রোহিঙ্গাবিরোধী নৃশংসতা গণহত্যা, বাংলাদেশের ভূমিকা প্রশংসনীয় : মার্কিন কংগ্রেস

রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চালানো নৃশংসতাকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। বৃহস্পতিবার (১৩ ডিসেম্বর) মার্কিন কংগ্রেসের নিম্ন কক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পাস করেছেন তারা। পাশাপাশি মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করেছেন কংগ্রেস সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার প্রতিনিধি পরিষদে রোহিঙ্গা প্রশ্নে একটি প্রস্তাব পাস করতে ভোটাভুটি হয়। এদিন ৩৯৪-১ ভোটে পাস হয় প্রস্তাবটি। কংগ্রেস সদস্য ও হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির চেয়ারম্যান এড রয়েস বলেন, ‘মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত এসব অপরাধকে গণহত্যা আখ্যা দেওয়াটা যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক বাধ্যবাধকতার মধ্যে পড়ে।’ রয়েস মনে করেন, প্রস্তাবটি পাসের মধ্য দিয়ে প্রতিনিধি পরিষদ তার অংশের দায়িত্বটুকু পূরণ করেছে।

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে রয়েস বলেন, ‘এসব নৃশংসতা সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে ঘর ছেড়ে বাংলাদেশে পালাতে বাধ্য করেছে। সেখানে এখন প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস। এ ধরনের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করে বাংলাদেশ উদারতা দেখিয়েছে।’ মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর পরিচালিত নৃশংসতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গণহত্যা আখ্যা দিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরকেও অনুরোধ জানানো হয়েছে ওই প্রস্তাবে। পাশাপাশি মিয়ানমারে কারাবন্দী দুই রয়টার্স সাংবাদিককে অবিলম্বে ক্ষমা ও মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে রাখাইনে রোহিঙ্গা নিপীড়ন নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। তবে তখন ওই প্রতিবেদন রোহিঙ্গাবিরোধী নৃশংসতাকে গণহত্যা আখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রয়েস। তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্র দফতরের ওই প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা নিপীড়নের অনেক আলামতের কথা প্রকাশ করা হয়েছিল। সেখানে প্রত্যক্ষদর্শী এক নারীকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছিল, মিয়ানমারের সেনাদেরকে নবজাতক ও শিশুদের নদীতে ছুড়ে ফেলতে দেখেছেন তিনি। সন্তানদের বাঁচানোর চেষ্টা করলে তাদের মায়েদেরকেও গুলি করা হয়।’

কংগ্রেসম্যান স্যান্ডি লেভিন বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সেনাবাহিনী যে নিন্দনীয় দমন-পীড়ন ও সহিংসতা চালিয়েছে সে ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই। এ প্রস্তাব রাখাইন রাজ্যে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিরুদ্ধে কথা বলে।’

প্রতিনিধি পরিষদে পাস হওয়া প্রস্তাবটিকে স্বাগত জানিয়েছে রোহিঙ্গাদের সহায়তায় কাজ করা মার্কিন সংগঠন বার্মা টাস্ক ফোর্স। তারা বলেছে, ‘প্রতিনিধি পরিষদ এখন আনুষ্ঠানিকভাবে এ অবস্থান নিয়েছে যে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমার সরকার ব্যাপক সহিংসতা ও তাদের বাস্তুচ্যুত করার যে নীতি চালাচ্ছে তা গণহত্যা। এর মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা নিপীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছাকাছি এসেছে যুক্তরাষ্ট্র।’

পূর্ববর্তি সংবাদট্রেনের ছাদে অসতর্ক থাকার ফলে পাবনায় ৬ ট্রেনযাত্রী নিহত
পরবর্তি সংবাদজাতীয় পার্টির ১৮ দফা ইশতেহার ঘোষণা