বিজয় দিবসে নেই বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধ!

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতীয় বাহিনীর সহযোগিতার কথা বরাবরই শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রনেতাগণ। কিন্তু ভারতীয়রা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আপামর বাঙালির অংশগ্রহণ, আত্মদান ও বীরত্বের বিষয়টি এড়িয়ে যেতে চায়। আজ বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে সেই চিত্রই আবার ফুটে উঠলো।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঠিক সাতচল্লিশ বছর আগে আজকের দিনে ঢাকায় ভারতীয় বাহিনীর কাছে পাকিস্তানি সেনার আত্মসমর্পণের মধ্যে দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশের। ভারতের প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সশস্ত্র বাহিনী, ক্যাবিনেট মন্ত্রী বা বিরোধী রাজনীতিকরা অনেকেই সেই ‘বিজয় দিবস’কে আজ টুইটারে স্মরণ করেছেন – বাদ যাননি বহু তারকাও।

কিন্তু তাদের বেশির ভাগের টুইটে-ই ১৬ ডিসেম্বরের এই দিনটিকে ‘ভারতীয় সেনাবাহিনীর অসাধারণ সাফল্য’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে – বিজয় দিবসের সঙ্গে যে বাংলাদেশের কোনও সম্পর্ক আছে – তা বোঝাই যাবে না সেগুলো পড়লে । কেউ কেউ অবশ্য আবার বাংলাদেশের এই প্রতিষ্ঠালগ্নটিকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন।

বিজয় দিবসে নরেন্দ্র মোদীর টুইট

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সকালেই টুইট করেছেন, ‘১৯৭১-য়ে যে নির্ভীক সেনারা লড়াই করেছিলেন, আজ বিজয় দিবসে তাদের অদম্য সাহসকে স্মরণ করি। তাদের বীরত্ব আর দেশপ্রেমই আমাদের দেশকে সুরক্ষিত রাখতে পেরেছে। এই মহান অত্মত্যাগ প্রত্যেক ভারতীয়কে চিরকাল অনুপ্রাণিত করবে।’

প্রধানমন্ত্রী মোদী সচরাচর তার টুইটে বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানানোর কোনও সুযোগ হাতছাড়া করেন না কিন্তু তার আজকের মন্তব্যে বাংলাদেশ শব্দটির উল্লেখ পর্যন্ত নেই।

প্রধানমন্ত্রীর টুইটের জবাবেই মন্তব্য করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপির হিন্দুত্বের ‘পোস্টার বয়’ যোগী আদিত্যনাথ – এবং তিনিও বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টানা থেকে বিরত থেকেছেন। বরং ঢাকাতে ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১-য়ে পাকিস্তানি সেনার আত্মসমর্পণের একটি রঙিন ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, ‘ভারতের পরাক্রমের নজির হল এই ছবিটি – ১৯৭১র বীর যোদ্ধাদের শত শত প্রণাম!’

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের টুইট

প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের ভেরিফায়েড টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে যে পোস্ট করা হয়েছে তাতে আবার বিজয় দিবসের সাফল্যের পুরো কৃতিত্বই দেওয়া হয়েছে ভারতের সশস্ত্র বাহিনীকে – সেখানেও মুক্তিবাহিনীর অবদান অনুচ্চারিত।

সেখানে লেখা হয়েছে, ‘ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর শক্তি, সাহস আর সঙ্কল্পই মাত্র চৌদ্দ দিনের মধ্যে পাকিস্তানি বাহিনীকে অস্ত্র সংবরণে বাধ্য করেছিল – যা আধুনিক ইতিহাসে বৃহত্তম সামরিক আত্মসমর্পণগুলির মধ্যে একটি।’

বিজয় দিবসে এই অর্জনকে গর্বের সঙ্গে স্মরণ করেছে ওই টুইট – এ কথাও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে ভারত ৯০ হাজারেরও বেশি পাকিস্তানি সেনাকে যুদ্ধবন্দী করেছিল।

ভারতীয় বিমান বাহিনীর টুইটার অ্যাকাউন্টেও বিজয় দিবসকে পুরোপুরি ‘ভারতের বিজয়’ বলেই বর্ণনা করা হয়েছে।

যুদ্ধের বীর সেনানীদের শ্রদ্ধা জানিয়ে ইন্ডিয়ান এয়ারফোর্স একটি ছবিও পোস্ট করেছে – যার ক্যাপশনে লেখা হয়েছে ‘১৯৭১-র যুদ্ধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সামরিক বিজয়কে উদযাপন করতেই বিজয় দিবস পালন করা হয়ে থাকে।’

তবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিজেপি মন্ত্রীদের মধ্যে রাজ্যবর্ধন রাঠোরের টুইটে বাংলাদেশের সামান্য উল্লেখ এসেছে।

সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা ও অলিম্পিকে পদকজয়ী শ্যুটারও অবশ্য বিজয় দিবসের কৃতিত্ব দিয়েছেন শুধু ‘ভারতের সশস্ত্র বাহিনীর অতুলনীয় পরাক্রম’কে।

কিন্তু সেই সঙ্গেই তিনি লিখেছেন, ‘১৯৭১ সালের আজকের দিনেই আমাদের সেনাবাহিনী পাকিস্তানকে পরাজিত করেছিল এবং জন্ম হয়েছিল বাংলাদেশের।’

কংগ্রেস মুখপাত্রের টুইট

ভারতে বিরোধী দল কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালার টুইটেও অবশ্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সশ্রদ্ধ উল্লেখ আছে। তিনি বিজয় দিবসকে ‘১৯৭১-র বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক বলেই বর্ণনা করেছেন।

তার দলের প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী অবশ্য এদিন বিকেল পর্যন্ত অন্তত বিজয় দিবস নিয়ে কোনও টুইট-ই করেননি।

টুইটারে তার নানা সরস ও তির্যক মন্তব্যের জন্য ভারতে সোশ্যাল মিডিয়া জগতে সম্প্রতি তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন সাবেক ক্রিকেট তারকা বীরেন্দার সেহওয়াগ – বিজয় দিবসে টুইট করেছেন তিনিও। কিন্তু তার পোস্টেও বাংলাদেশ বা মুক্তিযুদ্ধের কোনও উল্লেখ নেই। ‘৪৭ বছর আগে, ১৯৭১ সালে আজকের দিনটি আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন ছিল’ বলেই মন্তব্য শেষ করেছেন বীরেন্দর সেহওয়াগ।

পূর্ববর্তি সংবাদতোফায়েল বললেন, ওদের কাজই হচ্ছে আবার ২০০১ সৃষ্টি করা
পরবর্তি সংবাদনির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে সংখ্যালঘু নেতা রানা দাশগুপ্তের সন্তোষ প্রকাশ