কেন অব্যাহতি দেওয়া হলো খতিব মুফতি মনোয়ারকে

ইসলাম টাইমস ডেস্ক : টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে (শনিবার ১ ডিসেম্বর) ওলামায়ে কেরাম, ছাত্র ও তাবলিগ সাথীদের ওপর নৃশংসভাবে সাদপন্থী উগ্র এতায়াতিদের হামলার প্রতিবাদ ও ভিডিও করায় বারিধারার বাইতুল আতীক কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি মনোয়ার হোসেনকে অব্যহতি দেওয়া হয়েছে।

কোনো আনুষ্ঠানিক বৈঠক ও সিদ্ধান্ত ছাড়াই ৭ ডিসেম্বর শুক্রবার তাকে ফোনে অব্যাহতির কথা জানানো হয়।

টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে সাদপন্থী উগ্র এতায়াতিদের বর্বর হামলার পর সারা দেশ উত্তাল হয়ে ওঠে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার নিন্দা জানিয়ে খতিব মুফতি মনোয়ার আলোচনা করেন এবং সেই আলোচনার একটি ভিডিও রেকর্ড করেন।

জানা গেছে, বাইতুল আতীক মসজিদের মুসুল্লি সাদপন্থী আলী রেজা (শনিবারে) ইজতেমার মাঠে নৃশংস হামলাকারীদের সঙ্গে ছিলেন। এরপর থেকে খতিব মুফতি মনোয়ারের সঙ্গে তার স্বাভাবিক সম্পর্ক ছিল না। একপর্যায়ে মসজিদ-কমিটির সভাপতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খতিব মনোয়ার মসজিদে তাদের কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বলেন।

এতে সাদপন্থী উগ্র এতায়াতিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা রটাতে থাকে, খতিব সাহেব তাবলিগ বন্ধ করতে চাচ্ছে। তাকে অব্যাহতি দিতে হবে। এরপর তারা প্রভাবশালী এক রাজনৈতিক নেতার ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে প্রভাব খাটাতে শুরু করে। মুফতি মনোয়ারের তাবলিগ সংকট বিষয়ক একটি ভিডিওর কর্তিত অংশ ওই মসজিদের মুসুল্লিদের কাছে পাঠিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে থাকে। অপরদিকে খতিবকে অব্যাহতি দিতে কমিটির সভাপতির ওপর চাপ সৃষ্টি করে। সভাপতি শুক্রবার এশার নামাযের পূর্বক্ষণে খতিব মনোয়ারকে মসজিদে আসতে মানা করেন।

সাদপন্থী উগ্র এতায়াতিরা রাজনৈতিক নেতা ও মসজিদ কমিটিকে ভুল বুঝিয়ে চক্রান্ত করে মুফতি মনোয়ার হোসেনকে অব্যাহতি দেওয়ায় স্থানীয় মুসুল্লি এবং আলেমসমাজের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১ ডিসেম্বর টঙ্গীর ময়দানে ইজতেমার প্রস্তুতিমূলক কাজ করা ওলামায়ে কেরাম, মাদরাসার ছাত্র ও তাবলিগ সাথীদের ওপর নৃশংস হামলা চালায় সাদপন্থী উগ্র এতায়াতিরা। এতে শতাধিক আলেম এবং কয়েক হাজার ছাত্র ও তাবলিগি সাথী আহত হন। অনেকে এখনও চিকিৎসাধীন।

পূর্ববর্তি সংবাদকাকরাইলে বিদেশিদের পাসপোর্ট ও জিনিসপত্র আটকে রাখার নেপথ্য-কাহিনি
পরবর্তি সংবাদউচ্চ পর্যায়ের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দুদকের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলেছে টিআইবি