কাবা প্রাঙ্গণ সাক্ষী থাকলো অভিনব এক ইতিহাসের    

সাকিব জাফরী ।। মক্কা থেকে

১৫ রবিউল আউয়াল (২৩ নভেম্বর)। অন্যরকম ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকলো মক্কা নগরী। এবছর এমনিতেই মক্কায় মুষলধারে বৃষ্টির দেখা মিলছে প্রায় সময়ই। রৌদ্রোজ্জ্বল আকাশ হঠাৎই অন্ধকার করে তুমুল বৃষ্টি। অথবা সারাদিন গুড়িগুড়ি বৃষ্টি, মাঝে মাঝে দমকা হাওয়া, দিগন্ত বিস্তৃত বিজলি আর গুড়ুম গুড়ুম মেঘের গর্জন লেগেই আছে। এগুলো যেন মক্কার নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই মরু অঞ্চলে সাধারণত খুব একটা বৃষ্টির দেখা মিলে না। তাই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও এতটা উন্নত নয়। একটু শক্তিশালী বর্ষণ হলেই রাস্তাঘাট তলিয়ে যায়। এমনকি মাঝেমাঝে জলাবদ্ধতায় গাড়ি পর্যন্ত ভেসে যায়।

এই তো কিছুদিন আগেই শুধু বৃষ্টির কারণে মক্কার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দুইদিন বন্ধ ছিল। এই সব কিছুর মাঝেই একটি ব্যতিক্রমী দিন ছিল গত জুমার দিন (২৩ নভেম্বর)।

পুরো সৌদি আরবজুড়েই নামাজের জামাত শুরুর বিশেষ একটি নিয়ম আছে। আমাদের দেশের মতো জামাতের সময় নির্ধারিত নেই। এখানে সময় নির্ধারণ করা হয় নামাজের ওয়াক্ত শুরুর হিসাব কষে। অর্থাৎ নামাজের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার সাথে সাথেই আজন হয়ে যায়। এরপর আজান ও ইকামাতের মাঝের সময়টি নির্ধারণ করা হয় নামাজ ভেদে।

কোনো নামাজে দশ মিনিট আবার কোনো নামাজে বেশি। সাধারণত ফজরের ক্ষেত্রে এই সময়টির দৈর্ঘ্য হয়ে থাকে বিশ থেকে পঁচিশ মিনিট পর্যন্ত। তবে হজ ও খুব বেশি ভীড়ের দিনগুলোতে পবিত্র হারাম শরিফে আজানের  পনেরো মিনিট পরই ইকামাত শুরু হয়ে যায়।

সব নিয়মের বেড়াজাল ভেঙ্গে গত জুমার দিন একটি ব্যতিক্রমী ইতিহাস রচিত হলো। কাবা সাক্ষী হয়ে থাকলো অন্য রকম ইতিহাসের। সেদিন ভোররাত থেকেই হালকা বৃষ্টির সাথে বজ্রপাতও হচ্ছিল। সেটি মারাত্মক আকার ধারণ করে ফজরের পূর্ব মুহূর্তে। মিনারে মহান প্রভুর বড়ত্বের ঘোষণা ধ্বনিত হতে লাগলো ভীষণ বৃদ্ধি পাওয়া মুষলধারে বর্ষণের মাঝে।

আজান শেষ হতেই সবাই যখন সুন্নত পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ঠিক তখনই মুয়াজ্জিনের দরাজ কণ্ঠে ভেসে এলো ইকামাতের সুর। ইমাম সাহেব সুরা ফিল ও সুরা ইখলাস দিয়ে খুব দ্রুত নামাজ শেষ করে ফেললেন।

সেদিন ইমামাতের গুরু দায়িত্বে ছিলেন বর্ষীয়ান আলেম শাইখ ড. সউদ আশ-শুরাইম। যেখানে আজান শেষ হতেই আড়াই তিন মিনিট লেগে যায় সেখানে আজান ইকামাত আর নামাজ সব মিলে সেদিন লেগেছিল মোটে নয় মিনিট।

ফজরের ওয়াক্ত শুরু হয়েছিলো পাঁচটা সতেরো মিনিটে আর নামাজ শেষ হয় পাঁচটা ছাব্বিশ মিনিটে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই বিষয়টি হয়ে উঠেছিলো টক অব দ্যা টাউন। বলা হচ্ছে কাবার ইতিহাসে এত দ্রুত ফজরের নামাজ শেষ হওয়ার ঘটনা ইতোপূর্বে আর ঘটেনি।

কাবার সাথে সাথে এই ইতিহাসের অংশ হতে পেরেছেন লাখো মুসল্লি। যারা খুব গর্ব ভরেই এই ইতিহাস পৌঁছে দিবেন কোটি মানুষের কাছে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে…।

এভাবেই বিচিত্র সব ঘটনা দিয়েই ভরে উঠে ইতিহাসের পাতা। আর সমৃদ্ধ হচ্ছে ইসলামি ইতিহাস।

পূর্ববর্তি সংবাদঢাকায় আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী যারা 
পরবর্তি সংবাদগণফোরামে যোগ দিলেন আবদুস সালাম, আসেননি একে খন্দকার