তাবলিগ সংকট বিষয়ে আগামীকাল হাটহাজারীতে আলেমদের বৈঠক : যেসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক : টঙ্গীর ইজতেমার মাঠে সাদপন্থী সন্ত্রাসীদের হামলার প্রেক্ষিতে উলামায়ে কেরামের করণীয় নির্ধারণে আগামীকাল চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বসছেন দেশের শীর্ষ আলেম ও তাবলিগি মুরব্বিগণ।

আগামীকাল সকাল ১০ হাটহাজারী মাদরাসার সেমিনার হলে এই বৈঠকে হওয়ার কথা রয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের মজলিসে আমেলা (নির্বাহী কমিটি), মজলিসে খাস, সম্মিলিত কওমি শিক্ষাবোর্ড আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিয়াতিল কওমিয়ার শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, তাবলিগ জামাতের শুরা সদস্যগণ এবং সারা দেশের আলেম প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করবেন।

বেফাকের সহ-সভাপতি ও জামিয়া ইসলামিয়া হুসাইনিয়া গহরপুরের প্রিন্সিপাল মাওলানা মুসলেহুদ্দীন রাজু ইসলাম টাইমসকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন : দাবি মেনে নেয়ার আগে সরকারের সাথে আর কোনো বৈঠক নয় : বেফাক

আগামীকালের বৈঠকে ইজতেমা মাঠে হামলাকারীদের বিচার তরান্বিত করতে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা জোরদার করা, হামলার ঘটনায় সম্পৃক্তদের তাবলিগের কাজ থেকে অব্যহতি এবং যথা সময়ে আগামী ইজতেমার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা বিষয়ক আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন বৈঠকে আমন্ত্রিত একাধিক সূত্র।

তবে বৈঠকে ইজতেমার প্রস্তুতি দ্রুত সম্পন্ন করা এবং তা সফল করতে সারা দেশে উলামায়ে কেরাম কি কি ভূমিকা রাখতে পারে সে বিষয়ের বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে।

মাওলানা মুসলেহুদ্দীন রাজু বলেন, আমার ধারণা ইজতেমা সফল করার উপরই বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে। মুরব্বিদের কথা থেকে এমনটিই বোঝা গেছে।

আগামীকালের বৈঠকে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইজতেমার পূর্ব ঘোষিত তারিখেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে জানিয়েছেন অপর একটি সূত্র।

উল্লেখ্য, গত ৬ ডিসেম্বর বেফাকের আমেলা, ঢাকা ও ঢাকার পার্শ্ববর্তী মাদরাসাগুলোর দায়িত্বশীলদের নিয়ে একটি জরুরি বৈঠক হয়। বৈঠকে বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তাগণ ৩টি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তাহলো, ১. উলামায়ে কেরামের দাবি মেনে নেয়ার আগে সরকারের সঙ্গে আর কোনো বৈঠকে বসা হবে না। ২. শুক্রবার সারা দেশে বিক্ষোভ পালন করা এবং মসজিদে মসজিদে এই বিষয়ে আলোচনা করা। ৩. আগামী মঙ্গলবারে হাটহাজারীতে আল্লামা আহমদ শফীর উপস্থিতিে সারা দেশের প্রতিনিধিত্বশীল আলেম ও তাবলিগি মুরব্বিদের বৈঠক করা।

আরও পড়ুন : ইজতেমার মাঠে সাদপন্থীদের হামলা নিয়ে যা বললেন দেশের শীর্ষ আলেমরা

সেই হিসাবে নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর কারণ অনুসন্ধানে ইসলাম টাইমস বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছে যে, টঙ্গীর হামলার কারণে সাধারণ আলেম উলামা ও তাবলিগি সাথীদের মধ্যে বিরাজমান অস্বস্তি দ্রুততম সময়ে দূর করতেই একদিন আগে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সরকারও বারবার যোগাযোগ বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির অনুরোধ করেছেন শীর্ষ আলেমদের। যাতে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে এর কোনো প্রভাব না পড়ে।

পূর্ববর্তি সংবাদপ্রার্থিতা ফিরে পেতে খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করতে হবে : ওবায়দুল কাদের
পরবর্তি সংবাদশামীম ওসমানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে যা বললেন মুফতি মনির কাসেমি