সময় দেয়া হয় না, বাথরুমেই নামাজ আদায় করছে আমেরিকার অ্যামাজন কর্মীরা

২৮ বছর বয়সী খাদরা ইবরাহিন দুই সন্তানের মা। তিনি আমেরিকার মিনিয়ালোপিস শহরের অ্যামাজোন সেন্টারে চাকরি করেন। একজন মুসলিম হিসেবে তিনি চেষ্টা করেন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে। কিন্তু কাজের চাপে তিনি না পারেন না।

ইবরাহিন অ্যামাজনের ওয়্যার হাউজের প্যাকিং বিভাগে কাজ করেন। যেখানে কাজের চাপ অনেক বেশি। ফলে তিনি নামাজের জন্য অবসর হতে পারে না।

ওয়্যার হাউজে কর্মীদের কাজের পরিমাণের উপর র‌্যাংকিং করা হয়। কারও কাজের পরিমাণ বাড়লে তার র‌্যাংক বাড়ে আর কাজের পরিমাণ কমলে তার র‌্যাংক কমে। এখন সেখানে কাজের চাহিদা ঘণ্টায় ২৪০ প্যাকেট। কিন্তু কখনও কখনও তা বেড়ে ৪০০ প্যাকেটে দাঁড়ায়।

ইবরাহিন সাধারণত সংক্ষিপ্ত অবসরের সময়ে নামাজ আদায় করেন। তিনি কখনও কখনও বাথরুমে যেয়েও নামাজ আদায় করেন। কারণ, ব্রেক নেয়ার অর্থ হলো আমার র‌্যাংক নেমে যাবে। যা আমার চাকরিকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে পারে। নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায়ের জন্য অনেক সময় শারীরিক চাহিদাও কন্ট্রোল করেন তিনি।

ইবরাহিন ১২ ঘণ্টা কাজ করেন। বিকেল ৫টা থেকে ভোর ৬ পর্যন্ত। তার ভাষায় ২০০৪ সালে আমেরিকায় আসার পর ২০টি চাকরি করেছেন। কিন্তু অ্যামাজনের চাকরিটাই তার কাছে সবচেয়ে কঠিন মনে হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রতি রাতে যখন আমি এই দরজা দিয়ে প্রবেশ করি আমার মনে হয় হয়তো আগামী ভোরেই আমি বহিষ্কৃত হয়ে এই দরজা দিয়ে বের হবো। কারণ, এখানে কাজের চাপকে আমার কাছে স্বাভাবিক মনে হয় না।

ইবরাহিনের প্রত্যাশা তাদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করা হবে এবং সাথে সাথে কর্মীদের জাতিগত ও ধর্মীয় সংস্কৃতির প্রতিও লক্ষ্য রাখা হবে।

শুধু খাদরা ইবরাহিন নয়, আমাজনের চাকরিরত প্রতিটি মুসলিম নারীর; বরং প্রতিটি মুসলমানের গল্পই এমন সংগ্রামী।

সূত্র : ভক্স নিউজ থেকে আবরার আবদুল্লাহর অনুবাদ

পূর্ববর্তি সংবাদজাপানে বিস্ফোরণ, আহত ৪২
পরবর্তি সংবাদঐক্যফ্রন্টের ৩৫ দফা ইশতেহারে ১৪ প্রতিশ্রুতি