একটানা বসে কাজ করলে যেসব ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন

কর্মব্যস্ত যুগে বেশির ভাগ সমটাই কেটে যায় একনাগাড়ে বসে কাজ করতে করতে। সকালের অফিসে এসে চেয়ার হাঁকিয়ে বসা থেকে রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে টিভি-র চ্যানেলে চোখ বা ছোটখাটো ঘরোয়া আড্ডা— বসে থাকার বিরাম নেই। তার উপর শীতের ঠান্ডায় ঘন ঘন বাইরে বেরতে চান না অনেকেই। আবার গরম কালে ঘর ও অফিসের এসি ছেড়ে বাইরে বোরনোও হয় না।

‘‘এই দীর্ঘ বসে থাকার সূত্র ধরেই শরীরে বাসা বাঁধে ব্যথা–বেদনা৷ কম্পিউটারের সঙ্গত পেলে তো কথাই নেই৷ এর কারণ নানাবিধ৷’’ বললেন অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ কুণাল সেনগুপ্ত৷ আসলে বসে থাকলে শরীরের বেশির ভাগ ভার কোমরে এসে পড়ে৷ ভারের চাপে ক্লান্ত হয় পেশী। শুরু হয় ব্যথা৷

বসে থাকার ফলে ওজন ও ভুঁড়ি বেড়ে যাওয়ায় সেই বাড়তি চাপও গিয়ে পড়ে হাঁটু–কোমরে৷ আবার ওজন কমানোর আশায় ভুলভাল ডায়েটিং শুরু করলে অপুষ্টির হাত ধরে হাড় নরম হতে শুরু করে বিপদ বাড়ায়৷ সুতরাং নিয়ম না মেনে ভুল জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হলে কিন্তু হাড়ের ক্ষতি হবে অচিরেই। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়েবে হাড়ের সমস্যাও।

সাধারণত যে সব কারণে সমস্যায় পড়ি আমরা—

  • গায়ে পর্যাপ্ত রোদ না লাগলে ভিটামিন ডি–র অভাব হয়ে ব্যথা বাড়তে পারে৷
  • দিনের শেষে আরাম কেদারায় গা এলিয়ে বসে টিভি দেখা বা আড্ডা মারার বদভ্যাস আছে অনেকেরই৷ কিন্তু এতে কোমর–হাঁটু–ঘাড়ের যথেষ্ট সর্বনাশ হয়৷
  • নিয়ম মেনে কম্পিউটারে কাজ করলে ঠিক আছে৷ কিন্তু তা হয় না প্রায়শই৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রে টেবিলের এক ধারে থাকে মনিটর, মুখের সামনে কি বোর্ড৷ ফলে কাজ করার সময় ঘাড় বেঁকে থাকে৷ তারই ফল, ঘাড়ে শক্ত ভাব, ব্যথা৷
  • কি বোর্ডে আঙুল চালাতে চালাতে আঙুল ব্যথা হয়, কব্জির স্নায়ুতে চাপ পড়ে কব্জি ব্যথা থেকে কারপাল টানেল সিনড্রোম পর্যন্ত হতে পারে৷ কনুই বা কাঁধ ব্যথাও হয় অনেকের৷
  • সাধারণ চেয়ারে বসে কাজ করলে ভাল সাপোর্ট থাকে না বলে বাড়ে কোমর ব্যথা৷
  • চেয়ার–টেবিলের উচ্চতা ঠিক না থাকলে ঘাড়ে–কোমরে সমস্যা হতে পারে৷
  • হাড়ের ক্যালসিয়াম কমাতে ধূমপান, মদ, ফাস্টফুড, নরম পানীয়র জুড়ি নেই৷ অথচ বসে কাজ করতে করতে একঘেয়ে লাগলে এ সব খাওয়া চলে ভাল মতো৷ এতে আরও বিপদ বাড়ে৷​

সমাধান

  • টানা ঘণ্টা খানেক কাজের পর ৫–৭ মিনিট ছুটি নিন৷ দু’–একটা স্ট্রেচিং করুন৷ একটু ঘুরে আসুন৷ বসার ধরন মাঝে মাঝে পাল্টান৷ কোমরের কাছে কুশন রাখুন৷
  • হাঁটু ব্যথা এড়াতে চেয়ারে বসে পা টেবিলের নীচে রাখা অবস্থায় প্রতি ঘণ্টায় অন্তত এক মিনিট থাইয়ের পেশি শক্ত ও ঢিলে করুন৷
  • কাজ করতে করতে ঘাড় শক্ত লাগলে চেয়ারে মাথা এলিয়ে চোখ বন্ধ করে থাকুন মিনিট খানেক৷ মাথা ডাইনে–বাঁয়ে ঘোরান দু’–চার বার৷
  • আঙুল ও কব্জি ব্যথা করলে মাঝে মাঝে বিশ্রাম দিন৷ অবসর পেলে হাত মুঠো করুন, খুলুন৷ হাত মুঠো করে কব্জিকে বিভিন্ন দিকে ঘোরান৷

বাড়ি ফিরে

  • কব্জি ব্যথা হলে গরম জলে ডুবিয়ে হাত মুঠো করুন ও ছাড়ুন।
  • ব্যথা–বেদনা কম রাখতে পাতলা তুলোর তোশকে মোটামুটি ২ ইঞ্চি মতো উচ্চতার তুলোর বালিশে ঘুমোন৷ ৬ মাস–এক বছর অন্তর বালিশ বদলান৷
  • রোজ ২০–৩০ মিনিট হাঁটুন ও মিনিট ২০ হাঁটু, কোমর, ঘাড়, কাঁধ ও হাতের ব্যায়াম করুন৷

কী খাবেন, কী খাবেন না

  • ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার যেমন, ডিম, দুধ, দই, ছানা, চিজ, মাংস, ছোট মাছ, খেজুর, নাসপাতির সঙ্গে পর্যাপ্ত ভাত, রুটি, ডাল, শাকসব্জি খান৷
  • মধ্যবয়সী মহিলারা দিনে একটা করে ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট খাবেন৷
  • চা–কফি–কোলা কম খান, পরিমিত পানি পান করুন।
  •  যে কোনো নেশাজাতীয় দ্রব্য পরিহার করুন৷

আনন্দবাজার পত্রিকা অবলম্বনে

পূর্ববর্তি সংবাদচার নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থায় আ’লীগের আপত্তি
পরবর্তি সংবাদ২৪ ডিসেম্বর সেনাবাহিনী মোতায়েন