‘আশা’ই যেখানে ‘হতাশা’র সূচনা: এনজিও থেকে নেয়া ঋণের চাপে আত্মহত্যা

ঘরের চালা খুলে নিয়ে গেলেন মহাজন

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: বাংলাদেশে এনজিওদের থেকে ঋণ নিয়ে পথে বসার দৃষ্টান্ত নতুন নয়। ঋণের বোঝা বইতে না পেরে বিভিন্ন সময় আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটে।

গতকাল ‘আশা’ নামক এনজিও সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে শোধ করতে না পারায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন জরিনা বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূ। সোমবার (১৭ ডিসেম্বর) নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ আরাফাতনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আরাফাতনগরের তৈয়ব মিয়ার বাড়ির পাশে ডুমুর গাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় জরিনা বেগমের লাশ পাওয়া যায়। লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

তৈয়ব মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া রাজ মিস্ত্রি মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী নিহত জরিনা বেগম। তিন ছেলে সন্তানসহ সপরিবারে তারা ওই বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তাদের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার আটপাড়া চিকনদী গ্রামে।

নিহতের বড় ছেলে হৃদয় আহমেদ জানায়, বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। সব সময় তার কাজ থাকে না। সংসারের সব ব্যয় বহন করে মা। আমরা তিন ভাইয়ের মধ্যে আমিই বড়। আর দু’জন ছোট। আমার মেজো ভাইও কাজের উপযুক্ত নয়। তারপরও সংসারের অভাবের কারণে সে কাজ করে। আর ছোট ভাইটি একেবারেই ছোট। এ অবস্থায় মা বিভিন্ন জনের কাছ থেকে ঋণ করে সংসার চালিয়েছেন।

এতে পাওনাদাররাও প্রায় সময় ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য তাগিদ দিতেন। পরে ‘আশা’ সমিতি থেকে ৭০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে নেয়া ঋণ পরিশোধ করেছেন। এখন মাকে প্রতি সপ্তাহে ‘আশা’ সমিতিকে ১৮শ’ টাকা ঋণের কিস্তি দিতে হয়। আমার বাবা ও আমরা দুই ভাই কাজ করে যা উপার্জন করি সবই সংসারে ব্যয় হয়ে যায়। কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে মাকে হিমশিম খেতে হয়। এ চিন্তায় আমার মা আত্মহত্যা করেছেন।

পূর্ববর্তি সংবাদইয়েমেন : শতাব্দীর সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে
পরবর্তি সংবাদরোহিঙ্গা সংকট: যুক্তরাজ্যের প্রস্তাব, চীন ও রাশিয়ার অস্বীকৃতি