আল্লামা শফীর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুলের বিবৃতি কোন উদ্দেশ্যে?

আতাউর রহমান খসরু ।।

গত ১১ জানুয়ারি ২০১৯ ইং তারিখে জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী’র বার্ষিক মাহফিলে দেওয়া আল্লামা আহমদ শফীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশের সামাজিক মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। দেশের কিছু গণমাধ্যম আল্লামা আহমদ শফীর বক্তব্য (খণ্ডিত অংশ) উদ্ধৃত করে তার তুমুল সমালোচনায় মত্ত হয়।

পরের দিন ১২ জানুয়ারি আল্লামা আহমদ শফী তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠান। গণমাধ্যমগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তা প্রকাশ করে। ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, মাহফিলে দেয়া তার বক্তব্যের একটি খণ্ডাংশ বিভিন্ন মিডিয়ায় ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ইসলাম নারীর শিক্ষাকে উৎসাহিত করে। তিনিও নারী শিক্ষার বিরুদ্ধে নন। নারীদের শিক্ষার পরিবেশ নিরাপদ করার উদ্দেশ্যেই তিনি এ বক্তব্য দিয়েছেন। আল্লামা আহমদ শফীর ব্যাখ্যামূলক বিবৃতির পর সমালোচকদের সুরেও নমনীয়তা দেখা যায়।

কিন্তু আজ (১৩ জানুয়ারি) বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আল্লামা আহমদ শফীর বক্তব্যের সমালোচনা করে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠান। যাতে তিনি বলেন, মেয়েদের স্কুল-কলেজে না পাঠানোর জন্য হেফাজতের আমিরের বক্তব্যে আমি হতবাক ও বিস্মিত হয়েছি। একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে এ ধরনের বক্তব্য বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বিব্রত করবে।

আরও পড়ুন : ব্যাখ্যা দেওয়ার পরও বিবৃতি দিয়ে আল্লামা শফীর বক্তব্যের সমালোচনা করলেন ফখরুল

আল্লামা শফী নারী শিক্ষা নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা অনাকাঙ্ক্ষিত, অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

আল্লামা আহমদ শফী তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেওয়ার পরও মির্জা ফখরুল ইসলামের এই বিবৃতি উলামায়ে কেরামকে ব্যথিত ও বিস্মিত করেছে। তারা মনে করেন, মির্জা ফখরুল বিবৃতিটা না দিলেও পারতেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি হয়তো কোনো বিশেষ মহলকে সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করেছেন।

বিএনপির দীর্ঘদিনের শরিক খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী মির্জা ফখরুলের এমন বক্তব্যে হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘এই বিবৃতি তিনি না দিলেও পারতেন। কারণ, দেশের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও তাকে চুপ থাকতে দেখা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা নেতারা যে বিষয়ে চুপ করে আছেন, সে বিষয়ে উনিও চুপ করে থাকলে ভালো হতো বলে মনে করছি।’

হতাশ হলেও খুব বেশি বিস্মিত নন মাওলানা আহমদ আলী। কারণ, ‘বিএনপির রাজনীতির মূল লক্ষ্য ক্ষমতা। আর ক্ষমতার পথ মসৃণ করতে অনেক সময় তাদেরকে অনেককে খুশি করতে হয়। যদিও সব হিসাব সব সময় ঠিক থাকে না।’

আরও পড়ুন : নারী শিক্ষা বিষয়ক নিজ বক্তব্যের ব্যাখ্যায় যা বললেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী

তবে তিনি এটাও বলেন যে, ‘বক্তব্য রাখার সময়ও আমাদের চিন্তা-ভাবনা করে কথা বলতে হবে। আমাদেরও উনাকে নিয়ে, উনার বয়স নিয়ে চিন্তা করতে হবে। অনেক সময় একটি উচিৎ কথাও চিন্তা করে বলতে হয়। কারণ, এসব কথা হজম করার মতো পরিবেশ আমরা তৈরি করতে পারিনি।

হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিবৃতিকে অনাকাঙ্ক্ষিত আখ্যা দিয়ে বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল হিসেবে হুজুর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করার পর সমালোচনা করে বিবৃতি দেওয়া উচিৎ হয়নি। আমরা তার কাছ থেকে এমন কাজ প্রত্যাশা করি না।’

তিনি মনে করেন, এই বিবৃতির মাধ্যমে বিএনপি তার বিদেশি বন্ধুদের খুশি করার চেষ্টা করেছে।

তবে মির্জা ফখরুলের এ বিবৃতিতে দেশের উলামায়ে কেরাম ও সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষ তার বিবৃতিতে ব্যথিত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন এই হেফাজত নেতা।

পূর্ববর্তি সংবাদড. মাওলানা আ ফ ম খালিদ হোসেনের পিতা গুরুতর অসুস্থ, দোয়া কামনা
পরবর্তি সংবাদদুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চলবে: প্রধানমন্ত্রী