ইন্দোনেশিয়ার সমাজ ও রাজনীতিতে বাড়ছে ইসলামপন্থীদের প্রভাব

২০১৬ সালের একটি সফল আন্দোলনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আজ ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় একটি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিছিলে দেশটির লাখ লাখ নাগরিক অংশগ্রহণ করেছে। বিপুল জনগোষ্ঠির এই অংশগ্রহণকে ইন্দোনেশিয়ার সমাজ ও রাজনীতিতে বাড়ছে ইসলামপন্থীদের প্রভাব বৃদ্ধির পূর্ব লক্ষণ মনে করছেন দেশটির রাজনীতিকরা।

ইসলামপন্থীরা ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় স্মৃতি সৌধে একত্র হন এবং বিকেল ৩টায় সেখানে দোয়ার অনুষ্ঠান হয়।  সমবেত মানুষের গায়ে ছিলো সাদা পোশাক এবং হাতে ছিলো ইসলামি পতাকা।

২০১৬ সালে জাকার্তার খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী গভর্নর বাসুকি চাহায়া পুর্নামা ইসলাম ধর্মের জন্য অবমাননাকর মন্তব্য করলে ইন্দোনেশিয়ার মুসলিম জনগণ রাস্তায় নেমে আসেন। তাদের অব্যাহত আন্দোলনের মুখে বাসুকি চাহায়াকে বরখাস্ত করা হয় এবং আদালত তাকে কুরআন অবমাননার দায়ে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন।

আয়োজকরা বলছেন, সেই সাফল্যকে স্মরণ করতেই তাদের এই মিছিল ও দোয়ার আয়োজন। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে এই মিছিলের উদ্দেশ্য ইন্দোনেশিয়ার রাজনীতিতে তাদের সরব উপস্থিতির জানান দেয়া।

ইসলামপন্থীদের মিছিল ও দোয়া অনুষ্ঠানে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জেনারেল প্রাবোও সাবিনতো অংশগ্রহণ করেন।  যিনি একজন জাতীয়বাদী নেতা। ইসলামপন্থীদের সাথে তার নিবীড় যোগাযোগ রয়েছে। তিনি প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোকে আগামী বছর যথা সময়ে নির্বাচন দেয়ার আহবান জানিয়েছেন।

জেনারেল প্রাবোও ২০১৪ সালে জাতীয় নির্বাচনে প্রচণ্ড প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেও জোকো উইদোদোর কাছে হেরে যান।

জেনারেল প্রাবোও তার বলেন, ‘আমরা গর্বিত যে, ইন্দোনেশিয়ায় ইসলামের বিস্তৃতি ঘটছে এবং তারা সুসংহত। আগামী দিনের শান্তির জন্য সকলে কাজ করবে।’

মিছিলে কয়েক হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হলেও মিছিল ও দোয়া অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি বিগত বছরগুলোতে ইন্দোনেশিয়ার সমাজ ও রাজনীতিতে ইসলামপন্থীদের প্রভাব বাড়ছে। যদিও প্রেসিডেন্ট সুহার্ত চরমপন্থা দমনের নামে ইসলামপন্থীদের প্রতি খড়গহস্ত হন। অনেক ইসলামপন্থী নেতাকে জেলে বন্দী করে রাখেন।

প্রেসিডেন্ট উইদোদো একজন জনপ্রিয় নেতা হওয়ার পরও আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বর্ষীয়ান ইসলামি নেতা মারুফ আমিনকে তার রানিংমেট হিসেবে গ্রহণ করেছেন। যাকে ইন্দোনেশিয়ার রাজনীতিতে আগামী ইসলামপন্থীদের প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ার আরেকটি লক্ষণ হিসেবে মনে করছেন অনেকেই।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট থেকে আবরার আবদুল্লাহ-এর অনুবাদ

পূর্ববর্তি সংবাদখুলনায় সন্ত্রাসী হামলায় ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ও তার ছেলে গুরুতর আহত
পরবর্তি সংবাদ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২ জানুয়ারি পর্যন্ত মাঠে থাকবে সেনা বাহিনী