চীনে গির্জায় গির্জায় অভিযান: উদ্বিগ্ন খ্রিস্টান সম্প্রদায়

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: চীনে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি গির্জায় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে দেশটির খ্রিস্টান সম্প্রদায়। তাদের আশঙ্কা, সরকার খিস্ট্রান কার্যক্রমের বিষয়ে কঠোর হতে যাচ্ছে। বিবিসি।

চলতি মাসেই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নস্যাতে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগে চীনে একশোরও বেশি খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছে যাজক ও আইন বিশেষজ্ঞ ওয়াং ই এবং তার স্ত্রী জিয়াং রং। সিচুয়ান প্রদেশের চেংডু শহরে ওই দম্পত্তির পরিচালিত একটি গির্জা থেকে তাদের আটক করা হয়।

এরপর শনিবার সকালে গুয়াংজুতে রঙ্গুলি গির্জায় শিশুদের একটি বাইবেল ক্লাসে অভিযান চালায় পুলিশ। এক খ্রিস্টান বিবিসিকে জানায়, আমি ভাগ্যবান যে তারা আমাকে খুঁজে পায়নি।

আনুষ্ঠানিকভাবে ঈশ্বরে বিশ্বাস করে না চীনা রাষ্ট্র। তবে দেশটিতে ধর্ম পালন বৈধ হলেও কেন্দ্রীয় সরকার এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির নীতি ও নজরদারিতে থাকতে হয়। একারণে দেশটির কোনও কোনও ধর্ম বিশ্বাসী স্বাধীনভাবে ধর্ম পালন করতে অনিবন্ধিত উপাসনালয়ে হাজির হন।মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে বিগত বছরগুলোতে দেশটি বেশ কয়েকজন ধর্মীয় নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে কিংবা হুমকি দিয়েছে।

সরকার খ্রিস্টানদের রাষ্ট্রপরিচালতি নির্দিষ্ট তিনটি গির্জায় যোগ দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে।বিগত বছরগুলোতে দেশটিতে খ্রিস্টানদের সংখ্যা বেড়েছে। হিসেব অনুযায়ী দেশটিতে এখন প্রায় ১০ কোটি খ্রিস্টান রয়েছে। তবে তাদের অনেকেই গোপন গির্জায় উপাসনা করে। ওয়াং ই তেমনই এক গির্জার প্রধান।

সিচুয়ান প্রদেশের রাজধানী চেংদুর ওই গির্জার নাম আর্লি রেইন কোভেন্যান্ট চার্চ। তাদের একটি ছোট স্কুলও আছে। প্যাস্টর ওয়াং প্রায়ই সরকারের ধর্মের প্রতি বিরূপ আচরণে সমালোচনা করে থাকেন। ৯ ডিসেম্বর গির্জায় অভিয়ান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরের দুইদিন অভিযান চালিয়ে অন্তত ১০০ জনকেও আটক করে পুলিশ।

নাম প্রাকশে অনিচ্ছুক এক সদস্য বলেন, সেসময় কয়েকজন গৃহবন্দিও ছিলেন। পুলিশ তাদের চাপ দিচ্ছে যেন তারা ওই গির্জায় না যায়। তিনি বলেন, ‘রবিবার অনেকে অন্য জায়গায় উপাসনা করার চেষ্টা করলেও তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।

গির্জাটি থেকে অভিযোগ করা হয় যে, আটককৃতরা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। ওয়াংয়ের গ্রেফতারের ৪৮ ঘণ্টা পর গির্জা থেকে এক বিবৃতিতে আটকের বিষয় নিশ্চিত করা হয়। প্যাস্টর নিজেই গ্রেফতারের আশঙ্কায় আগেই লিখে গিয়েছিলেন চিঠিটি।

চিঠিতে তিনি বলেন, তিনি চীনা কর্তৃপক্ষকে সম্মান করেন এবং তাদের রাজনৈতিক ও আইনি সংগঠনকে পরিবর্তন করতে চান না। কিন্তু তার গির্জার ওপরে আঘাত আনায় তিনি ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন, ‘খ্রিস্টান একটি গির্জার প্যাস্টর হিসেবে আমি এই কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাই। বাইবেল ও ইশ্বরকে যেই আইন অসম্মান করে আমি তার নিন্দা জানাই। আমাকে বলা হয়েছে আমি যেন সেই আইনকে অসম্মান করি।

ওয়াংয়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের সমালোচনা অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে ১৫ বছরের কারাদণ্ড গতে পারে। তিনি ছাড়াও কয়েকজন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ আনা হয়েছে।

গুয়াংজুতে রঙ্গুই গির্জাও তালাবন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার শিশুদের বাইবেল ক্লাসে অভিযান চালানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, গির্জার এই সমাবেশকে অবৈধ ঘোষণা করে বাইবেল ও অন্যান্য বস্তু জব্দ করেছে। উপস্থিত সবার নাম ও ঠিকানাও লিখে নিয়েছে তারা।

গত সেপ্টেম্বরে বেইজিংয়ে জায়ন গির্জাও বন্ধ করে দেয় সরকার। প্যাস্টর জিম মিংরি বলেন, তিনি আতঙ্কিত যে হয়তো এর কোনও সমাধান নেই। এছাড়াও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশকয়েকটি গির্জা বন্ধ করা হয়েছে ও অনেককে আটক করা হয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানায়, আরলি রেইন ও রঙ্গুই গির্জা বন্ধ করার বিষয়টি আদপে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কঠোর হওয়ার লক্ষ্মণ।

পূর্ববর্তি সংবাদঅনৈতিক কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় বন্ধ হচ্ছে ‘ট্রাম্প ফাউন্ডেশন’
পরবর্তি সংবাদকুমিল্লায় ভোট বিপ্লবের আহবান জানালেন ফখরুল