বন্ধুর হাতে যেভাবে খুন হয় হাটহাজারী মাদরাসার ছাত্র আকবর

ইসলাম টাইমস ডেস্ক : পুলিশ বলছে তারা হাটহাজারী মাদরাসার নিহত ছাত্র আকবরের খুন হওয়ার রহস্য উন্মোচন করতে পেরেছেন। বন্ধু ও সহপাঠীর হাতে খুন হন তিনি।

নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর গত ২৩ নভেম্বর বি-বাড়িয়ার মালিহাটা এলাকা থেকে হাটহাজারী মাদরাসার ছাত্র আকবরের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত আকবর হাটহাজারী মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল)-এর ছাত্র ছিলেন।

পুলিশ বলছে, সহপাঠীর হাতে খুন হয়েছেন আকবর। তাকে ২১ নভেম্বর মাথায় আঘাত করে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। পাওনা টাকা দাবি করায় বন্ধুর পরিকল্পনায় খুন হন তিনি। ঘাতক সহপাঠী ও বন্ধুর নাম মাহমুদ।

মঙ্গলবার দুপুরে এসব তথ্য জানিয়েছেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলমগীর হোসেন।

নিহত আকবর ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ মাহমুদ ও তার সহযোগীকে আটক করেছে। ইকবাল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার ছাতিয়ান গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। আর তার সহযোগী সিরাজগঞ্জ জেলার চৌহালি উপজেলার খাসকাউলিয়া গ্রামের মো. সোলায়মানের ছেলে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা দুজনই হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে।

পুলিশ জানায়, মাত্র ৩০ হাজার টাকার কারণে গত ২১ নভেম্বর আকবরকে গলাকেটে হত্যার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের বেতবাড়িয়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতে লাশ ফেলে রাখা হয়। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ২৩ নভেম্বর লাশটি উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন জানান, নিহতের প্যান্টের পকেটে পাওয়া একটি ট্রেন টিকেট নিয়েই তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়।

পরে কল লিস্টের সূত্র ধরে ঘটনার মূল হোতা মাহমুদকে রোববার রাতে জেলার সরাইল উপজেলার কালিকচ্ছ এলাকা থেকে আটক করা হয়। তিনি নিহত আকবরের বন্ধু।

তার দেয়া তথ্য মতে এ হতাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তার আরেক বন্ধু ইকবালকে সদর উপজেলার ছাতিয়ান গ্রাম থেকে আটক করা হয়। পরে তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো ছোঁড়া উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মাহমুদ ও আকবর তারা দুইজনই চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসায় পড়তেন। আকবরের কাছে মাহমুদ ৩০ হাজার টাকা পেতেন।

সেই পাওনা টাকা নিয়ে দুইজনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ বিরোধের জেরে কৌশলে আকবরকে চট্টগ্রাম থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিয়ে আসেন মাহমুদ। পরে মাহমুদ তার বন্ধু ইকবালের সহযোগিতায় আকবরকে একটি ধানক্ষেতে নিয়ে প্রথমে মাথায় আঘাত করে এবং পরে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে।

পূর্ববর্তি সংবাদআজ থেকে মাঠে থাকবে বিজিবি
পরবর্তি সংবাদমানহানি মামলায় জামিন পেলেন ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন