ডাকসু নির্বাচনের তোড়জোড়: আগে সহাবস্থান নিশ্চিত করার দাবি সাবেক নেতাদের

ইসলাম টাইমস ডেস্ক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপর সামনে এসেছে এ আলোচনা । আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন করার তারিখ নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় না। মাঝে বেশ কয়েক বার ডাকসু নির্বাচনের আলোচনা উঠলেও পরিবেশ না থাকার অজুহাতে সেসব আলোচনায় কোনো ফলাফল আসেনি। ঢাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকারের বিষয়ে কথা বলার জন্য ছাত্রদের কোনো প্রতিনিধি নেই।

এখন ঢাবিতে সরকারি দলের একচ্ছত্র আধিপত্যের সময়টিতেই পর্যায়ক্রমে ডাকসু নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন ও ছাত্র সংগঠনগুলো। এ বিষয়ে ডাকসুর কয়েকজন সাবেক নেতা মনে করেন, ডাকসু নির্বাচনের আগে ছাত্র সংগঠনগুলোর সহাবস্থান নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

ইতোমধ্যে ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ ও আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের গঠিত কমিটি গত ১০ জানুয়ারি ‘ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলো’র সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে। ওই সভায় ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে পদাধিকার বলে ডাকসুর সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ক্ষমতার ভারসাম্য, ডাকসুতে নতুন সম্পাদক পদ সৃষ্টি এবং নারী নেতৃত্বের বিষয়ে প্রস্তাব করা হয়। এছাড়াও ছাত্রদল এবং বাম সংগঠনগুলো দ্রুত তফসিল ঘোষণা এবং তার আগে সহাবস্থান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে ডাকসুর সাবেক ভিপি মাহফুজা খানম সাংবাদিকদের বলেন, তখনকার পরিবেশ আর বর্তমান পরিবেশের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। ছাত্ররা তো অনেকদিন ধরে ডাকসু নির্বাচনের পরিবেশের মধ্যেই নেই। ফলে তাদের মানসিকতা, তাদের আচরণ-আচরণ এবং চিন্তার পার্থক্য রয়েছে। আমরা লক্ষ করেছি, যে সরকার ক্ষমতায় থাকে, সেই সরকারের ছাত্র সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল বা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ন্ত্রণ করছে।

তিনি বলেন,‘যারা আজকে রাষ্ট্রক্ষমতায় আছে তাদের ছাত্রসংগঠন যেমন প্রত্যেকটি হলে আছে, তেমনি অন্য সংগঠনগুলো যেন হলে সহাবস্থান পায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনে সব ছাত্র সংগঠন যেন সমানভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে সে সুযোগ থাকতে হবে। আবার যারা ভোটার তারাও যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে। এভাবে নির্বাচন দেওয়া খুব যে কঠিন তা বলবো না। সরকারের এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তপক্ষের যদি সদিচ্ছা থাকে, তাহলে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেওয়া সম্ভব বলে আমি মনে করি।’

স্বাধীন বাংলাদেশের ডাকসুর প্রথম সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাহবুব জামান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এখন অনেকে বলছে ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নেই; কিন্তু আমার ধারণা ডাকসু নির্বাচন দিলে ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়ে যাবে। হয়তো প্রাথমিকভাবে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটা ছাত্রসংগঠনের একক আধিপত্য থাকবে বলে আমি মনে করি না। যদি ছাত্ররাই প্রথম থেকে নির্বাচনটাকে তাদের অধিকার হিসেবে নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এতে অংশগ্রহণ করে, তাহলে দেখা যাবে সবগুলো দল ক্যাম্পাসে চলে আসবে। তারপরেও নির্বাচনের পরিবেশ একটু এদিক-সেদিক হতে পারে। কিন্তু সেজন্য নির্বাচন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রাখা কোনওক্রমেই উচিত নয়। নির্বাচন দেওয়াটা খুবই প্রয়োজন। এটি ছাত্রদের মেধার বিকাশের জন্যই প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সময় ডাকসু নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণ ছিলো। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো এবং বিভাগগুলোতে নির্বাচন অবশ্যই হওয়া উচিত। ডাকসু নির্বাচন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা বাড়বে। আমাদের সময় প্রথমে হলগুলোর নির্বাচন হতো। তারপর প্রতিটি বিভাগে নির্বাচন হতো।

ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ আলী বলেন,‘এরশাদের সময় পর্যন্ত ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ছিলো। এরপরে ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে ছাত্রদল ক্যাম্পাসে একক আধিপত্য বিস্তার করে। বর্তমানে যে পরিস্থিতি আছে, সে পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে পদক্ষেপ নিতে হবে। ডাকসুর জন্য সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

পূর্ববর্তি সংবাদভোটের দিন হতাহতদের খোঁজ নিতে আজ সিলেট যাচ্ছেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা
পরবর্তি সংবাদশরীয়তপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২ যুবক নিহত, পুলিশ দাবি করেছে নিহতরা ডাকাত