ইসলাম টাইমস : ১৬ ডিসেম্বর। মহান বিজয় দিবস আজ। জাতির গৌরব, অহঙ্কার ও আনন্দের স্বাক্ষরবহ একটি অনন্য দিন। আজ থেকে ৪৭ বছর আগে, ১৯৭১ সালের এ দিনে বাংলাদেশের অকুতোভয় মুক্তিবাহিনীর কাছে প্রায় এক লাখ হানাদার পাকিস্তানি সৈন্যের আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে সূচিত হয়েছিল স্বাধীনতা সংগ্রামে বাঙালির পূর্ণ বিজয়। একাত্তরের ২৬ মার্চ যে যুদ্ধর সূচনা হয় ১৬ ডিসেম্বর তা বাস্তব পরিণতির রূপ নেয়। যে দীর্ঘ ৯ মাসব্যাপী বাঙালির বুকের রক্তে, মা-বোনের সম্ভ্রমহানি ও অগণিত মানুষের সীমাহীন দুঃখ-দুর্ভোগের বিনিময়ে এ বিজয় মুকুট শিরে পরেছিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মানুষের জীবনে আজ তাই আনন্দের দিন। আজ লাল সবুজের উৎসবের দিন।
আজ জাতি গভীর বেদনা, কৃতজ্ঞতা, বিনম্র শ্রদ্ধা ও দোয়ার সঙ্গে স্মরণ করছে স্বাধীনতার জন্য আত্মদানকারী ও সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারকারী সেই বীর সন্তানদের। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় যারা এ ভূখণ্ডের স্বাধীনতা অর্জনের সংগ্রামে ব্রিটিশ দখলদার শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে জীবন উৎসর্গ করেছেন -শ্রদ্ধার সঙ্গে দোয়ায় স্মরণ করছে জাতি তাদেরকেও।
জাতীয় এক অস্থির সময়ে এবার বিজয় দিবস এসে হাজির। আগামী দু সপ্তাহের মধ্যে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নির্বাচিত করতে যাচ্ছে তাদের একাদশ জাতীয় সংসদ। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মধ্য দিয়ে যে গণতন্ত্রের জন্ম হয়েছিল, বহু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আজ তা যৌবনের দ্বারপ্রান্তে। দেশটির জন্মলগ্ন থেকে, এমনকি বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও এ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতি বারবার ব্যাহত হয়েছে দেশি-বিদেশি নানা মহলের ষড়যন্ত্রে। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যারা নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিতেও দ্বিধা করেননি, সেই মহান শহীদদের কথা স্মরণে রেখে আমরা যেন সহিংসতা, রক্তপাতের মধ্য দিয়ে নির্বাচনের পবিত্রতাকে কলঙ্কিত না করি, দেশটাকে সুন্দর ও শান্তিময় রূপে গড়ে তোলার প্রত্যয় গ্রহণ করতে পারি- এটাই হোক এবারের বিজয় দিবসের জাতীয় প্রার্থনা।
















