ইয়াহইয়া ইউসুফ নদভী ।।
হঠাৎ মনে এলো এই প্রশ্ন —পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জালিমটা কে? একে একে অনেক নাম ভেসে এলো। নমরূদ, ফেরাউন, আবুজেহেল, আবুলাহাব আরও অনেক। সব জালিমের রাজা কে তাহলে? কে বেশি শিশুহত্যাকারী? … ফেরাউন! এই ফেরাউনই!! প্রিয় মুসা যার প্রাসাদে বেড়ে উঠেছেন! একটু খুলে বলি—
এই ফেরাউনের অপরাধ ও জুলুমের কথা বলে শেষ করা যাবে না। জুলুমের শেষ চূড়ায় চড়ে বসে ছিলো এই ফেরাউন! এর জুলুমে আকাশ ভারী হয়ে উঠেছিলো! জমিন সঙ্কোচিত হয়ে পড়েছিলো! কী জুলুম করতো ফেরাউন? সীমাহীন! অবর্ণনীয়! দুয়েকটা বলি—
বাচ্চাদের ধরে ধরে মেরে ফেলতো—চিরস্নেহময়ী মায়ের সামনে! মেয়েদের ধরে ধরে দাসী বানাতো! প্রমোদবালা হতে বাধ্য করতো! মিসর জুড়ে একটাই আওয়াজ কানে আসতো তখন— আনা রাব্বুকুমুল আ‘লা—আমিই তোদের বড় খোদা! (আমাকে মান তো মান, নইলে একেবারে ভর্তা বানিয়ে দেবো!)
না, আবার বলছি না! এই ফেরাউনের মতো এমন জালিম—আর একটাও পৃথিবীতে জন্মায় নি! ঘাঁটো পৃথিবীর ইতিহাস! জুলুমের কালো কালো ইতিহাস! চোখে পড়ে? পড়বে না! পড়তে পারে না!
সবচেয়ে বড় জালিম মানে সবচেয়ে বড় বাতিল! এই বাতিলের সাথে লড়তেই আল্লাহ পাঠিয়েছিলেন—হকের ঝান্ডা দিয়ে এক নবীকে। তিনিই আমাদের প্রিয় মূসা! আলাইহিস সালাম!
কিন্তু যে বছর ছোট্ট মুসা চোখ মেলে তাকিয়েছেন পৃথিবীর আলো-বাতাসে, সে বছরটা ভালো ছিলো না। নিষ্ঠুরতা আর নিষ্ঠুরতা! বাচ্চা-হত্যার বছর! বাড়ি বাড়ি তল্লাশি। ঘরে ঘরে কানপাতা। কোনো বাচ্চা-ধ্বনি শোনা গেলেই জালিম ফেরাউনের নষ্ট লোকেরা হামলে পড়তো ওই ঘরে। বাচ্চাটাকে ছিনিয়ে নিতো মায়ের কোল থেকে। তারপর? তারপর শেষ করে দিতো! অশ্রু! রক্ত! চিৎকার! সবই শেষ!
এখন মুসার কী হবে! ফেরাউনের পাণ্ডারা তো ওতঁ পেতে আছে! শোনো, আল্লাহ যাকে বাঁচাবেন, তাকে কে—মারে? এই মহাবাতিলের পরাজয় ঘটবে এই মহাহক-এর পতাকাধারীর হাতেই! শুধু সময়ের অপেক্ষা! কিন্তু আল্লাহর কী লীলা, প্রধান প্রতিপক্ষকে রাজ্যের বোকা বানিয়ে ছোট্ট মুসা চলে এলেন নিজেই তার কাছে! এসে মায়া কাড়লেন! স্নেহ টানলেন! নিজের পরিবারের জন্যে ছোট-খাটো একটা জান্নাত বানিয়ে ফেললেন! ফেরাউনের আয়োজনে গৃহে শুয়ে মায়ের স্নেহপরশে সময় কাটানো! নিয়মিত মাশোহারা! রাজকীয় সুযোগ-সুবিধা! নিয়মিত উপঢৌকন! তারপর একটু বড় হলে মায়ের মুখে দৃশ্যত একটু বিরহ-বেদনার ছায়া ফেলে চলে গেলেন— শত্রুর প্রাসাদে!
মুসা এখন রাজপুত্তুর। কী আদর! কী যত্ন! শুধু এ-কোলে ও-কোলে মজায় মজায় দোল খাওয়া! দাস-দাসীদের ভিড় ঠেলে ফেরাউনের আঙুল ধরে অলিন্দে অলিন্দে ঘুরে বেড়ানো! লেখাটা এখানেই শেষ করে দেবো!
এতোটুকু বলেছি—শুধু এই কথাটা বলার জন্যে— ‘কিন্তু ফেরাউনের কি শেষরক্ষা হয়েছিলো?’
হে পৃথিবীর জালিমেরা, তোমাদেরও শেষরক্ষা হবে না!
















