টঙ্গী মাঠে হামলাকারী ও উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে : আল্লামা বাবুনগরী

ইসলাম টাইমস ডেস্ক : গত ১লা ডিসেম্বর টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমার মাঠে তাবলীগের সাথী, আলেম-ওলামা ও মাদরাসা ছাত্রদের ওপর হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের ওলামা-মাশায়েখ ও তৌহিদী জনতার উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তরা বলেছেন, ইজতেমা মাঠে হামলাকারী ও উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) বাদ-জোহর চট্টগ্রাম জমিয়তুল ফালাহ ময়দানে এক বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী বলেন, তাবলীগ একটি ধর্মীয় জামাত। সন্ত্রাস মারামারির কোনো সম্পর্ক তাবলিগে নেই। যারা বিশ্ব ইজতেমার মাঠ দখলে নিতে সেখানে অবস্থানরত তাবলীগের সাথী, ওলামায়ে কেরাম ও মাদরাসা ছাত্রদের ওপর হামলা চালিয়ে শহীদ করেছে এবং আহত করেছে, এরা দেশি-বিদেশী অপশক্তির এজেন্ট। আলেম ও ছাত্রদের যারা রক্ত ঝরিয়েছে এদের গ্রেফতার করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। ওলামা ও ছাত্রদের উপর পৈশাচিকভাবে হামলা কোন মুসলমান করতে পারে না।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, সেদিন প্রশাসনের ভূমিকা ছিল রহস্যজনক। তারা যথাযথভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করলে সেদিন কোন মানুষ নিহত ও আহত হতো না। এ ঘটনার দায় প্রশাসন কোনভাবে এড়াতে পারে না। এটা পরিকল্পিতভাবে হামলা। এ হামলার উস্কানিদাতা ওয়াসিফুল ইসলাম, নাসিম ও ফরীদ উদ্দীন মাসউদ এবং তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

বাবুনগরী বলেন, তাবলিগের কাজ চলবে আলেমসমাজের ফায়সালা মতে। কোন ব্যক্তির কথায় তাবলিগ চলতে পারে না। মাওলানা ইলিয়াস রহ. দেওবন্দের মুরুব্বিদের পরামর্শ মতে কাজ চালিয়েছেন, তাই ফিতনা তৈরী হয়নি। ভারতের বিতর্কিত মাওলানা সাদ দেওবন্দের পরামর্শ মানছে না বলেই তাবলিগে ফাসাদ সৃষ্টি হয়েছে। মাওলানা সাদ বাতিল আকিদা পোষণ করেন।

সমাবেশ শেষে এক বিরাট বিক্ষোভ মিছিল বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ওয়াসা মোড়ে শেষ হয়। মিছিল শেষে সিএমপি কমিশনারের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হয়

ফিরোজশাহ কলোনী মাদরাসার পরিচালক মাওলানা তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন, দারুল উলুম হাটহাজারীর মুহাদ্দিস ও তাবলীগের মুরুব্বি মুফতি জসিম উদ্দিন, মোজাহের উলুম মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা লোকমান হাকীম, হাটহাজারী মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা ফোরকান আহমদ, নাজিরহাট মাদরাসার মুফতি হাবিবুর রহমান, শোলকবহর মাদরাসার মাওলানা লোকমান, লালখান বাজার মাদরাসার মুফতি হারুন ইজহার, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, নানুপুরের মুফতি শওকত, দারুল মাআরিফের মুফতি মাসুম, হালিশহর মাদরাসার মুফতি হাসান মুরাদাবাদী, শাহওয়ালি উল্লাহ মাদরাসার মাওলানা সফিউল্লাহ, তাবলীগের সাথী মাওলানা সাইফুল হক, মুফতি মুসতাফিজুর রহমান, মুফতি মহিউদ্দিন, মাওলানা মাসুদ, মাওলানা শাহাদত প্রমুখ।

পূর্ববর্তি সংবাদবিদেশি পর্যবেক্ষকদের গোপন এজেন্ডা থাকে : ১৪ দল
পরবর্তি সংবাদমালয়েশিয়ায় বিস্ফোরণ : নিহত ৩, আহত ২৪