নিখোঁজ হওয়া ২২ পরিবারের আকুতি : এ কেমন দেশ!

ইসলাম টাইমস ডেস্ক : ‘এ কেমন দেশ? বাবাকে খুঁজতে সব জায়গায় গেছি, কেউ খোঁজ দিতে পারেনি। এ দেশে কি বাবাকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না’ বলে চিৎকার করে ওঠেন নিখোঁজ সুমনের মেয়ে রাইদ।

ক্রসফায়ার এবং গুম বন্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে সুস্পষ্ট ঘোষণার দাবি জানান গত কয়েক বছরে নিখোঁজ হওয়া ২২ পরিবারের সদস্যদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’।

মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) ঢাকা মহানগরের ২৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিখোঁজ সাজেদুল ইসলাম সুমনের মা হাজেরা বেগমের সভাপতিত্বে জাতীয় প্রেসক্লাবের এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তারা এ দাবি জানান।

সাজেদুল ইসলাম সুমনের বোন মারুফা ইসলাম ফেরদৌসী বলেন, এখানে ২২ পরিবারের সদস্যরা আছেন। এই পরিবারগুলো প্রিয় মানুষ হারিয়ে বুকে পাথর চেপে দিন কাটাচ্ছে। তাদের সবার একটাই দাবি, প্রিয় স্বজন ফিরে আসুক। এ সময় সুমনের মেয়ে রাইদা চিৎকার করে কেঁদে বলেন, এ কেমন দেশ? বাবাকে খুঁজতে সব জায়গায় গেছি, কেউ খোঁজ দিতে পারেনি। এ দেশে কি বাবাকে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না?

আলোচনা সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, পৃথিবীর সব দেশের আইনেই গুম জঘন্যতম অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত আছে। গুম খুনের চেয়েও জঘন্যতম অপরাধ। একাধিক আন্তর্জাতিক আইনে বলা হয়েছে, গুম যখন পরিকল্পিতভাবে হয় এবং অধিক সংখ্যায় হয় তখন সেটা মানবতাবিরোধী অপরাধ। দেশে যারা গুমের শিকার হয়েছেন তারা সবাই সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী। এ কারণে এটা বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ আছে যে এসব গুম পরিকল্পিতভাবে হয়েছে এবং গুমের সংখ্যাও অনেক।

অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা গল্প শুনতাম রাক্ষস মানুষ খায়। এখন সরকার সেই রাক্ষসের ভূমিকায়, এ সরকারের লোকজন মানুষ খেয়ে ফেলছে।

অনুষ্ঠানে প্রথমে বক্তব্য দেন নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা।

নিখোঁজ আব্দুল কাদের মিয়া মাসুমের মা আয়েশা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, সন্তানই আমার সবচেয়ে বড় সম্পদ। সন্তান হারিয়ে আমি এখন নিঃস্ব। নতুন বছরে সন্তানকে ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা চাই।

আরেকজন নিখোঁজ সোহেলের ছোট্ট মেয়ে সাফা এ সময় ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠে বলে, ‘এক বছর ধরে বাবা নেই, তাই একদম ভালো লাগে না। বাবাকে ছাড়া স্কুলে যেতেও ইচ্ছে করে না।’ একই সঙ্গে কেঁদে ওঠে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয় নিখোঁজ মারুফ জামানের শিশুসন্তান সামিরা। সে বলে, ‘এক বছর ধরে বাবা আসছে না, বাবাকে পাচ্ছি না, কেন পাচ্ছি না, আপনারা কিছু বলেন না কেন?’

নিখোঁজ সেলিম রেজা পিন্টুর বোন রেহানা বেগম আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘কিছুই চাই না, শুধু ভাইটাকে ফেরত দেন’।

নিখোঁজ এরশাদ আলীর বাবা মাহবুব আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বৃদ্ধ বয়সে সন্তান হারানোর মতো সর্বনাশের শিকার হলাম। আমার ছেলেটাকে কি আর কখনও ফিরে পাব না?’

আলোচনায় অংশ নিয়ে বেদনার্ত স্বজনের উদ্দেশে মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, কেঁদে কী হবে? এ সরকারের কেউ আপনাদের কথা শুনবে না। এ সরকারে যারা দায়িত্বে আছেন তারা সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীন, মানুষের জন্য তাদের কোনো দরদ নেই। আমরা গল্প শুনতাম রাক্ষস মানুষ খায়। এখন এই সরকার রাক্ষসের ভূমিকায়, সরকারের লোকজন মানুষ খেয়ে ফেলছে।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, বাসদের খালেকুজ্জামান ভূঁইয়া, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান জোনায়েদ সাকি, গণমুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম লালা এবং বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল।

পূর্ববর্তি সংবাদআজরাইল না আসা পর্যন্ত আমাকে বিদায় করা যাবে না : অর্থমন্ত্রী
পরবর্তি সংবাদদাম্পত্যজীবন মধুর হয় যেভাবে