আল আমিন সংস্থার তিন দিনব্যাপী মাহফিল : চট্টগ্রামের ধর্মপ্রাণ মানুষের চেতনার ফোয়ারা

ওবাইদুল্লাহ ওবাইদ ।। চট্টগ্রাম থেকে

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দীনি ও সেবামূলক সংগঠন আল আমিন সংস্থার ব্যবস্থাপনায় ও আল্লামা আহমদ শফী সেবা সংস্থার সহযোগিতায় হাটহাজারী পার্বতী মডেল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় ময়দানে গত ৫ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক কেরাত মাহফিল এবং ৬ ও ৭ ডিসেম্বর তাফসিরুল কুরআন মাহফিল সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কেরাত মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শায়খ আমহদ বিন ইউসুফ আল আজহারী। আরো উপস্থিত ছিলেন তাঞ্জানিয়ার প্রখ্যাত কারী শায়খ রজাই আইয়ুব, ভারতের খ্যাতিমান কারী শায়খ তৈয়ব জামালসহ আরো অনেকে।

এছাড়াও কেরাত পরিবেশন করেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত কারী সাইদুল ইসলাম আসাদ, রিফাত হুসাইন, আবু রাইহান, আরাত হুসাইন ও জাহেদুল ইসলাম সাইদ।

দ্বিতীয় দিন যথারীতি সময়ে তাফসিরুল কুরআন মাহফিল আরম্ভ হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসার শাইখুল হাদিস এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা ‍জুনাইদ বাবুনগরী।

তিনি ইজতেমা মাঠের ঘটনা বিষয়ে তার বক্তব্যে বলেন, যে ময়দানে আল্লাহ ওয়ালাদের চোখের অশ্রু ঝরতো, সে পবিত্র ময়দানকে সাদপন্থী সন্ত্রাসীরা রক্তাক্ত করেছে। হাজার হাজার আলেমকে আহত করেছে। ইতিহাসের একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে তারা। এ ঘটনার সাথে বিশ্বসন্ত্রাস ইসরাইল ও ইহুদিদের হাত আছে। এর পেছনে তাদের গভীর ষড়যন্ত্র আছে।

আল্লামা বাবুনগরী আরও বলেন, আজ সারা বিশ্বের মুসলমানদের শুধু মতানৈক্য, মারামারি আর হানাহানি! এ নাজুক পরিস্থিতিতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের বিকল্প নেই। তবে এর আগে ঐক্যের ভিত্তি ঠিক করতে হবে। আর ঐক্যের ভিত্তি হচ্ছে কুরআন ও হাদিস। ঐক্যের ভিত্তি ঠিক না থাকলে সে ঐক্যের কোনো মূল্য নেই।
সারা বিশ্বে দুইশো কোটি মুসলামানদের ঐক্যের দ্বারা সারা পৃথিবীতে শান্তি আসতে পারে।

তাফসিরুল কুরআনের প্রথম দিন আরো বক্তব্য রাখেন মাওলানা হাফিজুর রহমান সিদ্দিকী কুয়াকাটা, মাওলানা হাসান জামিল, মাওলানা মুস্তাকুন্নবি, মাওলানা নাসির উদ্দিন যুক্তিবাদীসহ আরো অনেকে।

মাহফিলের শেষদিন বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয় মাহফিলস্থল। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসার পরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রধান আমির আল্লামা আহমদ শফী।

তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, শুকরানা মাহফিলে আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে মুসাফাহা করিনি। কিছু কিছু আলেম ও সাধারণ মানুষ আমার নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে। মুসাফাহা বলা হয় দুই হাতের তালু একসাথে মেলানোকে, আর এক হাতের তালু মিলালে তাকে বলা হয় হ্যান্ডশেক, মুসাফাহা নয়। আর প্রধামন্ত্রীর হাতের সাথে আমার শুধু এক হাত লেগেছিল।

আল্লামা শফী আরও বলেন, সেদিন আমি মাথায় রুমাল দিয়ে বসা ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী আমার নিকট এসে চলে গেলেন। কিছুক্ষণ পর কেউ তাঁকে আবার নিয়ে এসে আমাকে ইশারা করলো। আমি একহাত দিয়ে ইশারা করে পাশের খালি চেয়ারে প্রধানমন্ত্রীকে বসতে বললাম। আর তখন তিনি আমার এক হাতের ওপর হাত রাখলেন, এটাকে মুসাফাহা বলা হয় না।

স্বীকৃতি বিষয়ে আল্লামা আহমদ শফী বলেন, কিছু কিছু আলেম সরকারি স্বীকৃতির বিরোধিতা করছে। স্বীকৃতির প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করছে। অথচ তারা সরকারি সব সুবিধা ভোগ করে। আমরা তো স্বীকৃতি নেইনি। সরকার আাদেরকে ডেকে, আমাদের সব শর্ত মেনে নিয়ে স্বীকৃতি দিয়েছে।

আল আমিন সংস্থার তিন দিনব্যাপী মাহফিলের শেষদিনে আরও আলোচনা করেন, মাওলানা মামুনুল হক, মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মাওলানা আব্দুল বাসেত খান, মাওলানা ইসমাইল খান প্রমুখ প্রখ্যাত ওলামায়ে কেরাম।

মাওলানা আব্দুল বাসেত খান সাহেবের ‍মুনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে মাহফিল সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

পূর্ববর্তি সংবাদমুসলিম নারীকে বোরকা পরতে বাধা দেওয়া সাংবিধানিক অধিকার হরণ : মাওলানা মাহফুজুল হক
পরবর্তি সংবাদমির্জা ফখরুলের গাড়িতে হামলা, চালক আহত