উলামায়ে কেরাম যদি তাবলিগের শত্রু হন তাহলে বন্ধুটা কে?

গাজী ইয়াকুব ।।

মাস শেষে যারা পাঁচ দশ কিংবা পনের হাজার টাকা বেতন পেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য মসজিদ-মাদরাসায় কিংবা খানকাতেই পড়ে থাকেন, তারা সবসময় সাধারণ মানুষের প্রতি এই কামনাটুকুই করতেন যে, সাধারণ মানুষ যেন দুনিয়ার সমস্ত ঐশর্য ভোগ করার পরেও দ্বীনের পথেই থাকেন। তারা ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, প্রফেসর সবকিছুই হোক, সাথে সাথে দ্বীনের উপরেও যেন থাকে-এটাই তারা কামনা করতেন।

একদিন আমাদের ওস্তাদে মুহতারাম লালবাগ জামেয়ার বর্তমান শাইখুল হাদীস মাওলানা আব্দুল হাই সাহেব বোখারি পড়ানোকালীন মাদরাসার বাইরে থেকে মিছিলের আওয়াজ পেয়ে ছাত্রদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ভাই, মিছিলটা যে শুরু হইছে, গিয়ে দেখো কেউ সামনের কাতারে দাঁড়িয়ে ব্যানার ঠিক করতেছেন, আবার কেউবা মাঝখানে দাঁড়িয়ে শ্লোগান ধরছেন, আবার কেউবা সামনে পিছনে থেকে রিকশা গাড়ি সরাচ্ছেন। একেকজনের একেকটা কাজ।

তেমনি জমিন ঠিক রাখার জন্য আল্লাহ পাক কাউকে ডাক্তার,ইন্জিনিয়ার, পাইলট, আবার কাউকে হাফেজ, আলেম, মুফতি, তাবলিগের মুবাল্লিগ, খানকার পীর বানিয়েছেন। সব ঠিক আছে। কিন্তু যখনই তোমরা এই হাদিসের দরস কিংবা কুরআনের সবক ছেড়ে দিবে তখনই সব উলটপালট হয়ে যাবে। তাবলিগের কঠিন অনুসারীও গোমরাহ হয়ে যাবে। তোমরা দরসের পাশাপাশি তাবলিগেও সময় লাগাও। নতুবা কিছুদিন পর আওয়ামরা ফতোয়া নেওয়া দূরের কথা, উল্টো তোমাদেরকেই ফতোয়া দিবে।

আজ এতোদিন পরে তাবলিগের এই অবস্থার জন্য কমবেশ আমরাও দায়ী। আমাদের দেশের তাবলিগের মাঝে যদি উলামাদের প্রভাব বেশি বেশি থাকতো তাহলে দারুল উলুম দেওবন্দের ফতোয়ানুযায়ী পথভ্রষ্ট সাদ সাহেব এবং বাংলাদেশি ওয়াসিফ-নাসিমের প্রতি সাধারণ মানুষের এতোটা ভক্তি থাকতো না।

একবার বারিধারা মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মাওলানা নাজমুল হাসান সাহেব মসজিদে নববীতে দারুল উলুম দেওবন্দের প্রিন্সিপাল মাওলানা নোমানী সাহেবের সাথে মাওলানা সাদ সাহেব প্রসঙ্গে কথা তুললে হজরত বললেন, মাওলানা সাদ সম্পর্কে কী বলবো! উনি তো গতকাল রুজু করলে আজ আবার নতুন আরেক কথা বলে ফেলেন, যা কিনা কুরআন হাদীস ইজমা কিয়াস সবকিছু বিরোধী। এই মানুষটাকে কতো সংশোধন করা যায়! সুতরাং যে কোনোভাবে উনি আমিরের পদ ছেড়ে দিয়ে সকল মুরুব্বির সিদ্বান্তে চলুক। উনারও ফায়দা হবে, সেই সাথে আওয়ামেরও ফায়দা হবে। নতুবা নিত্যনতুন ফিতনা আসতেই থাকবে।

আমরা তো কস্মিনকালেও ব্যক্তি সাদ সাহেবের বিরোধিতা করছি না। আমরা বিরোধিতা করছি তার নিজস্ব উদ্ভাবিত কথামালার বিরুদ্ধে, যা দ্বীনের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এখনো যদি তিনি মনগড়া কথাবার্তা ছেড়ে দিয়ে সবকিছু স্পষ্ট করে নেন তাহলে তো আমাদের কোনো আপত্তি নেই।

মাওলানা নোমানী সাহেবের কথার পর আমি বলতে চাচ্ছি, বাংলাদেশের সাথীদের সমস্যা হলো, তারা এটাকে উম্মতের সমস্যা মনে না করে ব্যক্তিগত সমস্যা হিসাবে দেখাতে পরিস্থিতি আজ এতদূর গড়িয়েছে এবং তাবলিগ আর আলেমদের মাঝে দূরত্ব তৈরি করতে কেউ কেউ মতবিরোধের মাঝে আরো ঘি ঢালছে।

নয়তো সেদিন যেভাবে নিরীহ নিরপরাধ মাদরাসা ছাত্রদের উপর হামলা হয়েছে তা কোনো সভ্য সমাজের কর্ম হতে পারে না। যারা সারাজীবন বেদআতি ভান্ডারী মাজারপূজারীদের কাছ থেকে তাবলিগি ভাইদেরকে মায়ের আঁচলের মতো হেফাজত করেছে, আজ তাদেরকে জাহেলের মতো হেফাজতি পাকিস্তানপন্থী বলে গালি দিয়ে সরকার ও জনগণের অনুকম্পা লাভের আশায় হিউমার ছড়াচ্ছে!

এতকিছুর পরেও আলেমরা তাবলিগ ছাড়বে না। কেননা এটা হচ্ছে নবুয়াতি মিশনের অঙ্গ। যুগে যুগে আলেমরা এর চেয়েও বেশি কুরবানি দিয়ে আসছেন। তারপরও দ্বীনের কাজ ছাড়েননি। তাবলীগ ছাড়ার তো প্রশ্নই আসে না।

এই অবস্থার নিরসনে আলেমদেরকে বেশকিছু ভূমিকা নিতে হবে। তন্মধ্যে সপ্তাহে একদিন হলেও ভাগ ভাগ হয়ে মহল্লা মহল্লায় গাশত করতে হবে। নতুন নতুন সাথী তৈরি করতে হবে। এর দ্বারা সবারই ফায়দা। সাধারণ মানুষ মাদরাসার আবেদনটাও বুঝবে, সেই সাথে তাবলিগের দরদও সবাই বুঝবে। নয়তো আগামীতে কওমিরা শুধু কাদিয়ানি, হিজবুত তাওহিদ, বেরলভি, রেজভিসহ সকল ফিতনাবাজ গোষ্ঠীর সাথে সাথে নব্য সাদিয়ানি ফিতনাকেও মোকাবেলা করতে হবে।

পূর্ববর্তি সংবাদদ্রুত চার্জ হওয়ার নতুন স্মার্টফোন আনছে অপো
পরবর্তি সংবাদ২০৬ আসনে বিএনপির যারা ধানের শীষ পেলেন