মুহাম্মাদ শোয়াইব ।।
টুইটারের ‘মু’তাকিলির রায়’ নামক একটি অ্যাকাউন্ট বলছে, সৌদি আরবের বিখ্যাত দাঈ শায়খ এওয়াজ আল করনীর স্বাস্থ্যের অবনতির কারণে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাকে কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তর করেছে। অ্যাকাউন্টটির বক্তব্য- মানসিক চাপ ও কারাগারে তার স্বাস্থ্যসেবার প্রতি চরম অবহেলা প্রদর্শন করার কারণে তার স্বাস্থ্যের অবনতি দেখা দিলে গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তাকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। জানা যাচ্ছে, আরও কয়েকজন বন্দী সৌদি দাঈকে অসুস্থতার কারণে কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

উল্লখ্যে, ২০১৭ সালে সৌদি রাজপরবিার ও কাতারের বিষয়ে সৌদির কঠোর অবস্থানের সমালোচনা করার অভিযোগে এনে গ্রেফতার করা হয়ছেে বহু ওলামায়ে কেরাম ও দাঈকে। একইসঙ্গে বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী শিক্ষাবিদ, চিন্তাবিদসহ ইসলামী স্কলারদের গ্রেফতার করেছে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী। তারই ধারাবাহিকতায় এওয়াজ আল করনী ও সালমান আল-আওদাসহ কয়েক ডজন দাঈ ও ধর্মীয় নেতার বিরুদ্ধে ব্যাপক গ্রেফতার অভিযান চালানো হয়। ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে তারা গ্রেফতার হন।
সে সময় প্রচার ছিল, বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ অচিরেই যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানের হাতে ক্ষমতা দিয়ে সরে যাবেন। তার সরে যাওয়ার পর অল্প বয়সী নতুন বাদশাহর জন্য যাতে সমালোচনার রাস্তা খোলা না থাকে তাই সমালোচক আলেমদের গ্রেফতারের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল সৌদি সরকার। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন প্রসদ্ধি ইসলামী দাঈ আলেম সালমান আওদাহ ও আলী উমরি। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা সরকারপন্থি আলেমদের সমালোচনা করেন। বিশেষত কাতার ইস্যুতে সৌদি নীতির প্রকাশ্যে বিরোধিতা করেন।
এছাড়াও যারা গ্রেফতার রয়েছেন বলে জানা গেছে, তারা হলেন, সৌদি আরবের বিশিষ্ট সমাজকর্মী ঈসাম জামিল ও শিক্ষাবিদ আব্দুল আজিজ আব্দুল লতিফ। এ তিনজন ছাড়াও এখনও পর্যন্ত যেসব র্শীষ ওলামায়ে কেরামকে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন শায়েখ মুহাম্মদ মূসা আল শারীফ, শায়েখ ইউসুফ আল আহমাদ, শায়েখ ইব্রাহীম আল ফারসি, ড. ইব্রাহীম আল নাসের, শায়েখ মুহাম্মাদ আল হাবদান, শায়েখ গারাম আল বাইশি, শায়েখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ আল খুদাইর, শায়েখ সালমান আল আওদা, শায়েখ নাসর আল উমর, শায়েখ খালিদ আল আজমি, শায়েখ মুহাম্মাদ আল শানার, শায়েখ আলী বাদাহদা, শায়েখ আব্দুল্লাহ আল শুয়াইলিম, বিখ্যাত ক্কারী শায়েখ ইদ্রীস আবকার, শায়েখ আদিল বানা’মা ও ড. মুস্তাফা আল হাসসান প্রমুখ।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে সৌদি সরকারের অভিযোগ, তারা রাজপরিবার ও কাতারে অবরোধ বিষয়ে সৌদি সরকারের কঠোর অবস্থানের সমালোচনা করেছেন। এর বাইরে তাদের অপরাধের ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি সরকাররে পক্ষ থেকে। এর আগেও সৌদি সরকার বা সরকারপন্থী আলেমদের সমালোচনা যারা করেছেন তাদেরও স্থান হয়েছে কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ। কয়েক মাস আগে সৌদি আরবের প্রসিকিউটররা তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ এনে এওয়াজ আল করনী এবং অন্যদের মৃত্যুদন্ড দাবি করেছিল।
সূত্র : আল জাজরিা, আরাবি ২১, আল আরাবি আল জাদিদ, বিবিসি (আরব)
















