সাদ আবদুল্লাহ মামুন ।।
মার্কিন কংগ্রেসের এক রেজুলেশনে বাংলাদেশের হেফাজতে ইসলামসহ ইসলামী দলগুলোকে দেশের স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সাম্প্রদায়িকতার জন্য হুমকি হিসেবে আখ্যা দেওয়ার জোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী। তিনি বলেছেন, এটা আন্তর্জাতিক প্রোপাগান্ডা।
আজ ২৭ নভেম্বর ঢাকার কয়েকটি গণমাধ্যমে মার্কিন রেজুলেশনটির সংবাদ প্রকাশিত হয়।
রেজুলেশনের প্রতিবাদে মাওলানা ইসলামাবাদী বলেন, হেফাজতে ইসলাম এ দেশের গণমানুষের সংগঠন। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের জনক আমেরিকা হেফাজতে ইসলামকে মৌলবাদী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করা ইসলামের বিরুদ্ধে তাদের অব্যাহত ষড়যন্ত্রের একটা অংশ।
হেফাজতে ইসলাম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট নয়; বরং প্রতিষ্ঠা করে। এ পর্যন্ত হেফাজত ইসলাম এ দেশে তা-ই করেছে। বাংলাদেশের মানুষ জানে, হেফাজতে ইসলাম কোনো ধরনের অশান্তি, বিশৃঙ্খলা ও হানাহানির সঙ্গে জড়িত নয়। হেফাজত শান্তির কথা বলে, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করে। দেশের কোনো ধরনের দুর্নীতি, অন্যায়-অনাচারের সঙ্গে হেফাজতের নেতৃবৃন্দের কোনো সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশের কোনো অপরাধমূলক মামলায় হেফাজতের কেউ এ পর্যন্ত দণ্ডিত হয়নি।
তিনি বলেন, হেফাজত নির্বাচনে অংশ নেইনি। তারপরও নির্বাচনে হেফাজতকে থামানো এ ধরনের কথা বলা এটা মার্কিন কংগ্রেসের বাস্তববিরোধী হিংসাত্মক পদক্ষেপ।
আরও পড়ুন : হেফাজত ইসলামকে থামাতে মার্কিন কংগ্রেসের আহবান!
ইসলামাবাদী বলেন, গণতন্ত্রের স্থিতিশীলতার জন্য হেফাজত হুমকি নয়; আমরা বরং বলব, স্থিতিশীলতার জন্য হেফাজতকে দায়িত্ব দেওয়া উচিত। হেফাজতের ইসলামের নেতাকর্মীরা কুরআন-হাদিসের শিক্ষা দ্বারা দুর্নীতি, জুলুম-অত্যাচার এবং খুন-গুমের বিরুদ্ধে মানুষকে বোঝায় এবং এসব অন্যায় কর্ম থেকে বিরত রাখে। এতে সমাজ ও রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠিত হয়।
তিনি আরও বলেন, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী শক্তি সন্ত্রাসী কার্যকলাপের জনক। তারা সন্ত্রাসকে বিশ্বব্যাপী জিইয়ে রাখে। আজকে সারা দুনিয়া তাদের কর্মকাণ্ডের সাক্ষী। তারা মুসলমানদের দীনি কার্যক্রমের বিরুদ্ধে এ ধরনের মিথ্যা ও প্রোপাগাণ্ডামূলক রেজুলেশন দ্বারা মূলত নিজেদের সন্ত্রাসী কালিমা অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার পায়তারা করছে। দুনিয়াবাসী জানে তারা হলো আগ্রাসী শক্তি। তাদের এ ধরনের অবান্তর রিপোর্ট মুসলমানরা বিশ্বাস করে না।
মাওলানা ইসলামাবাদী বলেন, হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা মুসলমান। তারা কুরআন-হাদিসের শিক্ষায় শিক্ষিত। তারা সবাই ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী। কথিত ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।
তিনি আরও বলেন, হেফাজতে ইসলাম অরাজনৈতিক সংগঠন। এটা বাংলাদেশের মানুষ জানে। কোনো রাজনৈতিক দল বা তাদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে হেফাজতকে মেলানোর সুযোগ নেই। হেফাজত এ দেশের বৃহত্তর জনগণের একটি সংগঠন। হেফাজতের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য কতিপয় লোক এ ধরনের অবাস্তব প্রতিবেদন করেছে। এটা সাম্রাজ্যবাদীদের একটা চক্রান্ত এবং আন্তর্জাতিক মিথ্যাচার। আমরা তাদের এসব মিথ্যাচার ও প্রোপাগাণ্ডার শক্ত প্রতিবাদ জানাই।
















