ভুল তথ্য দিয়ে ইজতেমার মাঠে আনা হয়েছিলো নিহত ইসমাইল মণ্ডলকে

আতাউর রহমান খসরু ।।

গত ১ ডিসেম্বর টঙ্গীর ইজতেমার মাঠে সাদপন্থী সন্ত্রাসী হামলার সময় নিহত হন মুন্সীগঞ্জের ইসমাইল মণ্ডল। তবে মাঠে যাওয়ার আগে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা থাকা বা মাঠে অন্যরা অবস্থান করছেন এমন কোনো তথ্য তিনি জানতেন না বলে দাবি করেছেন ইসমাইল মণ্ডলের ছোট ভাই আরশাদ মণ্ডল।

তিনি ইসলাম টাইমসকে বলেন, ‘আমি তাবলিগ করি না। তাই আমার ভাইয়ের সঙ্গে সেদিন যাইনি। তবে আমার ভাইয়ের ছেলে তার সঙ্গে ছিল। সে এবং তাদের সঙ্গে যাওয়া অন্যরা আমাকে বলেছে যে, মাঠে যাওয়ার আগে তারা সেখানকার পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছুই জানতো না। যাওয়ার পর দেখে পরিস্থিতি এমন। মাঠে অন্য কেউ অবস্থান করছে কিংবা পুলিশ (প্রশাসন) যে সেখানে যেতে নিষেধ করেছে তার কিছুই তাদের জানানো হয়নি।’

আরশাদ মণ্ডল আরও বলেন, ‘তারা আমাকে আরও বলেছে, প্রতিবছরের ন্যায় এই বছরও জোড় হবে বলে তাদেরকে ঢাকা নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমে তাদেরকে ঢাকার ধানমন্ডীর একটি মসজিদে রাখা হয় এবং সেখান থেকে জোড়ের কথা বলে মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদেরকে বলা হয়, সামানা (জিনিসপত্র) নিতে হবে না। শুধু তসবিহ আর জায়নামাজ নিলেই হবে। তখন কেন নিতে হবে না প্রশ্ন করলে বলা হয়, মুরব্বিরা টঙ্গীর মাঠে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বলেছেন, শুধু আমলে শরিক হয়ে ফিরে আসতে।’

এভাবে অসংখ্য সাধারণ সাথীকে প্রতারণার মাধ্যমে সেদিন টঙ্গীর মাঠে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাদেরকে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দেয়া হয়। গ্রামের নিরীহ এসব মানুষ ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে এদিক সেদিক ছোটাছুটি শুরু করে। এ সময় সপক্ষের আঘাতে আহত হন অনেকেই। ধারণা করা হচ্ছে, সপক্ষের (সাদপন্থীদের) আঘাতেই নিহত হন ইসমাইল মণ্ডল। কারণ প্রস্তুতি নিয়ে গেট ভেঙ্গে আক্রমনোদ্যত হয়ে ময়দানে প্রবেশ করেছে সাদপন্থিরাই। গেট ভেঙ্গে ময়দানে প্রবেশ ও হামলার দায় এরই মধ্যে একটি টিভি টকশোতে স্বীকার করে নিয়েছেন সাদপন্থিদের এক নেতা আশরাফ আলী।

ঘটনাস্থলে উপস্থিতদের অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা লোকসংখা বেশি হওয়ায় এবং নিজেদের চেনার জন্য পর্যাপ্ত ব্যাজ না থাকায় আক্রমণের সময় নিজ পক্ষের লোকজনকেও চিনতে পারেনি সাদপন্থীরা। অপর পক্ষের তাবলিগি সাথী মনে করে নিজেদের সঙ্গে আসা বহু নিরীহ মুসল্লিকেও শুরুতেই বেদম মারধর করে।

মৃত ইসমাইল মণ্ডলের ছেলে জাহিদ হাসানের দায়ের করা এজহারেও একই পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘সকাল আনুমানিক ১১.০০ ঘটিকার দিকে বিশৃংখলা সৃষ্টি হইলে আমি আতঙ্কিত হইয়া রাস্তার এক পার্শ্বে অবস্থান করি।’

উল্লেখ্য, টঙ্গী ইজতেমার মাঠে নিহত ইসমাইল মণ্ডলের ছেলে জাহিদ হাসান গত ০৮/১২/২০১৮ তারিখে বাদী হয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি এজহার দায়ের করেন। থানায় দায়ের করা এজহারে জাহিদ হাসানের বিবরণ থেকেও জানা গেছে তারা ২৯ নভেম্বর ঢাকার ধানমণ্ডীতে আসেন এবং ১ ডিসেম্বর সকাল ৮ টায় টঙ্গীর ইজতেমার মাঠে উপস্থিত হন। তবে মামলায় সুনির্দিষ্টভাবে কোনো পক্ষকেই দায়ী করেননি তিনি।

ইসমাইল মণ্ডলের ছেলে তার দায়ের করা এজহারে কোনো পক্ষকে দায়ী না করলেও সাদপন্থীদের প্রচারিত ভিডিওতে উলামায়ে কেরামকে দায়ী করে বক্তব্য দিতে দেখা গেছে। তাই প্রচারিত বক্তব্যের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। যদি ইসমাইল মণ্ডলের ছেলে উলামায়ে কেরামকে দোষীই মনে করে থাকে তাহলে মামলার এজহারে তাদের নাম উল্লেখ করলেন না কেন? তাহলে কি আরোপিত বক্তব্যের ভিডিও রেকর্ড প্রচার করা হচ্ছে?

পূর্ববর্তি সংবাদব্যভিচার-জুয়াখেলার প্রকাশ্য শাস্তি বলবৎ থাকবে ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে
পরবর্তি সংবাদময়মনসিংহে সাদপন্থীদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা