চীনা ও ভারতীয় বিরোধী সমাবেশে অনন্য নজির স্থাপন করলো মালয়েশীয় মুসলিমরা

মুকীম আহমাদ, মালয়েশিয়া থেকে : ‘কোনো উত্তেজনাপূর্ণ আচরণ নয়, তেমনি প্রতিহিংসামূলক কোনো বক্তব্যও দেবেন না কেউ। আমরা একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে চাই, যাতে করে আমাদের পদযাত্রার ইতিবাচক প্রভাব সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ে।’

গতকাল (৮ ডিসেম্বর) মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে আয়োজিত অ্যান্টি-আইকার্ড (International Convention on the Elimination of All Forms of Racial Discrimination (ICERD) সমাবেশে আগত সবাইকে এভাবেই লাউড স্পিকারে সতর্ক করছিলেন সমাবেশের সমন্বয়ক কামরুজ্জামান মুহাম্মদ।

আন্দোলন সমন্বয়কারী কামরুজ্জামান আন্দোলনকারীদের রাস্তা ও আশপাশের এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখতেও আহ্বান জানান।

তিনি আন্দোলনকারীদের বলেন,  ‘দেশবাসীর সামনে ভালো উদাহরণ স্থাপন করুন। যদি রাস্তা ও আশপাশে কোনো ময়লা-আবর্জনা দেখেন তবে সেগুলো নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলুন। নিজেদের ব্যবহৃত জিনিস ঘরে নিয়ে যাবেন। যাই করুন না কেন কোথাও অপরিচ্ছন্ন রাখবেন না।’

তার এ ঘোষণার পর আন্দোলনকারীরা সমাবেশস্থল এবং আশপাশের সকল রাস্তা নিজেদের উদ্যোগে পরিষ্কার করতে লেগে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো এলাকা তারা পরিচ্ছন্ন করে তোলেন। নিজেদের ব্যবহৃত পানির বোতল, খাবারের প্যাকেট, প্ল্যাকার্ড, লিফলেট, কাগজের টুকরোসহ যাবতীয় আবর্জনা নির্দিষ্ট ডাস্টবিন কিংবা নিজেদের সঙ্গে করে বাড়ি নিয়ে যান।

আরও পড়ুন : মালয়েশিয়ার মুসলিমরা শুরু করেছে ভারতীয় ও চীনা বিরোধী আন্দোলন

আন্দোলনকারীদের এমন সুশৃংখল এবং উদাহরণীয় কাজকে সাধুবাদ জানিয়েছে সে দেশের সবাই। ভবিষ্যতে তাদের এ পরিচ্ছন্ন মনোভাব অন্য সবার জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেন অনেকেই।

মালয়েশিয়ার বিশিষ্ট মানবাধিকারকর্মী আমবিগা শ্রীনিভাসান আন্দোলনকারীদের প্রশংসা করে বলেন, লক্ষাধিক মানুষের সমাগমের পরও ‘দাতারান মালয়েশিয়া’ স্বাধীনতা চত্বর একদম পরিচ্ছন্ন রেখে চলে যাওয়াটা এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

উল্লেখ্য, গতকাল (৮ ডিসেম্বর) মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে সে দেশের ভারতীয় তামিল এবং চীনা বংশোদ্ভূতদের সম-অধিকার প্রদানের প্রতিবাদে মালয়েশীয় মুসলিমদের এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সমাবেশে নেতৃত্ব দিচ্ছে দেশটির প্রভাবশালী ইসলামি রাজনৈতিক দল পাস পার্টি, আমনো এবং দাওলাহ। তারা অমুসলিমদের সমঅধিকার প্রদানের প্রতিবাদে রাজধানীতে ৫ লাখ লোক সমাগমের ঘোষণা দেয়। ঘোষণার পর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দলে দলে লোকজন রাজধানীতে আসতে শুরু করে এবং রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে সমবেত হয়।

গতকাল সন্ধ্যার পর শান্তিপূর্ণভাবে এ সমাবেশের সমাপ্তি ঘটে।

পূর্ববর্তি সংবাদইখলাস ও ঐক্য ছাড়া দ্বীনি কাজে কামিয়াবি আসে না : শায়েখ মুফতি জামালুদ্দীন
পরবর্তি সংবাদসৌদি বাদশাহর আমন্ত্রণে সাড়া দেননি কাতারের আমির