মিথ্যাবাদী নেতাদের পরিণতি হয় ভয়াবহ : আল্লামা সাজিদুর রহমান

মিথ্যাচারে ভরে গেছে দুনিয়া। পৃথিবীর সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি থেকে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত মিথ্যার অবাধ চর্চায় লিপ্ত। মিথ্যার জালে আটকে গেছে সমাজ, সমাজপতি ও গণমাধ্যম। এই সর্বগ্রাসী ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরেছেন দেশের বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন ও বি-বাড়িয়া জামিয়া ইউনুছিয়ার শায়খুল হাদিস আল্লামা সাজিদুর রহমান। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আতাউর রহমান খসরু

ইসলাম টাইমস : মিথ্যাবাদী মানুষের পরিণতি কী?

আল্লামা সাজিদুর রহমান : সহি বুখারির হাদিসে রয়েছে, তোমরা মিথ্যা পরিহার কর। কেননা মিথ্যা অন্যায় ও অপরাধের পথে ধাবিত করে। আর পাপ মানুষকে জাহান্নামের পর্যন্ত নিয়ে যায়। মানুষ মিথ্যা বলতে থাকলে আল্লাহর কাছেও নাম মিথ্যুক লেখা হয়।

মিথ্যা কথা বলতে যে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তার দ্বারা ভালো কাজের আশা করা যায় না। সে কোনো খারাপ কাজই করতে পারে।

ইসলাম টাইমস : আর মিথ্যা যখন সামাজিক রূপ নেয়?

আল্লামা সাজিদুর রহমান : মিথ্যা অন্যায়ের পথ খুলে দেয়। যতো পরিধিতে তার চর্চা হবে, অন্যায়ের প্রসারও সেই পরিমাণ হবে। সুতরাং যে সমাজে মিথ্যা প্রতিষ্ঠা পায় সে সমাজে আস্তে আস্তে অধপতনে যাবে। এটাই তার পরিণতি।

ইসলাম টাইমস : অনেকে নিজে মিথ্যা বলেন না। কিন্তু মিথ্যাবাদী গোষ্ঠির সহযাত্রী হয়। তাদের মিথ্যাকে সমর্থন করে অথবা নীরব থাকে।

আল্লামা সাজিদুর রহমান : মিথ্যাকে সমর্থন করা মানে অন্যায়কে সমর্থন করা। আর অন্যায়কে সমর্থন করা অন্যায়ের শামিল। মিথ্যাকে সে যদি বলে সত্য তাহলে সেও মিথ্যুক। মিথ্যাকে মিথ্যা বলতে হবে এবং অন্যায়কে অন্যায় বলতে হবে।

ইসলাম টাইমস : সাধারণ মানুষের মিথ্যাচার ও সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মিথ্যাচারের মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে?

আল্লামা সাজিদুর রহমান : হ্যা, অবশ্যই আছে। সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা যখন মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়, তখন ক্ষতির কোনো সীমা থাকে না। কারণ, তার মিথ্যার কারণে পুরো সমাজ ও জাতি ভুল পথে পরিচালিত হয়। ক্ষতির মুখোমুখি হয়। বুখারি শরিফে আছে, যে একটা মিথ্যা কথা বলে এবং সারা দুনিয়া তা ছড়িয়ে দেয় –যেমন বড় বড় রাজনৈতিক নেতারা মিথ্যা বলেন- এই ব্যক্তির মুখে একশো একটি পাথর নিক্ষেপ করা হবে যা তার পায়ুপথ দিয়ে বের হবে। আবার পেছন থেকে পাথরগুলো নিক্ষেপ করা হবে যা তার মুখ দিয়ে বের হবে।

আরও পড়ুন : যোগ্যতার বিচারে ওয়াজ করার বাধ্যবাধকতা থাকলে সুরের বাজার গরম হতো না : মাওলানা সাজিদুর রহমান

বড় বড় নেতারা যখন মিথ্যা বলেন, তখন তা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে যায়। আর মানুষ তাকে সত্য বলে বিশ্বাস করতে থাকে। এর দ্বারা পুরো দেশ ও জাতি ক্ষতির শিকার হয়। তাই তার শাস্তিও অনেক কঠোর।

ইসলাম টাইমস : এখন সারা পৃথিবীতে মিডিয়াগুলো স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন বা প্রচার করছে। মিডিয়ার মিথ্যাচারের ব্যাপারে ইসলাম কী বলে?

আল্লামা সাজিদুর রহমান : যে শুধু মিথ্যা বলে তার গুনাহ একটি। আর যে মিথ্যাকে মিথ্যা জেনে প্রচার করবে তার গুনাহ হবে তার প্রচারের সমপরিমাণ। যে যতো হাজার মানুষের কাছে এই মিথ্যা পৌঁছাবে তার পাপের পরিমাণও তেমন হবে। এই মিথ্যা প্রচারের কারণে সমাজের যেসব ক্ষতি হবে তার দায়ও তাকে বহন করতে হবে। যে ব্যক্তি হোক, দল হোক বা প্রতিষ্ঠান হোক।

মিডিয়া স্বেচ্ছায় মিথ্যা প্রচার করলে শুধু অপরাধী হবে বিষয়টি এমন নয়; বরং মিডিয়ার অসতর্কতায় কোনো ভুল সংবাদ প্রচার হলেও তার দায় নিতে হবে তাকে। কারণ, ইসলাম সংবাদগ্রহণ ও প্রচারের পূর্বে তা যাচাই করার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে।

ইসলাম টাইমস : মিথ্যার চলমান স্রোতের মুখে আমাদের করণীয় কী?

আল্লামা সাজিদুর রহমান : মিথ্যার প্রতিবাদ করতে হবে। সাথে সাথে মিথ্যা বলার ক্ষতি এবং সত্য বলার প্র্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা বর্ণনা করতে হবে।

আরও পড়ুন : সমাজ থেকে জুলুম প্রতিকারের চেষ্টা না করলে আল্লাহ তা বাড়িয়ে দেন : মুফতি মাসউদুল করীম

ইসলাম টাইমস : সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

আল্লামা সাজিদুর রহমান : আপনাকে এবং ইসলাম টাইমস পরিবারের সবাইকে মোবারকবাদ।

পূর্ববর্তি সংবাদমেননের শপথগ্রহণ স্থগিত চেয়ে আদালতে রিট দায়ের
পরবর্তি সংবাদবৃহস্পতিবার ইসিতে যাচ্ছেন ধানের শীষের সব প্রার্থী