কাকরাইলে বিদেশিদের পাসপোর্ট ও জিনিসপত্র আটকে রাখার নেপথ্য-কাহিনি

আবরার আবদুল্লাহ ।। 

গতকাল (৮ ডিসেম্বর) ‘কাকরাইল মসজিদে বিদেশিদের পাসপোর্ট আটকে রেখেছে সাদবিরোধীরা’ শিরোনামে রিপোর্ট প্রকাশ করে ঢাকার একটি অনলাইন গণমাধ্যম। রিপোর্টে অভিযোগ করা হয়, সাদবিরোধীরা কাকরাইল মসজিদে বিদেশ থেকে আসা তাবলিগ কর্মীদের পাসপোর্ট, টাকা ও মালামাল আটকে রেখেছেন এবং তারা বিদেশি তাবলিগ কর্মীদের বিভিন্ন স্থানে যেতেও বাধা দিচ্ছেন। অথচ খোঁজ নিয়ে পাওয়া গেছে এর সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র।

ওই রিপোর্টে পাসপোর্ট ও নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ফেরত না পাওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার আট তাবলিগ কর্মী দেশে ফিরতে পারছেন না বলেও অভিযোগ করা হয়।

রিপোর্টে ঘটনার পক্ষে কট্টর উলামা বিদ্বেষী আবদুল্লাহ মনছুরসহ একাধিক সাদপন্থীর বক্তব্য নেয়া হয়।

ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ইসলাম টাইমসের অনুসন্ধানে ঠিক উল্টো চিত্র বের হয়ে আসে। কাকরাইল মসজিদে ‘আমানতখানা’-এর (জমা রাখা জিনিসপত্র) দায়িত্বে থাকা একাধিক ব্যক্তি এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট আখ্যা দেন।

তারা বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির পাসপোর্ট বা মালামাল আটকে রাখা হয়নি। বরং ইন্দোনেশিয়ার যে জামাতের কথা বলা হয়েছে তারা গত ৬ ডিসেম্বর সব জিনিসপত্র নিয়ে দেশে ফিরে গেছেন।’

উপরন্তু ৬ ডিসেম্বর দেশে ফিরে যাওয়ার পর ৮ ডিসেম্বর পাসপোর্ট আটকে রাখার সংবাদ প্রকাশ পাওয়ায় তারা বিস্মিত হয়েছেন। তাদের ভাষায়, এই সংবাদ যে সর্বতকরণে মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ ৬ ডিসেম্বর তারা দেশত্যাগ করার পর ৮ ডিসেম্বর তাদের নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা।

ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে কাকরাইলের ‘আমানতখানা’র দায়িত্বে থাকা মাওলানা ফিরোজ ইসলাম টাইমসকে বলেন, যে বিদেশি জামাতের কথা বলা হয়েছে তাদের ফ্লাইট ছিলো ৬ ডিসেম্বর। ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর তারা সামানা নিয়ে পায়ে হেঁটে বের হচ্ছিলেন। তখন আমাদের সাথীরা তাদের ডেকে আমার কাছে নিয়ে আসেন। কারণ, তাদের ভাষা আমি জানি। সাথীদের উদ্দেশ্য ছিল, তাদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করা। কাকরাইলে বিদেশি মেহমানদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা আছে।

আমি তাদের জিজ্ঞেস করি, আপনারা কোথা থেকে এসেছেন এবং কোথায় যাবেন? তারা জানালেন, আমরা শ্যামলির একটা মসজিদে আছি। ৬ ডিসেম্বর আমাদের ফ্লাইট। আমরা ব্যাগ-সামানা নিতে এসেছি। আমি তাদের বোঝালাম, ১ ডিসেম্বর টঙ্গীর ইজতেমার মাঠে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। তার জের ধরে সারা দেশে আরও এমন অনেক ঘটনা ঘটছে। সুতরাং আপনাদের কাকরাইলে এসে থাকাই নিরাপদ। আমরাই আপনাদের ৬ ডিসেম্বর গাড়ি দিয়ে বিমানবন্দর পৌঁছে দেবো। তবে আপনারা চাইলে এখন জিনিসপত্র নিয়ে যেতে পারেন। তখন তারাই বললেন, আপনি ভালো কথা বলেছেন। আমরা বরং শ্যামলি থেকে বাকি সামানা (জিনিসপত্র) এখানে নিয়ে আসি।

তাদের সঙ্গে আমাদের কথা এতোটুকুই। এরপর তারা আর আসেননি। আমরা খবর পেয়েছি, সাদপন্থীরা তাদের আটকে রাখে যেন কাকরাইলে ফিরতে না পারে এবং তাদের বোঝায়, তোমাদের সামানা ফেরত পাবে না। এটাকেই তারা মিথ্যা ও বানোয়াট গল্প বানিয়ে প্রচার করেছে।

এরপর ইন্দোনেশিয়ার জামাতটি ৬ তারিখ এসে তাদের জিনিসপত্র নিয়ে দেশে চলে গেছে।

মাওলানা ফিরোজ আরও বলেন, ‘আমরা কোনো বিদেশি জামাতকেই বাধা দেইনি এবং দিচ্ছি না। বরং তাদেরকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি। আর আমাদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট আটকে রাখার যে অভিযোগ করা হয়েছে তাও সম্পূর্ণ মিথ্যা। পাসপোর্ট তাদের সাথেই ছিলো। কাকরাইলে শুধু তাদের সামানা ছিল।’

‘কাকরাইলের ব্যবস্থাপনাই এমন যে, এখানে কারো কোনো সামানা আটকে রাখা বা খেয়ানত করার কোনো সুযোগ নেই। ব্যাংকের মতো তারা জিনিস রেখে কার্ড নিয়ে যান এবং কার্ড দেখানোর সাথে সাথে তাদের তা ফেরত দেয়া হয়।’ বলেন মাওলানা ফিরোজ।

 

পূর্ববর্তি সংবাদ৪ টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী বাড়ি গেলেন
পরবর্তি সংবাদকেন অব্যাহতি দেওয়া হলো খতিব মুফতি মনোয়ারকে