বিএনপি নেতা-কর্মীদের ক্ষোভকে যেভাবে দেখছেন ড. আহমদ আবদুল কাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক : হবিগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপি’র চারবারের প্রার্থী ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ মো. ফয়সাল। বিএনপি তাকে ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ এবং ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়ন প্রদান করেন কিন্তু প্রতিবারই তিনি পরাজিত হন। তাই এবার ২০ দলীয় জোট মনোনয়ন দিয়েছে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব অধ্যাপক ড. আহমদ আবদুল কাদেরকে। ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছেন তিনি।

বারবার পরাজিত হলেও জোটের এই সিদ্ধান্ত মানতে রাজি নন সৈয়দ মো. ফয়সাল এবং তার অনুসারীরা। তারা বলছেন, ধানের শীষ প্রতীক না পাওয়ায় তারা দল থেকে গণপদত্যাগ করবেন। এমনকি তারা ড. আহমদ আবদুল কাদেরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবিও করেন।

তবে তাদের হুমকি ও দাবিকে ভিন্নভাবে দেখছেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব। তিনি মনে করেন বিষয়টি স্বাভাবিক। তার ভাষায়, ‘একজন মানুষ একাধিকবার পরাজিত হলেও তার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায় না। যেহেতু তিনি একাধিকবার নির্বাচন করেছেন তাই এর সুফলও তিনি পেতে চাইবেন এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে আমাকে যেহেতু ২০ দলীয় জোট ধানের শীষ বরাদ্দ দিয়েছে তাই আশা করছি, তারাও আমার পক্ষে কাজ করবেন। কারণ, ধানের শীষের জয় ও পরাজয়ের উপর দল ও জাতির ভাগ্য নির্ভর করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখন এলাকায় আছি। শরিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। তারা বলছেন, দুয়েকদিন সময় দিলে তারা ঠিক হয়ে যাবে। বিএনপির উপজেলা সভাপতির সঙ্গেও আমার কথা হয়েছে। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন।’

ক্ষুব্ধ বিএনপি নেতা সৈয়দ মো. ফয়সালের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি যতো দূর জানি স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা একটু শান্ত্ব হলেই তিনিও ধানের শীষের পক্ষে নামবেন। কারণ, তিনি এবার নির্বাচনই করতে চাননি। স্থানীয় পর্যায়ের নেতারাই তাকে চাপ দিয়ে মাঠে নামিয়ে ছিলো।’

অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদের জনগণকে তার প্রতি আস্থা রাখার আহবান জানিয়ে বলেন, ‘আমি আপনাদেরই সন্তান। এখানেই আমার শৈশব ও কৈশোরের দীর্ঘ সময় কেটেছে। জীবনের প্রয়োজনে আমি ঢাকা থাকলেও হবিগঞ্জের মাটি ও মানুষ থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন ছিলাম না। আপনারা যদি আমাকে নির্বাচিত করেন, তবে আমি রাস্তা-ঘাট, আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনে কাজ করতে চাই। বিশেষত অবহেলিত চা-শ্রমিকদের জন্য আমি কাজ করতে চাই।’

পূর্ববর্তি সংবাদসরকার জনগণকে রক্তপাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে : কর্নেল অলি
পরবর্তি সংবাদইজতেমা মাঠে সন্ত্রাসী হামলার সঠিক তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দাবি করলেন ব্রিটেনের আলেমরা