টঙ্গী ট্র্যাজেডি নিয়ে স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম যা বললেন

আবু মুআজ ।।

টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে গত শনিবার (১ ডিসেম্বর) ওলামায়ে কেরাম, মাদরাসার ছাত্র ও তাবলিগি সাথীদের ওপর সাদপন্থী উগ্র এতায়াতিদের নৃশংস হামলায় শত শত আলেম এবং প্রায় পাঁচ হাজার ছাত্র আহত হয়েছেন। সেদিন সাদপন্থীদের বর্বর হামলায় অনেকে মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন।

সাদপন্থীদের এই ন্যাক্করজনক ঘটনা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষ হতবাক হয়ে যায়। মানুষের মুখে মুখে প্রশ্ন- দীনের লেবাসধারী কোনো মুসলমান এভাবে হামলা করতে পারে! এই বর্বর হামলার পর সারা দেশের মানুষ বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। সাদপন্থীদের এই ন্যাক্করজনক হামলায় সাধারণ মানুষের মনে বিরাজ করছে ঘৃণা ও ধিক্কার।

ইজতেমার মাঠে সাদপন্থীদের সেদিনের নৃশংস হামলার কারণে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া জানতে আমরা কথা বলি টঙ্গীর স্থানীয় তিনজন আলেমের সঙ্গে।

টঙ্গী দারুল উলুমের মুহতামিম মুফতি মাসউদুল করীম বলেন, ‘সাদপন্থীদের এই হামলায় সবশ্রেণির মানুষের মনে এতটাই রক্তক্ষরণ হচ্ছে, তারা ঘৃণা ও ধিক্কার জানানোর কোনো ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না।

‘সাদপন্থী যেসব লোক এতদিন নীরব ও নিষ্ক্রিয় ছিলেন, এই ঘটনার পর তারা ওলামায়ে কেরামের পরামর্শে পরিচালিত তাবলিগের পক্ষে কাজ করছেন। সাদপন্থী উগ্র এতায়াতি কিছু লোক এই নৃশংস হামলার পর গা ঢাকা দিয়েছে। তাদের অনেকের মধ্যে লজ্জা ও অনুশোচনা কাজ করছে। কয়েকজন ইতোমধ্যে বিভিন্ন আলেম-ওলামার সঙ্গে দেখা করে তওবা করেছে। তারা বলেছে, আমরা ভুল পথে ছিলাম। আমাদেরকে এ ধরনের ঘটনার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। আমরা আগে বুঝতে পারিনি।

সাধারণ মানুষ বলছে, সাদপন্থীরা এই হামলার মাধ্যমে শুধু তাবলিগকে নয়, সারা বিশ্বে ইসলাম ও মুসলমানদের লজ্জিত করেছে।’

আলেম-লেখক সৈয়দ শামসুল হুদা বলেন, ‘সাদপন্থীদের এই হামলার বিষয়টা সাধারণ মানুষ কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। সাদপন্থীদের এমন ঘৃণিত কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ খুব কষ্ট পেয়েছেন। মানুষের মাথা ফাটিয়ে এবং আলেমদের সঙ্গে বিরোধিতা করে সাদপন্থীরা দীনের কী কাজ করবে?’

দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ-এর সহ-সম্পাদক এবং স্থানীয় মসজিদের খতিব মাওলানা আলী হাসান তৈয়্যব বলেন, ‘টঙ্গী মাঠের এই ঘটনায় সাধারণ মানুষ অত্যন্ত বিস্মিত। আলেমদের ওপর কোনো মুসলমান এভাবে হামলা করতে পারে! তাবলিগের মতো দীনের লেবাসধারী কোনো জামাত এমন নৃশংসভাবে মারধর করতে পারে! তাদের এমন হামলার বিষয়টা তারা কোনোভাবেই মানতে পারছেন না। তারা নিন্দা জানানোর ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন।’

পূর্ববর্তি সংবাদ‘বেছে বেছে মনোনয়ন বাতিলের অভিযোগ ভিত্তিহীন’
পরবর্তি সংবাদশির দেগা—নেহি দেগা আমামা