নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই : মাহবুব তালুকদার

ইসলাম টাইমস : নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বলে কিছু নেই। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড কথাটিই এখন অর্থহীন কথায় পর্যবসিত হয়েছে। আপনারা নিজেদের বিবেককে জিজ্ঞাসা করুন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে কিনা? উত্তর পেয়ে যাবেন।

সোমবার ১৭ ডিসেম্বর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

আপনার মতে নির্বাচনে লেভেলে প্লেয়িং ফিল্ড আছে কি না এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি মোটেও মনে করি না নির্বাচনে লেভেলে প্লেয়িং ফিল্ড বলে কিছু আছে। লেভেলে প্লেয়িং ফিল্ড কথাটা এখন একটা অর্থহীন কথায় পর্যবসিত হয়েছে।

সিইসি বলেছেন নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে। আপনি কী তার বিরোধিতা করছেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি কখনো তার বক্তব্যের বিরোধিতা করি না। তিনি তার কথা বলেন। আমি প্রয়োজনে আমার ভিন্নমত প্রকাশ করি। আপনারা তো সাংবাদিক। আপনারা দেশের সব খবর রাখেন। সবকিছু দেখেন। আপনারা নিজেদের বিবেককে জিজ্ঞাসা করুন, নির্বাচনে এখন লেভেলে প্লেয়িং ফিল্ড আছে কি না, তাহলে উত্তর পেয়ে যাবেন।

সারা দেশ থেকে বিরোধী দলের প্রচারে বাধা দেয়ার নানা অভিযোগ আসছে। এ অবস্থায় অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন কী সম্ভব? এ প্রশ্নের উত্তরে নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমি আশাবাদী মানুষ। এখনও যে সময়টুকু আছে তাতে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি পালন করতে হবে। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ইলেকট্রোরাল ইনকোয়ারি কমিটির বিচারকদের আরও বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করা উচিত। আমি মনে করি, সেনাবাহিনী মাঠে নামলে পরিস্থিতি আশাব্যঞ্জকভাবে পাল্টে যাবে।

সিইসি বলেছেন, সবদলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু হবে। আপনিও কি তাই মনে করেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সবদল অংশগ্রহণ করলে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলা হয়। সুষ্ঠু নির্বাচনের সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই। নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হওয়া একটি প্রাথমিক প্রাপ্তি। আসল কথা হচ্ছে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হচ্ছে কিনা এবং বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে কি না? নির্বাচন গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য না হলে অংশগ্রহণমূলক হলেও কোনো লাভ নেই।

নির্বাচনে জনপ্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কি নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে আছে? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নির্বাচন আমরা সরাসরি করি না। রিটার্নিং অফিসার, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে করা হয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাবৃন্দ নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে আছে। তাদের বাহিনীর সদস্যরা কতটা তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে, তা তারা বলতে পারবেন।

বর্তমান অবস্থায় আপনার কী কোন মেসেজ আছে? সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমার বক্তব্য হচ্ছে: জাতীয় নির্বাচন এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। প্রার্থী, ভোটার এমনকি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ আইনের বাইরে যাবেন না। আইনকে নিজস্ব ধারায় চলতে দিন। নির্বাচনী আচরণ বিধি মেনে চলুন। নির্বাচনকে সাফল্যমন্ডিত করতে সহায়তা করুন।

পূর্ববর্তি সংবাদঐক্যফ্রন্টের দাবি : আট দিনে ২২৪১ জন গ্রেফতার, ৯৭৩৩ অজ্ঞাত আসামি
পরবর্তি সংবাদসমাবেশে আ.লীগ নেতারা বললেন, লতিফ সিদ্দিকী নাস্তিক