প্রধানমন্ত্রীর ভালো গুণ, যা করবেন তা আগেই বলে দেন : ফখরুল

ইসলাম টাইমস ডেস্ক : বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তার উদ্দেশে বলেছেন, ‘নির্বাচনে ব্যালট পেপার ছাপানোর কথা বলছেন, সেটি তো আপনাদের কাজ। আপনাদের সেই ক্ষমতা আছে, আপনারাই সেটা করবেন। ব্যালট আপনারাই ছাপাবেন, আর সে কথা আগাম বলে দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। নিজেরা ভোট কারচুপি করতেই আগাম ব্যালট পেপার ছাপানোর কথা বলছেন। এটাই প্রধানমন্ত্রীর ভালো গুণ, তিনি যা করবেন, তা আগে বলে দেন।’

বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে পেশাজীবীদের সঙ্গে বৈঠকের সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলেন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু এ নির্বাচন এরই মধ্যে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। আমরা সব সময় মনে করেছি, এ নির্বাচনের মাধ্যমে জাতি তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে। একটি দিন তারা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বুঝতে পারল, জনগণের ভালোবাসার আস্থা তারা ধরে রাখতে পারবে না। তখনই একটি রায়ের মাধ্যমে সেটি বাতিল করে দিল। অথচ আদালতের রায়ে মতামত ছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিধান রাখা যেতে পারে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী সেটি পাশ কাটিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিল করে দিল। এমনকি দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করা যেতে পারে বলে আদালত যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছিলেন, সেটিও পাশ কাটিয়ে গেছে সরকার।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার তার মতো করে সবকিছু নিজের মতো করে গুছিয়ে নিয়ে খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, যতই ধানের শীষের জোয়ার উঠছে, ততই সরকার নতুন নতুন চক্রান্ত করছে। আমাদের অনেক প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করেছে। এ ক্ষেত্রে সরকার ব্যবহার করছে আদালতকে। আমরা নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর সরকার গায়েবি মামলা দেওয়া শুরু করে। এখন আবার মামলা দিচ্ছে নতুন করে। আমরা যখন সংলাপে গেলাম, তখন প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন, তফসিল ঘোষণার পর আর কাউকে গ্রেফতার করা হবে না। কিন্তু তিনি তাঁর কথা রাখেননি। আমাদের ওপর এত নির্যাতনের পরও বলতে পারেন, আমরা কীভাবে টিকে আছি? আমরা টিকে আছি শুধু মানুষের ভালোবাসায়।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের শেষ নেই। এর মাঝে আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াব, জানি না। নির্বাচন কমিশন ঠুঁটো জগন্নাথ। তাদের কোনো ক্ষমতা নেই। দুই দিন আগেও আমরা গিয়েছি, তারা কোনো কথার উত্তর দেয়নি, শুধু চুপ করে ছিলেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হবে, আমরা কি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে থাকব নাকি একনায়কের দেশে থাকবে। আমরা চেষ্টা করছি জনগণকে জাগিয়ে তুলতে। কারণ এ রাষ্ট্র তাদের, তাদের সব অন্যায়-অবিচার-অত্যাচারের বিরুদ্ধে জেগে উঠতে হবে। নিজেদের অধিকার আদায় করতে হবে। আমার বিশ্বাস, এ লড়াইয়ে আমরা জয়ী হবো। কারণ, মানুষের কথা, তাদের চোখে যে বিশ্বাস দেখেছি তাতে আমাদের বিজয় আসবে।’

পূর্ববর্তি সংবাদনির্বাচনের চমৎকার পরিবেশ আছে : আইজিপি
পরবর্তি সংবাদগোপালগঞ্জে বাস ও থ্রি-হুইলারের সংঘর্ষে নিহত ১১, আহত অন্তত ১৫