সাদপন্থীদের হামলার প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে সভা, মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি

ইসলাম টাইমস ডেস্ক : টঙ্গীর ইজতেমার মাঠে সাধারণ তাবলিগি সাথী, উলামায়ে কেরাম ও মাদরাসা ছাত্রদের উপর  নৃশংস হামলার প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জে প্রতিবাদ সভা ও জেলা স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

আজ ২ ডিসেম্বর শহরের ঐতিহাসিক শহীদি মসজিদে এই প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশে কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের সহ-সভাপতি আল্লামা আযহার আলী আনোয়ার শাহ সভার সভাপতিত্ব করেন।

কিশোরগঞ্জের স্থানীয় তাবলিগি সাথী, উলামায়ে কেরাম ও বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ সভায় অংশগ্রহণ করেন।

সকালে ৯ টায় শুরু হয়ে সভাটি শেষ হয় বেলা ১২ টায়।

সমাবেশে বক্তারা গতকালের হতাহতদের এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং দোষী ব্যক্তিদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান।

বক্তাদের অধিকাংশ তাদের বক্তব্যে মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদের শোলাকিয়া মাঠ এবং কওমীর সকল অঙ্গন থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা আনোয়ার শাহ বলেন, মাওলানা সাদ কী জিনিস সেটা সারা বিশ্বে উন্মোচিত করতেই গতকালের এ ঘটনা হয়েছে। তাকে আর চেনার বাকি থাকবে না তার উদ্দেশ্য কী, লক্ষ কী?

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জামিয়ার ইমদাদিয়ার মুহাদ্দিস আল্লামা শফিকুর রহমান জালালাবাদি, আল্লামা ইমদাদুল হক, আল্লামা শিব্বির আহমদ রশিদ, মাওলামা মুহাম্মাদুল্লাহ জামী, মাওলনা হিফজুর রহমান খান, মাওলানা আব্দুস সাত্তার, মাওলানা উবায়দুল্লাহ আনোয়ার, মাওলামা আব্দুর রহিমসহ তাড়াইল, করিমগঞ্জ বাজিতপুর, ভৈরব, কুলিয়ারচর, হোসেনপুর, কাটিয়াদিসহ কিশোরগঞ্জের কওমি মাদরাসার মুহতামিমগণ উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলন শেষে তাবলিগ ইস্যুতে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপিও প্রদান করেন উলামায়ে কেরাম। সমাবেশে কিশোরগঞ্জের কওমি ছাত্রদের পক্ষ থেকে কিছু প্রস্তাবনা রাখা হয়।

১. গতকালের আহতদের সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা নেয়া। নিহতদের সঠিক তদন্ত নেয়া এবং তার পরিবারের কাছে উলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা ।

২. গতকালের ঘটনার অন্যতম হোতা মধ্যে ফরীদ উদ্দীন মাসউদ ও ওয়াসিফ গংদের বিরুদ্ধে দেশের ৬৪ জেলার তাবলীগের সাথীদের পক্ষ থেকে কমপক্ষে একটি করে মামলা দায়ের করতে হবে।

৩. গতকালের ঘটনার মূল নায়ক ফরীদ উদ্দীন মাসউদকে কওমির সকল অঙ্গন থেকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করতে হবে।

৪. শোলাকিয়া মাঠের ইমামতি থেকে তাকে অপসারণ করতে হবে।

৫. কওমি অঙ্গনের স্বকীয়তা রক্ষায় জন্য প্রয়োজনীয় স্থায়ী ব্যবস্থা যেমন, মিডিয়া, ব্যাংকিং, চিকিৎসালয় ইত্যাদির ব্যবস্থা করতে হবে।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার জন্য বড়দের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন শিক্ষার্থীরা।

পূর্ববর্তি সংবাদনদী পার হয়ে জীবন বাঁচালাম
পরবর্তি সংবাদসাদপন্থীদের হামলার প্রতিবাদে ঢাকায় উলামায়ে কেরামের সংবাদ সম্মেলন শুরু