আল্লাহর দোহাই!

আবদুল করিম শাহেদ ।। 

আল্লাহর দোহাই! এই রক্তপাত থামান। ঘণ্টায় ঘণ্টায় খবর আসছে হামলার, মারপিট-জখমের, রক্তপাতের। এ যেন এক শেষ না হওয়া রক্তের নহর।

কোথাও কর্মী, কোথাও প্রার্থীর স্ত্রী, কোথাও সন্তান, কোথাও স্বয়ং প্রার্থী আক্রান্ত। সংসদ নির্বাচনের আগে এমন রক্তেভেজা মাঠ আমরা তো আর দেখিনি। কোনোদিন দেখতে হবে বলে ভাবিওনি। হায়! এত রাজনীতি, এত গণতন্ত্র, এত উন্নয়ন, এত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে দেশের মানুষ কোথায় যাবে?

কে হামলা করছে, কার রক্ত ঝরছে– আমরা জানি, অথবা আমরা জানি না। আসলে আমাদের জানার কোনো দরকার নেই, সাহসটুকুও নেই। এই নির্বাচনী রক্তক্ষয় দেখে আমরা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ছি।

নির্বাচনে রিগিং হবে। ভোটকেন্দ্র দখল হবে। জাল ভোট হবে। প্রচার-অপপ্রচার হবে। সব আমরা- সাধারণ ভোটাররা মেনেই নিয়েছি। কিন্তু এই রক্তপাত দেখলে বুক কাঁপে। রক্ত এমন এক চুম্বক যা আরো রক্ত টেনে আনে।

সময় থমকে থাকে, রক্তপাত থামে না। সময় বদলে যায়, রক্তপাতের গতিও বদলে যায়। একটা আপাত শান্ত দেশের জন্য এই মুখোমুখি বুককাঁপা গজবের কথা কল্পনা করা যায় না।

দোহাই, রক্তপাত থামান। দোহাই আপনারা থামুন। নির্বাচনের উৎসবে এত লাল রঙের দরকার নেই। হামলা-রক্তপাত বাদ দিয়ে অন্য কোনো সুবিধাজনক কৌশল খুঁজে নিন। প্রাণনাশ কিংবা সংঘাতের মরণক্ষেত্র তৈরির বদলে ‘লুকোছাপা’ উপায়ে মতলব হাসিলের পথ বের করুন। আমরা নিরীহ ভোটাররা আতংক থেকে অন্তত বাঁচি।

দেশের সব বিবেকী কণ্ঠ কি থেমে গেল আজ? উপদেশ-নসিহত খয়রাতের রঙবেরঙের বেলুন যারা উড়াতে পছন্দ করেন, সেইসব সুবিধাবাদী বেলুন-সুশীলের কুলুপ-আঁটা মুখ থেকে উদ্বেগ ও প্রত্যাশার বাণী শুনতে কান পেতে আছি। চব্বিশ ঘণ্টা কানটাকে সাবসক্রাইব করে রেখেছি। কিন্তু কিছুই শোনা যাচ্ছে না। হাত মুছে, গোঁফে তা দিয়ে গ্যালারিতে উঠে বসে রয়েছে চতুর বুদ্ধির বণিকেরা। রাজনীতির এই ঘোর দুর্দিনে কেউ এগিয়ে আসছে না।

এ বড় অদ্ভুত সময়! চার দিন পর কি সময়টা বদলে যাবে? রক্ত ঝরা শুরু হলে, রক্ত ঝরানো চলতে থাকলে, সবাই চাইলেও হয়তো এ সময়টা আর বদলাবে না। আমরা তো সেটা চাইতে পারি না। স্বদেশবাসীর নিজেদের মধ্যকার রক্তপাত তো চাওয়ার মতো কোনো বিষয় নয়।

দোহাই থামুন! দোহাই থামান!

পূর্ববর্তি সংবাদনির্বাচন কমিশন জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছেন : পীর সাহেব চরমোনাই
পরবর্তি সংবাদবাধার মুখে দাঁড়িয়ে আছেন ইসলামি দলের প্রার্থীরাও