তাবলিগ সংকট : আলেমদের আল্টিমেটামের সময় শেষ আজ, কাল ঢাকায় আবারও বৈঠক

ইসলাম টাইমস ডেস্ক : টঙ্গীর ইজতেমার মাঠে সাধারণ সাথী, উলামায়ে কেরাম ও মাদরাসার ছাত্রদের উপর সাদপন্থী সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলার বিচারসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ৫ দফা দাবি আদায়ে উলামায়ে কেরামের দেয়া এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম শেষ হলো আজ।

তবে টঙ্গী মাঠের টিনশেড মসজিদে আমল এবং মাদরাসা চালু করার অনুমতি প্রদান ছাড়া উল্লেখযোগ্য কোনো দাবিই আদায় হয়নি। এমনকি ইজতেমার জন্য মাঠ প্রস্তুত করার আনুষ্ঠানিক অনুমতিও এখনও পাওয়া যায়নি।

এমতাবস্থায় উলামায়ে কেরামের করণীয় নির্ধারণ করতে আগামীকাল আবারও বৈঠকে বসছেন ঢাকার শীর্ষ আলেমরা।

আগামীকাল সকাল ৮টায় ঢাকার যাত্রাবাড়ী অবস্থিত বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের অফিসে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

বেফাকের সহ-সভাপতি ও ঢাকার জামিয়া হোসাইনিয়া ইসলামিয়া আরজাবাদ মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা বাহাউদ্দিন যাকারিয়া ইসলাম টাইমসকে এই সংবাদ নিশ্চিত করেছেন।

তাবলিগ সংকট সমাধানে উলামায়ে কেরামের দাবি পূরণের অগ্রগতির পর্যালোচনা ও আগামীর করণীয় ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হবে বলে তিনি জানান।

বৈঠকে বেফাকের সিনিয়র সহ-সভাপতি আল্লামা আশরাফ আলীর সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা ও ঢাকার আশেপাশের প্রতিনিধিত্বশীল আলেমগণ এবং তাবলিগের সিনিয়র মুরব্বিরা।

বৈঠক শেষে দাবি পূরণের অগ্রগতি ও আগামী দিনের কর্মসূচির কথা গণমাধ্যমে তুলে ধরারও কথা রয়েছে।
তবে তাবলিগ সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র ইসলাম টাইমসকে জানিয়েছে যে, উলামায়ে কেরামের সঙ্গে সরকার ও প্রশাসনের একাংশ নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তারা যথা সময়ে ইজতেমা হওয়ার আশ্বাস দিলেও অন্যান্য দাবির ব্যাপারে ‘নির্বাচনী ঝামেলা’কে অপারগতা হিসেবে উল্লেখ করছে।

তারা বলছে, নির্বাচনের পর সরকার বিষয়টিতে পূর্ণ মনোযোগ দিবে এবং উলামায়ে কেরামের দাবি পূরণে আন্তরিক চেষ্টা করবে। সাথে সাথে তারা উলামায়ে কেরামকে কঠোর কোনো কর্মসূচিতে না যাওয়ারও অনুরোধ করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ১০ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসায় কওমির প্রতিনিধিত্বশীল আলেম, কওমি শিক্ষাবোর্ডের দায়িত্বশীলগণ ও তাবলিগি মুরব্বিদের এক শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ৫টি সিদ্ধান্ত হয়। তাহলো, ১. টঙ্গীর ইজতেমার মাঠে সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে জড়িতদের এক সপ্তাহের মধ্যে গ্রেফতার করা।

২. ইঞ্জিনিয়ার ওয়াসিফুল ইসলাম, নাসিমহস টঙ্গী হামলার ইন্ধনদাতাদের কাকরাইল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা।

৩. উলামায়ে কেরামের নেতৃত্ব মাওলানা সাদের বিভ্রান্তিসমূহ এবং এই বিষয়ে একটি ফতোয়া তৈরি করে সারা দেশে প্রচার করা। এই লক্ষ্যে ৬-১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা।

৪. তাবলিগের কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ১৫-১৮ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা। তাতে দেশের শীর্ষ আলেম ও তাবলিগি মুরব্বিদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।

৫. যথাসময়ে ইজতেমা করা। তবে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে পূর্ব নির্ধারিত তারিখের কাছাকাছি সময়ে অন্য কোনো তারিখও নির্ধারণ করা যেতে পারে।

পূর্ববর্তি সংবাদভারতবর্ষ থেকে ৪৫ লাখ কোটি ডলার চুরি করেছে যেভাবে ব্রিটেন 
পরবর্তি সংবাদসুষ্ঠু নির্বাচন না হলে দেশবাসী আপনাদের ঘৃণাভরে স্মরণ করবে : চরমোনাই পীর