নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোর-৫ আসনে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সাংসদ মুফতী মোহাম্মদ ওয়াক্কাস। একাধিকবার এই আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ায় তার উপরই আস্থা রেখেছেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।
এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন মনিরামপুর থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ ইকবাল হোসেন। মুফতী ওয়াক্কাস মনোনয়ন পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন তিনি ও তার সমর্থকরা। তাদের অনেকেই গণপদত্যাগের হুমকিও দিয়েছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, তার সমর্থকরাই গতকাল মুফতী ওয়াক্কাসের ছেলে মাওলানা হোসাইন আহমদের গাড়িতে হামলা করে।
মনিরামপুরের সার্বিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনী প্রচারণা বিষয়ে খোঁজ নিতে যোগাযোগ করলে মুফতী ওয়াক্কাসের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তার বড় ছেলে মুফতী রশিদ আহমদ জানান, গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় পুলিশের নজরদারি এড়াতে ফোন বন্ধ করে রেখেছেন তিনি।
আরও পড়ুন : মুফতী ওয়াক্কাসকে খুঁজছে পুলিশ! এবং গ্রেফতারি পরোয়ানা নিয়ে যা বললেন মুফতী ওয়াক্কাস
মুফতী রশিদ আহমদ তার বাবার নির্বাচনী প্রচারণা কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, আল হামদুলিল্লাহ! এলাকার মানুষের ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা রয়েছে। তারা আব্বাকে পছন্দ করেন এবং তার জন্য কাজ করতে চান।
এলাকায় যারা পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন তাদের ব্যাপারে বলেন, ‘মূলত তিনি একাধিকবার মনোনয়ন চেয়েও আব্বার জন্য পাননি। তাই তিনি ও তার সমর্থকদের মনে ক্ষোভ জমেছে। তবে আশা করছি, কয়েকদিনের মধ্যে সব ঠিক হয়ে যাবে। তারাও দল ও জোটের স্বার্থে মান-অভিমান ভুলে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করবেন।’
আরও পড়ুন : বিএনপি নেতা-কর্মীদের ক্ষোভকে যেভাবে দেখছেন ড. আহমদ আবদুল কাদের
বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীদের বিষয়টি সমাধান করতে গতকাল জেলা বিএনপির নেতারা বৈঠক করেছেন বলে দাবি করেন মুফতী রশিদ আহমদ। তিনি বলেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিএনপির জেলা সহ-সভাপতি মুহাম্মদ মুসাসহ বিএনপির অধিকাংশ নেতা-কর্মী আব্বাকে সমর্থন করেছেন। এছাড়াও জামায়াতের প্রার্থী গাজী এনামুল হক নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে মুফতী ওয়াক্কাসের পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
তবে মুফতী ওয়াক্কাস তার নির্বাচনী প্রচারণায় জনগণকে কোনো সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, আমি এই এলাকার মানুষ। আপনাদেরই একজন। আমি জানি এলাকার মানুষের কী প্রয়োজন। আমি চেষ্টা করবো সেই অনুযায়ী কাজ করতে। সরকারের কাজ থেকে বেশি বেশি কাজ এনে এলাকার উন্নয়ন করার চেষ্টা করবো। ইনশাআল্লাহ! -জানান মুফতী ওয়াক্কাসের ছেলে ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ক মুফতী রশিদ আহমদ।
















