১৬ সামাজিক কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচনী ইশতেহার

ইসলাম টাইমস ডেস্ক : আজ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ৩৩ দফার দীর্ঘ এই ইশতেহারে দুর্নীতি রোধ, ভ্যাট কমিয়ে আনা, রিকশা ভ্যানের লাইসেন্স করতে ফি মওকুফ করা, সকল প্রকার শ্রমিকদের বেতন ভাতা বাড়ানো, সরকারি কর্মচারিদের ২৫% বেতন বৃদ্ধি, অর্ধেক মূল্যে চিকিৎসা ও কৃষককে সারের ব্যবস্থা করা, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানোসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি।

আজ শনিবার বিকেল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপ লাউঞ্জে দলের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম এই ইশতেহার ঘোষণা করেন।

ইশতেহারে আগামী ১৫ বছরে কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ১৬টি কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলা হয়েছে। তাহলো, কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনা, শুধু দুর্নীতি-সন্ত্রাস দমন নয়; নির্মূলকরণ কর্মসূচিও গ্রহণ করা, জনমতের যথার্থ প্রতিফলন, সুষ্ঠু নির্বাচন ও কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংসদ নির্বাচন পদ্ধতির আমূল সংস্কার, দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, খুনি ও অনৈতিক পেশার সাথে জড়িতদের রাজনীতিতে নিষিদ্ধ করা, কৃষি ও শিল্পবিপ্লব ঘটিয়ে বেকার ও দারিদ্র্যমুক্ত এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী দেশ গড়ে তোলা ইত্যাদি।

এছাড়াও সব ধরনের কর ও ট্যাক্স ৩০% কমিয়ে আনা, বিদেশি ঋণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা, কৃষিখাতের উন্নয়ন, যাকাতভিত্তিক অর্থনীতির প্রবর্তন, প্রত্যেক উপজেলায় কওমি মাদরাসা গড়ে তোলা, কওমি মাদরাসার আধুনিকায়ন, ইসলাম বিরোধী আইনের ধারাগুলো সংশোধন, হারাম পণ্যের লেনদেন বন্ধ, ইমাম-মুয়াজ্জিন-মাদরাসা প্রধানদের ভাতা প্রদান এবং ইসলামি শরিয়ার মধ্যে থেকে নারীর ক্ষমতায়নের অঙ্গীকার করেছে।

ইশতেশার ঘোষণাকালে সৈয়দ রেজাউল করীম বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদ, জনশক্তি ও শিল্পবান্ধব পরিবেশসহ নানাদিক থেকে বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ হওয়ার পরও শুধু নেতা ও নীতির ব্যর্থতার কারণে বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা দিন দিন ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ প্রয়োজন। জাতির ভাগ্য পরিবর্তনে আমাদেরকেই এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বিগত সরকারগুলোর সমালোচনা করে বলেন, বিগত সরকারগুলোর শাসনামলে দেশে যে বিপর্যয় নেমে এসেছে, তা থেকে দেশ ও জাতিকে মুক্ত করার লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা বাংলাদেশকে উন্নত ও কল্যাণরাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের সেবায় সর্বদা নিয়োজিত থাকবো ইনশাআল্লাহ।

চরমোনাইয়ের পীর আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাতপাখার প্রার্থীদের বিজয়ী করতে আহবান জানিয়ে বলেন, দেশবাসীর প্রতি আহবান ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থীদেরকে হাতপাখা প্রতীকে আপনাদের মূল্যবান ভোট প্রদান করে দুর্নীতি, দুঃশাসন, সন্ত্রাস, মাদকমুক্ত উন্নত ও কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে তুলে মানবতার সার্বিক মুক্তির পথ প্রশস্ত করুন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডা. মোখতার হোসেন, অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, আলহাজ আমীনুল ইসলাম, মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরি, মাওলানা কেফায়েতুল্লাহ কাশফী, ইঞ্জি. শরীফুল ইসলাম, শেখ ফজলুল করীম মারুফ প্রমূখ।

পূর্ববর্তি সংবাদআওয়ামী লীগের আমলে মানুষের জীবনমান বৃদ্ধি পেয়েছে : শেখ হাসিনা
পরবর্তি সংবাদনারায়ণগঞ্জে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের গাড়িবহরে বাধা