ভয়ে অযোধ্যা ছাড়ছে মুসলিমরা, প্রেসিডেন্টের হস্তক্ষেপ চেয়ে মুসলিম নেতাদের চিঠি

ইসলাম টাইমস ডেস্ক : ভারতের অযোধ্যার মুসলিম পরিবারগুলো ভয়ে ও আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণের দাবিতে চরমপন্থী হিন্দু সংগঠন শিবসেনা ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সমাবেশের প্রেক্ষিতে তারা এলাকা ছাড়ছে।

সমাবেশের কয়েকদিন আগ থেকে মুসলিম পরিবারগুলো অযোধ্যা ছেড়ে যাওয়া শুরু করে।  তারা পার্শ্ববর্তী এলাকায় তাদের আত্মীয়দের বাড়িতে সাময়িকভাবে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। চরমপন্থী হিন্দুরা এলাকা ত্যাগ করার পর তারা ফিরে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আর যারা এলাকা ছেড়ে যেতে পারেনি তারা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

অযোধ্যার অধিবাসী কলেজ শিক্ষক মন্জুর মেহদি বলেন, হিন্দু চরমপন্থী নেতাদের কথা থেকে অনেকের ধারণা হয়েছে তারা অযোধ্যা ছেড়ে খুব সহজে এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে যাবে না। ফলে স্থানীয় মুসলিমরা ভয় পাচ্ছে। অনেক পরিবার এলাকা ছেড়েছে আবার অনেকে পরিবারের নারী ও শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠিয়ে দিয়েছে।

মোহাম্মদ আজিম নামের অপর একজন অটোরিক্সা চালক বলেন, ‘অযোধ্যায় হিন্দু সমাবেশ আমাদের ভয়ংকর অতীতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। যদিও উভয়পক্ষের অধিকাংশ মানুষ শান্তিপ্রত্যাশী তবুও স্থানীয় অনেকেই সাময়িকভাবে এলাকা ত্যাগ করেছেন।

তবে পুলিশ বলছে, তারা কয়েক হাজার নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ দিয়েছে এবং ড্রোনের মাধ্যমে শহরের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। একজন পুলিশ অফিসার বলেন, আমরা যেকোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত। রামের জন্মভূমিখ্যাত এলাকায় আমরা কঠোর নিরাপত্তা বজায় রাখছি।

http://twocircles.net/wp-content/uploads/2017/12/IMG_20171215_152440.jpg

অন্যদিকে ভারতের মুসলিম নেতারা অযোধ্যায় প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি লিখেছেন। ‘অল ইন্ডিয়া মুসলিম মজলিসে মুশাওয়ারাত’ নামের একটি সংগঠন এই চিঠি পাঠিয়েছেন।

চিঠিতে মুসলিম নেতারা বলেছেন, অযোধ্যায় পরিস্থিতি মুসলিমদের ভীত করে তুলেছে। পরিস্থিতি যেকোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

তারা আরও বলেছেন, অযোধ্যায় কোনো স্থাপনা গড়ে তোলা হলে তা হবে সুপ্রিম কোর্টের আদেশ লঙ্ঘন। তা পুরো দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে।

সূত্র : এনডিটিভি ও দ্য টাইমস অব হিন্দু

পূর্ববর্তি সংবাদসোমালিয়ায় খ্রিস্টান যাজকের নবী দাবি অতঃপর …
পরবর্তি সংবাদআফগানিস্তানে হামলা : ২২ পুলিশ নিহত