সদিচ্ছা থাকলে নির্বাচন কমিশন এখনো আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে পারে : মুফতি আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ৩০ ডিসেম্বর। ২৮ নভেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ১০ ডিসেম্বর। অথচ এখনো নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হয়নি বলে অভিযোগ করছে বিরোধী বড় দলগুলো। এমনকি সরকারের সদ্য মিত্র বিকল্পধারার চেয়ারম্যান ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরীও সম্প্রতি এমন অভিযোগ করেছেন। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করার দায়িত্ব কার এবং কে কীভাবে এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারেন- বলেছেন মারকাযুদ দাওয়াহ আলইসলামিয়া ঢাকা-র রঈস ও মাসিক আলকাউসারের সম্পাদক, গবেষক আলেমেদ্বীন মুফতি আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ। ইসলাম টাইমসের পক্ষে তার সামনাসামনি বসেছিলেন শরীফ মুহাম্মদ।

ইসলাম টাইমস : মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া শেষ। নির্বাচনী তৎপরতা এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু চারদিকেই অভিযোগ, নির্বাচনী পরিবেশের ক্ষেত্রে আস্থাহীনতা বিরাজ করছে। আপনার কী মনে হয়?

মুফতি আবুল হাসান আবদুল্লাহ : এটা শুধু আমাদের দেশে না, বর্তমান বিশ্বের প্রায় সব উন্নয়নশীল দেশেই গণতান্ত্রিক অবস্থা ও নির্বাচন ব্যবস্থা দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। যখন যারা ক্ষমতায় থাকে, তারাই ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে চায়। দীর্ঘ ১০ বছর পর দেশে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের আয়োজন চলছে। এর জন্য যে আস্থা ও সহাবস্থানমূলক অবস্থা দরকার ছিল- তা দেখা যাচ্ছে না। যেদিন প্রধান বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিল সেদিন থেকেই আস্থার এই সংকটটা দেখা যাচ্ছে। শুরু থেকেই বিভিন্ন ইস্যুতে দেখা যাচ্ছে, সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন ও সরকার একাকার হয়ে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তো রেফারির ভূমিকা পালন করার কথা। কিন্তু বারবার তাদের ভূমিকায় রেফারির ভূমিকার এই নিরপেক্ষতাটা ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। তারা আস্থা সৃষ্টি করতে পারছেন না।

নির্বাচন নিয়ে ব্যাপকভাবে আস্থার সংকটের যে কথাটা বলা হচ্ছে- আমার মনে হয়েছে সেটা এ কারণেই হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব আস্থার পরিবেশ তৈরি করা। তারা সেটা করতে পারছেন বলে মনে হচ্ছে না। এ কারণে সাধারণ জনগণ ও ভোটারদের অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে, নির্বাচন আসলেই হবে কি না। কেউ কেউ ভাবছে- নির্বাচন হলেও সেখানে ভোট দেওয়া যাবে কি না।

ইসলাম টাইমস : বিশেষ এমন কি কিছু দেখছেন যে কারণে মনে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের আচরণে আস্থার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে না?

মুফতি আবুল হাসান আবদুল্লাহ : উল্লেখ করার মতো বিষয় তো অনেক। সাম্প্রতিক একটি ব্যাপার বলি। প্রায় সব বিরোধী দলের আপত্তির মুখেও নির্বাচন কমিশন ঘোষণা দিল ৬টি আসনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। এই ইলেকট্রিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম নিয়ে বিভিন্ন দেশেই বিতর্ক হয়েছে। খোদ আমেরিকার মতো দেশেও তর্ক উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, তাদের নির্বাচনে মেশিন হ্যাক করা হয়েছে। এ জন্য রাশিয়াকে দায়ী করে বক্তব্যও এসেছে। প্রশ্ন দাঁড়ায়- আমেরিকারই যদি এ অবস্থা হয়, আমাদের নির্বাচন কমিশন সেখানে নিঃসংশয়ে ইভিএম ব্যবহারের সাহস করছে কেন? আমরা প্রযুক্তিতে কতটা এগিয়েছি? প্রযুক্তিতে অগ্রসর দেশগুলোর চেয়েও বেশি? ইভিএম নিয়ে বিতর্কের এক পর্যায়ে ইতিপূর্বে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্তও বলেছিলেন, ইভিএম চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। এতসব কিছুর পরও ইভিএম খাতে হাজার কোটি টাকা খরচ ও ৬টি আসনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা ইসিকে চরমভাবে বিতর্কিত করেছে। এটি সবাইকে পাশ কাটিয়ে একপেশে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো হয়েছে। আস্থার ঘাটতি তৈরিতে এ জাতীয় সিদ্ধান্তের ভূমিকাটা ছোট নয়।

ইসলাম টাইমস : মনোনয়নের তারিখ ঘোষণার পর মামলা-গ্রেফতারের শিকার হচ্ছে বিরোধীদলের বিভিন্ন নেতাকর্মী। বলা হচ্ছে, গায়েবি মামলাও দেওয়া হচ্ছে। এগুলো কি নির্বাচনে আস্থার পরিবেশ তৈরিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে না?

মুফতি আবুল হাসান আবদুল্লাহ : এসব মামলা ও গ্রেফতারের বিষযে ইসির ভূমিকাটাও দেখুন। তফসিল ঘোষণার পর তারা বলতে পারতেন, এখন আর পেছনের কোনো মামলায় কোনো দলের নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা যাবে না। তফসিল ঘোষণার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ও পুলিশের ওপর তাদের কর্তৃত্ব আছে। গ্রেফতার না করার কথা বলার পরও যদি পুরোপুরি তাদের কথা রাখা না হতো- তবুও বলা যেত তারা অন্তত বলেছেন। আস্থার জায়গাটা তখন তৈরি হতো। কিন্তু সিইসি উল্টো বললেন, গ্রেফতার চলছে আমাদের জানিয়েই। এখানে ইসি বা নির্বাচন কমিশন রেফারির ভূমিকা পালন করল কীভাবে? তাদের আচরণ তো একপেশে হয়ে গেল। পত্রপত্রিকায় দেখি, কোনো খেলার ফলাফল নিয়ে ঝগড়া হলে বলা হয়- ওই দলে ১২ জন খেলোয়াড় ছিল। খেলোয়াড়ের সংখ্যা তো থাকে ১১ জন, কিন্তু ১২ জনের কথা বলার উদ্দেশ্য হলো, রেফারির ভূমিকাও ওই দলের পক্ষে চলে গিয়েছিল। যেন রেফারিও তাদের একজন খেলোয়াড় ছিল। তো পক্ষপাতিত্বের কারণে রেফারিকে একটি দলভুক্ত হিসেবে মানুষ গণনা করতে শুরু করে। এ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও একদিকে চলে যাচ্ছে। তারা পক্ষপাতমুক্ত আস্থার জায়গাটায় যেতে পারছেন না।

ইসলাম টাইমস : দণ্ডিত ব্যক্তির নির্বাচন করতে না পারা এবং নির্বাচনী কোনো কোনো বিষয়ে আদালতের নতুন রুল চলে আসছে। এগুলোর প্রভাব কি পড়ছে পরিবেশে?

মুফতি আবুল হাসান আবদুল্লাহ : বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরা নির্বাচনের আগে এ জাতীয় রুলের কারণে নির্বাচনের পরিবেশে বিঘ্ন ঘটার কথা বলেছেন। একজন সাবেক নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, তফসিল ঘোষণার পর কিছু কিছু ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশকে বিঘ্নিত করে। একটি হচ্ছে, তফসিলের পর রাজনীতিকদের গ্রেফতার। আরেকটি হচ্ছে আদালতের রুলের দোহাই দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ। মূলত আদালতের সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের কোনো কথা নেই। দণ্ডিত ব্যক্তিদের নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে আমরা সমর্থন করি। কিন্তু দেখতে হবে- কোনো ব্যক্তি চূড়ান্তভাবে দণ্ডিত হলো কি না। এক আদালত তাকে দণ্ডিত করেছে, আরেক আদালতে তার মামলা বিচারাধীন, এসব ক্ষেত্রেেআইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আপিল বিভাগে চূড়ান্ত রায় ঘোষিত হওয়ার আগে পর্যন্ত ‘দণ্ডিত’ হিসেবে গণ্য করে তাকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা যায় না।

বিষয়টি আইনকানুনের সাথে সংশ্লিষ্ট। আইনজ্ঞরা ভালো বলবেন। কিন্তু এখন যদি তফসিল ঘোষণার পর কোনো ব্যক্তির বিষয়ে রুল আসে যে, সে নির্বাচন করতে পারবে না- তাহলে তো একটা সন্দেহ-সংশয়ের পরিবেশ তৈরি হতে শুরু করে। নির্বাচনকে সামনে নিয়ে একটি পক্ষের মানুষদের ব্যাপারে আদালতের নেতিবাচক রুল আসতে থাকলে- সেটার কারণে তো আদালত সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হওয়ার পথ খুলে যেতে পারে। এ ধরনের পথ তৈরি হওয়া ঠিক না। এ জাতীয় সংশয় ও অনাস্থার পরিস্থিতি যেন তৈরি না হয় সে দায়িত্ব আসলে সবার, আদালতেরও।

ইসলাম টাইমস : মনোনয়ন জমা দেওয়ার তারিখ পার হয়ে গেলেও সবাই এখন তাকিয়ে আছে ১০ ডিসেম্বরের দিকে। যেদিন মনোনয়ন প্রত্যাহার হবে। এ সময় পর্যন্ত কী কী হতে পারে বা এর পরে কি আস্থার কোনো পরিবেশ আসতে পারে?

মুফতি আবুল হাসান আবদুল্লাহ : আমার মনে হয়, এখনই প্রতিদ্বন্দ্বী কারো হতাশ হওয়া উচিত না। পরিবেশ হয়তো শুরুতেও অনুকূল ছিল না, তারপরও বিরোধী দলগুলো নেমে এসেছে। এখন আর হাল ছেড়ে দেওয়া উচিত হবে না। বিরোধী দলগুলো তো বলেছে, আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা নির্বাচনে নেমেছে, সব দেখে শুনেই নেমেছে, তাই তাদের লেগে থাকা দরকার। সব পক্ষ ও মহলেরও সতর্ক ও সচেতন থাকা দরকার। সবারই চেষ্টা করা দরকার যেন সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে সঠিক মতামত সামনে আসে।

আরেকটা ব্যাপার হলো, ১০ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিনের জন্য যে অপেক্ষা- এটা একটা অনুচিত অবস্থার সৃষ্টি করা হয়েছে। এ কাজটি সরকারি দলও করেছে, বিরোধী দলগুলোও করেছে। এর ফলে ভোটার জনসাধারণ একটা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে রয়েছে। তারা জানতে পারছে না- তাদের সামনে আসলে প্রার্থী কে? তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কাকে ভোট দেবে সে প্রস্তুতি নেওয়ার অধিকার তো জনগণেরও আছে। অথচ এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহারের তারিখ ১০ ডিসেম্বরকেই মনোনয়ন দাখিলের তারিখ বানিয়ে ফেলা হয়েছে। দেখা যাবে, ১০ ডিসেম্বর ৩০০০ প্রার্থীর মধ্যে ২০০০ জনই মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেবেন। এখন কিন্তু সবাই ঝুলে আছে। তাদের সঙ্গে ভোটাররাও ঝুলে আছেন। এটা উচিত না। জনগণকে এভাবে অন্ধকারে রেখে দেওয়াটা শোভন নয়।

ইসলাম টাইমস : বিরোধী দলগুলো তো একাধিক প্রার্থী বা বিকল্প প্রার্থী দিয়েছে এই ভয়ে যে, কখন কে বাতিল হয়ে যায়- কাকে আটকে দেয়া হয়?

মুফতি আবুল হাসান আবদুল্লাহ : এটা তো হচ্ছেই। এ কারণে নানারকম পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, বিরোধী দলের একজন প্রবাসী নেতার বিরুদ্ধে সিডিউল ঘোষণার পর দণ্ডের রায় হলো। তার ছেলে সম্ভবত নির্বাচন করতে চাইছে। এখন তার ছেলেমেয়েকে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে। এসব ঘটনায় মানুষের ভেতরে কানাঘুষা শুরু হয়, সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এ ধরনের অনিশ্চয়তা ও অনাস্থার পরিবেশ কাঙ্ক্ষিত নয়। মনে রাখা দরকার, রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল কয়েকটি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে- নির্বাচন কমিশন, দুদক, আদালত। বিশেষ সময়ে কারো পক্ষে বা বিপক্ষে এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো পদক্ষেপে অনাস্থা ও সংশয় তৈরি হলে- ক্ষতির মাত্রাটা বেড়ে যায়। এতে শুধু কিছু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ক্ষতি হয় না, গোটা রাষ্ট্রেরই ক্ষতি হয়ে যায়। রাষ্ট্র তো শুধু রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট ও ভবনের নাম না, উন্নত নিয়ম, মানবিকতা, আস্থা, ন্যায়ানুগতা ও সুবিচার ও সদাচারের নাম। এসব মৌলিক বিষয়গুলোতে আস্থার চিড় ধরলে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রেরই ক্ষতি হয়।

ইসলাম টাইমস : সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেসের একটি রিপোর্টে বাংলাদেশের ধর্মভিত্তিক দলগুলি বিশেষত হেফাজতে ইসলামের সমালোচনা করে এদের ঠেকানোর কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে মার্কিনীদের এ ধরনের অবস্থান নিয়ে আপনি কিছু বলবেন?

মুফতি আবুল হাসান আবদুল্লাহ : ওই রিপোর্টে যদি শুধু ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দল ও হেফাজতে ইসলামেরই সমালোচনা থাকত তাহলে আমি বলতাম- এটা তাদের পুরনো কেচ্ছা। দেশে দেশে ইসলামপ্রেমী মানুষকে তারা খারাপ চোখে দেখেই থাকে। কিন্তু এখানে বিএনপির কথাও এসেছে সমালোচনার ভাষায়, আর হেফাজত যে নির্বাচনে যাচ্ছে না- এটা কে না জানে। নির্বাচনের আগে একটি পক্ষকে, একটি মহলকে, একটি প্রতিদ্বন্দ্বী বড় দলকে টার্গেট ধরে এভাবে মার্কিন কংগ্রেসের রিপোর্ট বা রেজুলেশনকে আমার কাছে অন্য কোনো ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে হচ্ছে। তাছাড়া শোনা যায়, লবিস্ট নিয়োগ করে এ জাতীয় রিপোর্ট তৈরি করানো হয়ে থাকে অনেক সময়। এখানেও বিশেষ সময়ে বিশেষ উদ্দেশ্যে এমন কিছু ঘটেছে কি না কে জানে।

ইসলাম টাইমস : নির্বাচনের পূর্বে পরিবেশ নিয়ে যে সংকট ও অভিযোগ চলছে- এ সবের সুরাহা কী আপনার চোখে?

মুফতি আবুল হাসান আবদুল্লাহ : আমি মনে করি, সদিচ্ছা থাকলে এখনো সব পরিবেশ সুষ্ঠু করে গড়ে তোলার সুযোগ আছে। বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, সব দলের অংশ নেওয়া এবং নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হওয়ার সাফল্যটা এসেছে। আমার মনে হয়, এ সাফল্য ভোটের দিন পর্যন্ত ধরে রাখতে হবে। জনগণ যেন ভোট দিতে যেতে পারে, ভোট দিতে পারে- সেটাও তাকে নিশ্চিত করতে হবে। পুলিশ ও পুলিশের তৎপরতাকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে হবে। পূর্বে কোনো মামলা থাকলে তার জন্য ৩০ ডিসেম্বরের পরে পদক্ষেপ নিতে বলা যেতে পারে। এ সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে ইসির কর্তৃত্ব থাকে। সিইসির দায়িত্ব এসব বিষয়ে মনোযোগ দেওয়া।

আর আদালত নিয়ে বলার কিছু নেই। শুধু বলতে পারি, রাষ্ট্রের আইন কর্মকর্তারা যেন নির্বাচনের আগে অতি উৎসাহী ভূমিকা না রাখেন সেটাও দেখার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা দোষী হলে অবশ্যই তাদের শাস্তি দিতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও আইনি কার্যক্রম চলবে। কিন্তু নির্বাচনের আগে যেন পুরনো মামলায় তাদেরকে আটক করা, ব্যস্ত করে রাখা, পেরেশান করার ঘটনা না ঘটে- এ দিকটির প্রতি সজাগ চোখ রাখার দায়িত্ব ইসির। সমান প্রচারের সুযোগ, মামলা-গ্রেফতার না থাকা, আর হয়রানি না করা হলে নির্বাচনেরর পূর্বে পরিবেশ সুন্দর হয়ে উঠতে পারে। সমতল ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। নির্বাচনটা সুষ্ঠু হোক। কে ক্ষমতায় আসবে- ভোটের মাধ্যমে ঠিক হোক। নির্বাচন কমিশনের কাছে দেশবাসী এটা আশা করতেই পারে।

পূর্ববর্তি সংবাদস্বাভাবিকভাবেই চলছে টঙ্গীর ইজতেমা মাঠের প্রস্তুতি ও অন্যান্য আমল
পরবর্তি সংবাদরুশ-মার্কিন সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা, ট্রাম্প-পুতিনের বৈঠক বাতিল