কাসেম শরীফ ।।
ছয় তলা ভবনের নিচ তলার একটি ফ্ল্যাটে থাকি। নানা কারণে নিচ তলা বেছে নিয়েছি। হিজরতের পর প্রিয় নবী (সা.) আবু আইয়ুব আনসারি (রা.)-এর ঘরের নিচ তলায় উঠেছিলেন। কিছু অসুবিধা থাকলেও নিচ তলা ওঠা-নামায় সহায়ক। হাঁটুতে ব্যথা থাকায় আমার মা সিঁড়ি ভেঙে ওপরে ওঠতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। এসব কারণে নিচ তলায় থাকি।
ইশরাকের সকালে বইয়ের তাকে চোখ বোলাচ্ছি। হঠাৎ দরজায় খট খট শব্দ। দরজা খুলে দেখি একজোড়া তরুণ-তরুণী। দুজনেরই অবাঙালি চেহারা। চেহারায় মেকআপ নেই, তবু ফর্সা-সুন্দর। মেদহীন সমান্তরাল দেহ। পোশাক সাদামাটা। ভাষা ভাঙা ভাঙা বাংলা।
জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা কি কাউকে খোঁজ করছেন?
তরুণ এগিয়ে এসে জবাব দিলেন, আমার নাম …। আমি বারিধারা-নতুন বাজার গির্জা থেকে এসেছি।
: আমি কি আপনাকে কোনোভাবে সাহায্য করতে পারি?
: আমরা বাইবেলের দাওয়াত নিয়ে এসেছি।
: আমি একজন প্র্যাক্টিসিং মুসলিম।
: ও আচ্ছা, আপনার জানামতে এই ছয় তলা ভবনে কি এমন কেউ আছেন, যিনি খ্রিস্টান?
: সবার সঙ্গে আমার পরিচয় নেই। তবে মুসলিম অধ্যুষিত দেশ ও মসজিদসংলগ্ন বাসা হওয়ায় আমার অনুমান হলো এখানে কোনো খ্রিস্টান নেই।
: ও, আজকের মতো আসি। আমাদের সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
আরও পড়ুন : বাংলাদেশে ৫ শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে খ্রিস্টান মিশনারিগুলো
অবশেষে দাওয়াত দিয়ে চলে গেলেন তরুণ-তরুণী। আমি অপলক তাকিয়ে আছি। ভাবছি, বাইরে শীতের তীব্রতা যত বাড়ছে, এই তরুণ-তরুণীদের বুকে বাইবেল ও বিশ্বাসের উত্তাপ ততই বাড়ছে। হিমেল বাতাস ও শীতের শিহরণে শরীর শীতল হয়ে এলো। শীতকাতুরে আমি কম্বলের নিচে ঠাঁই নিলাম। পাশে থাকা মোবাইল খুলে দেখি ফেসবুকে ইসলামের ব্যাপক খেদমত হচ্ছে!
আরও পড়ুন : মিশনারিদের শিক্ষা-ফাঁদ: কোন দিকে যাচ্ছে কোমলমতিরা?
















