পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বাড়লো ছয় গ্রেডে

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: পোশাক শ্রমিকদের চলমান বিক্ষোভে যৌক্তিকহারে মজুরি বেড়েছে ছয় গ্রেডে। আজ সংশোধিত মজুরি কাঠামো ঘোষণা করেছে সরকার। সংশোধিত কাঠামো অনুসারে এক নম্বর গ্রেডে মজুরি হবে ১৮ হাজার ২৫৭ টাকা। আগে এই গ্রেডে মজুরি ছিল ১৭ হাজার ৫১০টাকা। বেড়েছে ৭৪৭ টাকা। দুই নম্বর গ্রেডে মজুরি হবে ১৫ হাজার ৪১৬ টাকা। আগে এই গ্রেডে শ্রমিকদের মজুরি ছিল ১৪ হাজার ৬৩০ টাকা। বেড়েছে ৭৮৬ টাকা।

তিন নম্বর গ্রেডে এখন থেকে মজুরি হবে ৯ হাজার ৮৪৫ টাকা। আগে এই গ্রেডে শ্রমিকদের মজুরি ছিল ৯ হাজার ৫৯০ টাকা। বেড়েছে ২৫৫ টাকা। চার নম্বর গ্রেডে সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী শ্রমিকদের মজুরি হবে ৯ হাজার ৩৪৭ টাকা। আগে এই গ্রেডে শ্রমিকদের মজুরি ধরা হয়েছিল ৯ হাজার ২৪৫ টাকা। বেড়েছে ১০২ টাকা। পাঁচ নম্বর গ্রেডে সংশোধিত বেতন কাঠামো অনুয়ায়ী এখন থেকে শ্রমিকদের মজুরি হবে ৮ হাজার ৮৭৫ টাকা যা আগে ছিল ৮ হাজার ৮৫৫ টাকা। বেড়েছে ২০ টাকা। ৬ষ্ঠ ও ৭ম গ্রেডে মজুরি কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুযায়ী রোববার পোশাক মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে সচিব কমিটির ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সচিবালয়ে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, শ্রম সচিব আফরোজা খান, বাণিজ্য সচিব মফিজুল ইসলাম, পোশাক কারখানা মালিকদের পক্ষে বিজিএমই’ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, সালাম মুর্শেদী এমপি, আতিকুর রহমান, শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, এ কে আজাদ এবং শ্রমিকদের পক্ষে নাজমা আকতার, ফজলুল হক মন্টু, আমিররুল ইসলাম আমিন এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে শ্রম সচিব আফরোজা খানের নেতৃত্বে পোশাক কারখানা মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এ বৈঠক শেষে নতুন মজুরি কাঠামো অনুমোদন করে তাতে শ্রমিক নেতারা স্বাক্ষর করেন বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান।

বৈঠক শেষে পোশাক মালিকদের পক্ষে শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, গত কয়েকদিনে আন্দোলনের নামে যারা পোশাক কারখানা ভাঙচুর করেছে তাদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। সম্পদ রক্ষায় সরকারকে সচেষ্ট হতে হবে। সরকার যেন কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় না দেয়। এসময় পোশাক শ্রমিকদের অনতিবিলম্বে কাজে যোগ দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এরপর বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ‘পোশাক শ্রমিকরা জানুয়ারি মাসের বেতন নতুন মজুরি কাঠামো অনুসারে পাবেন। নতুন মজুরি কাঠামো অনুসারে ডিসেম্বর মাসে যে পরিমাণ টাকা কম পেয়েছেন, তাও জানুয়ারি মাসের বেতনের সঙ্গে দেয়া হবে।’

টিপু মুনশি বলেন, ‘যারা ভাঙচুর করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া উচিত। এই বিষয়ে একটা ফয়সালায় আসা উচিত এবং সিদ্ধান্তে আসা উচিত। এই কয়দিনে যে ক্ষতি হয়েছে, তারা (পোশাক শ্রমিক) সবাই উদ্যোগী হয়ে কাজ করে যেন সেটুকু পুষিয়ে দেন।’

শ্রমিকদের পক্ষে বক্তব্য দেন জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আমিরুল হক আমিন। তিনি বলেন, ‘সোমবার থেকে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেবেন। মজুরি কাঠামো নিয়ে যে অসামঞ্জস্যতা ছিল, প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তা সমাধান হয়েছে। আজকে যে মজুরি ঘোষণা হলো, শুধু মেনে নেয়া নয়, আমরা স্বাগত জানাই। ট্রেড ইউনিয়ন হিসেবে আমরা আন্দোলন করবো। তবে সেই আন্দোলন ধ্বংসাত্মক করা যাবে না। আন্দোলন মানে রাস্তা অবোরধ নয়, কারখানা ভাঙচুর নয়। মালিককে অবরুদ্ধ করা নয়। এই কয়দিনের আন্দোলনের নামে যারা ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবেন, তবে কোনোভাবেই কোনো নিরপরাধ শ্রমিক যেন এর শিকার না হয়।’

উল্লেখ্য, বেতন কাঠামোতে বৈষম্যের অভিযোগ এনে পোশাক শ্রমিকদের এক সপ্তাহ ধরে চলা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি সমাধানে পাঁচটি গ্রেডেই মজুরি সমম্বয়ের জন্য শনিবার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার রাতে এ সমস্যার সমাধানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সচিব এবং পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র নেতাদের গণভবনে ডেকে নেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তাদের সঙ্গে কথা বলে বিরাজমান সমস্যা নিরসনে প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের স্বার্থে ৩, ৪ ও ৫ নম্বর গ্রেডের পাশাপাশি ১ ও ২ নম্বর গ্রেডের মজুরি সমন্বয়ের নির্দেশ দেন।

পূর্ববর্তি সংবাদভুলেভরা তিন হাজারসহ নষ্ট হয়ে গেছে ৩৫ হাজার সরকারি বই
পরবর্তি সংবাদশরিয়তপুরে স্কুলছাত্রী ধর্ষিত