে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়েই শঙ্কা ও ভীতি ছড়িয়ে পড়ছে। নির্বাচনের সুস্থ পরিবেশের জন্য এরকম দ্বিমুখি পরিস্থিতি কিছুতেই সহায়ক হতে পারে না।

বড় দুই প্রতিপক্ষ নিজেদের মনোনয়ন নিয়ে এখন শেষ মুহূর্তের হিসাব মেলাচ্ছেন। শরিকদের সঙ্গে লেনাদেনা কী করবেন- তার অঙ্কটা কমবেশি করছেন। মনোনয়নের চূড়ান্ত ঘোষণা আসার পর অপ্রাপ্তি জনিত সংকট আবার কী পরিস্থিতি তৈরি করে তা নিয়েও হিসাব-নিকাশে ব্যস্ত সবাই। কিন্তু এর মধ্যেই যার যার অবস্থান থেকে নির্বাচনে জয়ের কসরতে কেউ থেমে নেই। যারা ক্ষমতায় আছেন তারাও, যারা ক্ষমতার বাইরে আছেন তারাও। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে, নির্বাচনে প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক, সুস্থ ধারার চেয়ে পরিবেশকে ভারি ও জটিল করে তোলার পারঙ্গমতাটাই মুখ্য হয়ে উঠছে। আর এ থেকেই সমঝোতা ও সুস্থ প্রতিযোগিতার সব সম্ভাবনা থমকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকেই।

কেউ কেউ এমন আশঙ্কাও করছেন যে- নির্বাচন আদৌ হবে কি না, কিংবা নির্বাচনের সময় আদৌ ভোট দেওয়া যাবে কি না। অনেকেই হয়তো এমন আশঙ্কার মধ্যে এখনই যেতে চাচ্ছে না। কিন্তু সমঝোতাহীন-দমবন্ধ ও ‘অসুস্থ’ প্রতিযোগিতার দুর্গন্ধেও বাস করতে চাচ্ছে না কেউ।

পূর্ববর্তি সংবাদক্রিকেট খেলা নিয়ে পাকিস্তানে সংঘর্ষে নিহত ৭
পরবর্তি সংবাদ‘মুহাম্মদ যেমন তোমাদের নবী, তেমনি আমাদেরও নবী’ : নাত গাইলেন শ্রী আচার্য প্রমোদ কৃষ্ণ