ভোটের আগে গুমোট বাতাস কাটবে কবে ?

শরীফ মুহাম্মদ ।।

প্রার্থী চূড়ান্ত হতে বাকি আর পাঁচ দিন। ১০ ডিসেম্বর জানা যাবে কোথায় কোন দল বা জোটের প্রার্থী কে? সেদিনই প্রার্থী প্রত্যাহারের শেষ দিন। এরপর থাকবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের মাত্র ২০ দিন। একদিক থেকে হাতে সময় বেশি একটা নেই। কিন্তু এর মধ্যেও প্রার্থী, প্রতীক আর ভোটের চূড়ান্ত দৌড়ের কোনো একমুখি আলামত স্পষ্ট হয়ে উঠছে না।

নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে সরকারি দলের পাশাপাশি প্রধান বিরোধী দল ও জোট এবং সহযোগী জোটগুলোকে যতটা সক্রিয় ও স্বতংস্ফূর্ত দেখা গিয়েছিল, ডিসেম্বরের শুরু থেকে যেন তাতে কিছুটা ঝিমুনি চলে এসেছে। কেউ কেউ বলছেন, ভোটের রাজনীতিতে এক ধরনের গুমোট আবহাওয়া তৈরি হয়ে গেছে হঠাৎ। সহসাই এটা কেটে যাবে, না কি আদৌ কাটবে না- তা দেখার জন্য হয়তো আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতেই হবে।

সরকারি দল ও তাদের জোট এবং প্রধান বিরোধী দল ও জোটের মনোনয়নপত্র জমা দানের সময় থেকেই কিছুটা অস্থিরতা চোখে পড়েছে। কোনো জোটই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা তৈরি করতে পারেনি। নিজ নিজ বড় দলের পাশাপাশি শরিকদের আসনও চূড়ান্ত করা যায়নি। উভয় জোটেরই কোনো কোনো সহযোগী জোট মুখে তালা মেরে আছে। কোনো কোনো সহযোগী দল ও জোটে মনোনয়ন ও নেতৃত্বের আসনেও অস্থিরতার আলামত সামনে চলে এসেছে। জানা যায়নি, সরকারি দলের সঙ্গে জাতীয় পার্টির আসন লেনদেন কেমন হলো, কেমন হলো, বি চৌধুরীর যুক্তফ্রন্টের ভারসাম্যের হিসাব-নিকাশ। এরশাদ কীভাবে অসুস্থ হলেন, কীভাবেই আবার পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেলেন, বি চৌধুরী চুপচাপ বসে কেন- এসব প্রশ্নের উত্তর প্রকাশ্যে আসছে না।

অপরদিকে জানা যাচ্ছে না, বিএনপির দ্বিমুখি জোট- ২০ দল ও ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে আসনের মীমাংসিত ছকটি কেমন, বিপুল সংখ্যক মনোনয়ন বাতিলের পর তারা এখন কোথায় কী ব্যবস্থা নেবেন। বোঝা যাচ্ছে না, দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতারি পরোয়ানা ও মামলার ঝক্কিটা বিএনপি কীভাবে সামলাবে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া অভিযোগ, দাবি ও আবেদনের ব্যাপারে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের পথচলা কী হবে- সেটাও স্পষ্ট করছে না নেতারা। এর মধ্যে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের বক্তব্য-ভাষাতেও শোনা যাচ্ছে না ‘লড়াই’ চালিয়ে যাওয়া বা কিছু একটা করার জোরালো কোনো সুর। শুধু সরকারি দলের নেতামন্ত্রীদের বক্তব্যেই ভোট নিয়ে, এই ভোটের বিজয় নিয়ে উঁচু আওয়াজ ধ্বনিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে এক ধরনের অপেক্ষা, অস্পষ্টতা আর অমীমাংসিত অঙ্ক চারদিকে।

অনেকে এটাকেই বলছেন ভোটের আগের গুমোট বাতাস। এ বাতাস কি দূর হবে শেষ পর্যন্ত? দূর করতে চাইলে সে দায়িত্বটা তবে কার? সরকারি দলের, না কি নির্বাচন কমিশনের, না কি ছোট-বড় সব বিরোধী দলের? এ গুমোট বাতাসের সুফল-কুফল ভোটের আগে কে ভোগ করবে আর কে ভুগবে? দৃশ্যমান রাজনীতিতে এসব প্রশ্নের মীমাংসিত উত্তর নেই। আছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের ছোট-বড় পর্ব। আছে সন্দেহ, সংশয় আর অনিশ্চয়তার কুয়াশা।

এই গুমোট বাতাস যদি দূর না হয় ভোটের পরিবেশ থেকে, তবে কি সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব হবে? অথবা আদৌ কি অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচন হবে শেষ পর্যন্ত?

কেউ জোর করে টিকে থাকবে না তো!

কেউ ভয়ে পালিয়ে যাবে না তো!

অন্য কেউ সাহস করে সামনে চলে আসবে না তো!

ভোটের গুমোট বাতাস না কাটলে হয়তো কিছুই বলা যাবে না। আপাতত ১০ ডিসেম্বর পরবর্তী মনজিল। দেখা যাক না, কী হয়!

পূর্ববর্তি সংবাদ‘এবার উৎসবের মতো ভোট হবে, এ জন্য বিএনপির মনটা একটু খারাপ’
পরবর্তি সংবাদবাংলামোটরে মাদকাসক্ত পিতার হাত থেকে সন্তানের লাশ উদ্ধার