নির্বাচনের প্রস্তুতি নিলেও উচ্ছ্বাস নেই কেন দলগুলোতে?

আতাউর রহমান খসরু ।।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর বাকি ২৩ দিন। নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো। কিন্তু উচ্ছ্বাস নেই রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে। নির্বাচনের আমেজটাই যেন তৈরি হচ্ছে না কিছু্তেই। গত এক মাস আগেও যে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন নিয়ে তুমুল হৈ চৈ করছিলো এখন তাদের অনেকেই এখন চুপসে আছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জোটের রাজনীতির সাথে জড়িত দলগুলোর প্রত্যাশা-প্রাপ্তির হিসাবে এখনও অনিশ্চয়তা থাকায় তারা সরব হতে পারছেন না রাজনীতিতে। আর একক দলগুলোর মধ্যে রয়েছে নির্বাচন নিয়েই শঙ্কা। অনেকেরই ধারণা ইসি ও সরকারের আচরণে বিরোধী শিবির অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যাপারে হতাশ।

এছাড়াও আইনী বাধ্য-বাধকতা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা তাদের ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুলছে।

নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন বাকি অথচ ভোটার ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস নেই। এর কারণ জানতে চাইলে ইসলামী ঐক্যজোটের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আলতাফ হোসাইন বলেন, ‘রাজনীতিতে কিছু গুমোট ভাব ও অনিশ্চয়তা এখনও রয়েছে। নির্বাচন হবে কি হবে না, হলে এমন হবে এমন অনেক প্রশ্নের উত্তর জনগণ জানে না। তাই তাদের ভেতর নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়নি।’

ইসলামী ঐক্যজোটের এই নেতা নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘আমি এই মাত্র গ্রাম থেকে ফিরলাম। আগে সব সময় দেখেছি নির্বাচন আসলে মানুষের উৎসাহ-উদ্দীপনা বেড়ে যায়। তারা গভীর রাত পর্যন্ত চায়ের দোকানে বসে রাজনৈতিক আলোচনা করে। কিন্তু এবার দেখলাম মানুষের ভেতর নির্বাচন বিষয়ে তেমন কোনো আগ্রহ নেই।’

খেলাফত মজলিসের প্রচার সম্পাদক আবদুল জলিলও মনে করেন, নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি না হওয়ার কারণেই মানুষের মধ্যে নির্বাচনের আমেজ নেই।

সব দল নির্বাচনে অংশ নেয়ার পরও পরিবেশ ফিরছে না কেন? উত্তরে আবদুল জলিল বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ও সরকারের আচরণ, বিরোধী দলকে সক্রিয় হতে বাধা দেয়া ইত্যাদি কারণে সব দল অংশ নেয়ার পরও নির্বাচনী উচ্ছ্বাস নেই মানুষের মধ্যে। জনগণ যখন নির্বাচনে তাদের ভূমিকা কি হবে তা নিয়ে শঙ্কায় থাকে তখন উচ্ছ্বাস তৈরি না হওয়ার-ই কথা।’

তবে প্রতীক বরাদ্দের পর জনগণের মধ্যে নির্বাচনের আমেজ তৈরি হলেও হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচনের যথাযথ পরিবেশ তৈরি না হলেও ইসলামী ঐক্যজোট ও খেলাফত মজলিস উভয় দলই তাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন এই দুই নেতা। নির্বাচনের পরিবেশ ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সংশয় থেকে গেলেও আইনী বাধ্য-বাধকতা ও কর্মীদের সক্রিয় করতে ই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে দল দুটি।

শুধু ইসলামী ঐক্যজোট বা খেলাফত মজলিস নয়; বাংলাদেশের নিবন্ধিত অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের জন্য এবারের নির্বাচনে অংশ নেয়ার ব্যাপারে আইনী বাধ্য-বাধকতা রয়েছে। কেননা নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী পরপর দুটি নির্বাচনে অংশ না নিলে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল হয়ে যাবে।

অবশিষ্ট দিনগুলোতে নির্বাচন কমিশন তাদের নিরপেক্ষতা প্রমাণ করে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারবেন কিনা বা তারা তা চাইবেন কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে এই দুই নেতার।

তবুও তাদের প্রত্যাশা নির্বাচন কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরিতে সচেষ্ট করে এবং সরকার তাতে সহযোগিতা করবে। সর্বোপরি দেশের সাধারণ ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবে।

পূর্ববর্তি সংবাদটঙ্গীতে হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে কুলিয়ারচরে বিক্ষোভ
পরবর্তি সংবাদপ্রার্থিতা ফিরে পেলেন বিএনপির ৩৮ প্রার্থী