ইসলাম টাইমস ডেস্ক : রাজধানীর ফার্মগেট থেকে নিখোঁজ হওয়া চারজনের মধ্যে দুজনকে পাওয়া গেছে। তারা হলেন আবু খালেদ মোহাম্মদ জাবেদ ও বোরহান উদ্দিন।
জাবেদকে ফেনী রেলস্টেশন থেকে সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বর্তমানে ফেনী রেলওয়ে পুলিশের ইনচার্জ এসআই মাসুদ রানার হেফাজতে রয়েছেন জাবেদ। সন্ধানের বিষয়টি মাসুদ রানা নিজেই নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বোরহানকেও উদ্ধারের পর সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে দেখলাম চারজন শিক্ষার্থী নিখোঁজ। তাদের মধ্যে জাবেদ নামের একজন রয়েছেন। গতকাল রাত তিনটার দিকে রেললাইনে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করি। এসময় তার হাত পা বাঁধা ছিল।
মাথায় ও পিঠেও আঘাতের চিহ্ন লক্ষ করা যায়। সেন্স ছিল না। উদ্ধারের পর আমরা দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করি। সেন্স ফিরলেও ঠিকভাবে কথা বলতে পারছে না। শুধু নিজের নাম বলতে পারছে। আর ভাইয়ের নাম আবু হাসনাত বলতে পারে। এভাবে বারবার সেন্স আসছে যাচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে ক্র্যাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিখোঁজদের সন্ধান দাবি করেন পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে অভিভাবকরা জানান, গত ২৯ ডিসেম্বর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেট থেকে শপিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে ফার্মগেটে বাস থামিয়ে সাদাপোশাকে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতার হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন- এশিয়ান ইউনিভারসিটির বাংলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের আবু খালেদ মোহাম্মদ জাবেদ, স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের বোরহান উদ্দিন, মানারাত ইউনিভারসিটির শেষ বর্ষের রেজাউল খালেক ও ঢাকা ইউনানী আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজের সাবেক ছাত্র ডা. সৈয়দ মমিনুল হাসান।
নিখোঁজ আবু খালেদ মোহাম্মদ জাভেদের ছোট ভাই আবু হাসনাত বলেন, বিশ্বস্ত সূত্রে জেনেছেন নিখোঁজ চারজনই পুলিশ হেফাজতে আছে। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করে কিছু জানতে পারছেন না তারা।
নির্বাচনের আগের দিন শনিবার বিকাল ৪টা থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সঙ্গে তার আরো তিন বন্ধুর ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। ঘটনার দিন তারা পাঁচজন বন্ধু মিলে শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটে কেনাকাটা করতে যায়। ফেরার পথে ফার্মগেট থেকে তাদের চারজনকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ধরে নিয়ে যায়। আরেক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের তুলে নেয়ার বিষয়টি জানতে পারি। এরপর আমরা ডিবি কার্যালয় থেকে শুরু করে স্থানীয় সব থানায় যোগাযোগ করেছি। কিন্তু তারা এ বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেনি।
এ বিষয়ে থানায় জিডি করতে গেলেও পুলিশ নেয়নি।
















