তোফায়েল সন্তুষ্ট, মেনন জানতেন না, জাসদ অপেক্ষায়

ইসলাম টাইমস ডেস্ক : নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা পাচ্ছেন না আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা ও মন্ত্রীদের অনেকেই। বাদ পড়েছেন শরিক দলের প্রায় সবাই। এ নিয়ে এরই মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া এসেছে কারো কারো পক্ষ থেকে।

নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তোফায়েল আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী উনার পছন্দমত যোগ্য সৎ আদর্শবান ব্যক্তিদের নিয়েই কেবিনেট করেন। আমার মনে হয় তিনি সেজন্যই করেছেন ও ভালোই করেছেন।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, `আমি ৭২ সাল থেকে প্রতিমন্ত্রী, ৯৬এ মন্ত্রী ছিলাম। নির্বাচনকালীন সরকারে শিল্প ও গৃহায়ন এবং পরে আবার বানিজ্যমন্ত্রী ছিলাম। সুতরাং আমরা যারা পুরনো নতুনদের তো জায়গা দিতে হবে। একসময় তো যেতে হবে’।

বিদায়ী মন্ত্রিসভায় বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা এই প্রবীন রাজনীতিক বলেন, ` আমার মনে হয় উনি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নতুন যারা কেবিনেটে জায়গা পেয়েছেন তারা সবাই যোগ্য ও আমি মনে করি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে তারা ভালোভাবেই সরকার পরিচালনা করে দেশকে অগ্রগতির দিকে নিয়ে যাবেন’।

মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ও মহাজোটের শরিক দলের কোনো নেতারই। যদিও জোটগত নির্বাচন করে এবার মিত্র দলগুলো থেকে ৩১ জন সাংসদ হয়েছেন। তবে এখনই হতাশ হচ্ছেন না শরিকেরা। তাদের কেউ কেউ মনে করেন, মন্ত্রিপরিষদে শরিক দলের সাংসদদের অন্তর্ভুক্তির সময় এখনও শেষ হয়ে যায়নি।

দশম সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রিসভায় শরিক দলগুলো থেকে ছয়জন মন্ত্রিত্ব পান। একজন মন্ত্রী মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ছিলেন। আজ নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন। গতকালই তাঁদের নামের তালিকা প্রকাশ পায়। তাতে শরিক দলের কারও নাম নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন গত রাতে প্রথম আলোকে বলেন, `মন্ত্রিসভা নিয়ে ১৪ দলে কোনো আলোচনা হয়নি, তাই এটা কেউ জানত না। তবে সবার আশা ছিল, মন্ত্রিসভায় শরিকদের থাকাটাই স্বাভাবিক। নিশ্চয়ই এর ব্যাখ্যা শরিকদের পরে জানানো হবে।’

আজ সকালে ১৪-দলীয় জোটের শরিক দুই দলের দুজন নেতা ঢাকার একটি গণমাধ্যমকে বলেন, এ নিয়ে এখনই মন্তব্য করার সময় আসেনি। নতুন মন্ত্রিপরিষদে যাঁদের নাম দেখা যাচ্ছে এবং দপ্তরগুলো যেভাবে বণ্টন হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে এক বছরের মধ্যে আবারও মন্ত্রিপরিষদে একটা পরিবর্তন, সংযোজন হতে পারে। ওই দুই নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেটা করলেন সেটা নিশ্চয়ই সুদূরপ্রসারী চিন্তা থেকে করেছেন। তারা বলেন, কী হতে যাচ্ছে সেটা জানতে সময় লাগবে।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও জাতীয় পার্টির (জেপি) সভাপতি আনোয়ার হোসেন মঞ্জু- এই তিনজন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর গঠিত মন্ত্রিসভায় জায়গা পান।

তবে নতুন মন্ত্রিসভার তালিকায় কারও নাম না থাকলেও শরিক দলগুলোর কেউ কেউ আশা করছেন, মন্ত্রিসভা সম্প্রসারিত হবে এবং তারা মন্ত্রিত্ব পাবেন। এ বিষয়ে জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘যে কারণে জোট বেঁধেছি, সেটা শেষ হয়ে যায়নি। ঐক্যবদ্ধভাবেই এগিয়ে যেতে হবে। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন। নিশ্চয়ই ভালো কিছু দেখতে পাব ভবিষ্যতে।’

পূর্ববর্তি সংবাদসুবর্ণচরের গণধর্ষণের শিকার নারীকে দেখতে গেলেন মাওলানা মামুনুল হক
পরবর্তি সংবাদআবারও রাস্তায় উত্তরার পোশাক শ্রমিকরা, সড়ক অবরোধ করে ৫ ঘণ্টা বিক্ষোভ