নির্বাচন কমিশন দায়িত্বপালনে ব্যর্থ : সিজিএস সেমিনারে বক্তারা

ইসলাম টাইমস ডেস্ক : সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন নিয়ে কমিশনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশের বিশিষ্ট জনরা। তারা মনে করছেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিতের মাধ্যমে প্রার্থীদের নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিতে কমিশন ‘ব্যর্থ’।

নির্বাচন কমিশনের নির্লিপ্ততা পক্ষপাতমূলক অবস্থানে চলে গেছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।

গতকাল রাজধানীর পুরাতন এলিফ্যান্ট রোডে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে একটি মানসম্মত নির্বাচনের জন্য করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে তারা এসব কথা বলেন।

সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস)-এর উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চ্যালেঞ্জসমূহ তুলে ধরেন এবং নির্বাচন আয়োজনে কমিশনকে আন্তরিক ও সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানান।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন বলেন, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন আয়োজন আমরা টেস্ট কেস হিসেবে নিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম হয়তো সুষ্ঠু একটি নির্বাচন হবে। তবে এ নিয়ে নতুন করে কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন এখন পর্যন্ত যে কার্যক্রম দেখিয়েছে, এখনই বলা যায় এই নির্বাচন কমিশন টোটালি ফেইলর (ব্যর্থ)। এটা নির্বাচন হওয়ার আগেই বলা যায়। তারা নাকি কিছু দেখে না, তারা ব্লাইন্ড। মাঠে-ঘাটে কী হচ্ছে তা তারা কিছুই দেখেন না।

হাফিজ উদ্দিন বলেন, দেশে আইনের শাসন নেই। প্রশাসন, বিচার ব্যবস্থা ও নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। শিশু-কিশোররা আন্দোলনে বলেছিল ‘রাষ্ট্রের মেরামত করা প্রয়োজন’ এই বক্তব্য উল্লেখ করে এম হাফিজ উদ্দিন বলেন, সত্যিই এখন রাষ্ট্রের মেরামত প্রয়োজন।

সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে কমিশন দায়িত্ব পালন করছেন না উল্লেখ করে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এই যে মারামারি, একজন প্রার্থী গুলিবিদ্ধ, এটা বিবেচ্য না তিনি কোন দলের। তবে নির্বাচন কমিশনের যে দায়িত্ব, সেটি তারা প্রয়োগ করেননি, করবেন বলেও মনে হয় না।

নির্বাচন কমিশনের আচরণ পক্ষপাতমূলক উল্লেখ করে সাবেক সচিব এ এইচ মোফাজ্জল করিম বলেন, খুব আশা করেছিলাম রাজনীতিতে সুবাতাস বইবে। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে যে ঘটনা ঘটেছে, এটা সহজে দমন করা যায়। এর দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন কমিশনকে কাজ করে দেখাতে হবে। এ নির্বাচন কমিশনের ওপর মানুষের আস্থা কি করে থাকবে। নির্বাচন কমিশনের নির্লিপ্ততা পক্ষপাতমূলক অবস্থানে চলে গেছে। যাদের উপর দায়িত্ব সেই নির্বাচন কমিশন শুধু বিব্রত বা দুঃখিত বলে পার পেতে পারে না।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক ড. এম ইনামুল হক বলেন, সহিংসতার মাত্রা বাড়ছেই, কমছে না। আমার ভোট নিরাপদে দিয়ে বাড়ি ফিরে আসতে পারবো কিনা আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিদিন অভিযোগের কথা শুনি, কিন্তু বাস্তব উদ্যোগ দেখছি না। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আব্দুল মজিদ বলেন, যদি দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন না হয় তাহলে দেশের জন্য খারাপ এবং দুর্বল সরকার ভবিষ্যতের জন্য খারাপ বয়ে আনে।

অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ী আবদুল হক বলেন, দেশে একটা তামাশার নির্বাচন হচ্ছে। দেশে বিদেশি বিনিয়োগ নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

সিজিএস-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, ফেমা সভাপতি মুনিরা খান, ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমিন মুরশিদ, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেতা অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাহাব এনাম খান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিস-এর নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার মনজুর হাসান।

পূর্ববর্তি সংবাদমিয়ানমার সেনাবাহিনীর ৫ শতাধিক অ্যাকাউন্ট ও ফেসবুক পেজ বন্ধ
পরবর্তি সংবাদযেনতেনভাবে ক্ষমতায় আসার আকাঙ্ক্ষা নেই : প্রধানমন্ত্রী